সংবাদ শিরোনাম

২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং

00:00:00 শনিবার, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ৯ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী
বহির্বিশ্ব ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে বুকে জড়ালেন মুসলমান পিতা

ছেলের খুনিকে ক্ষমা করে বুকে জড়ালেন মুসলমান পিতা

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১১, ২০১৭ , ১১:৩৭ অপরাহ্ণ | বিভাগ: বহির্বিশ্ব

তিনি আবদুল-মুনিম সোম্বাত জিতমুদ, ইসলাম ধর্ম থেকেই ক্ষমাশীলতার শিক্ষা পেয়েছেন, ক্ষমা করে দিয়েছেন তার ছেলের খুনিকে

নিরাপদ নিউজ : আমেরিকার কেন্টাকিতে এক আদালতে বসে আছেন আবদুল-মুনিম সোম্বাত জিতমুদ। এই তো গত মঙ্গলবারের ঘটনা।

সেখানে তার ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিচার চলছে। আড়াই বছর আগে পিৎজা হাটের এক অর্ডার সরবরাহ করতে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন তার ছেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিচারক সেই হত্যাকাণ্ডের রায় দেবেন। তার ছেলে সালাহউদ্দিনের খুনের বিচার পাবেন তিনি। দোষি সাব্যস্ত হয়েছেন খুনি অ্যালেক্সান্ডার রেলফোর্ড।

কিন্তু বিচারক তার রায় প্রকাশেই আগেই গোটা আদালত কক্ষকে স্তম্ভিত করে দিলেন শোকে পাথর পিতা। যে রেলফোর্ড তার নিরাপরাধ ছেলেকে মেরে ফেলেছে, তার প্রতি ক্ষমাশীলতার এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন জিতমুদ। ভরা আদালতে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিলেন যে, তিনি তার ছেলের হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দিতে চান। শুধু তাই না, তিনি খুনিকে বুকেও জড়িয়ে নিলেন।

পরে ৬৬ বছর বয়সী পিতা জানালেন, ইসলামের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাগুলোর মধ্যে একটা ক্ষমাশীলতা। তিনি সেই শিক্ষারই প্রয়োগ ঘটালেন।

ছেলেহারা পিতার এই ঘোষণা কক্ষে উপস্থিত সবাইকে নাড়া দিলো। স্তম্ভিত সবাই। অবশেষে ছল ছল চোখে ফায়েতি কাউন্টির সার্কিট জজ কিম্বার্লি বুনেল চলতি শুনানীতে বিরতি টানলেন।

বিরতির পর আবারো শুরু হলো আদালত। রেলফোর্ড এই খুনের জন্য ক্ষমা চাইলেন জিতমুদের কাছে। পিতা দুহাতে জড়িয়ে ধরলেন অভিযুক্তকে। সেই সময় ২৪ বছর বয়সী ওই খুনি টিস্যু দিয়ে তার চোখের পানি মুছতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। তবে শাস্তি তাকে তো পেতেই হবে। সুস্থ মস্তিষ্কে পরিকল্পিত খুনে অংশ নিয়েছেন রেলফোর্ড। তাকে ৩১ বছরের জেল দিয়েছেন আদালত।

সেখানে জিতমুদ এবং রেলফোর্ডের পরিবার উপস্থিত ছিলেন। অভিযুক্তের পরিবার ছুটে এলো জিতমুদের পরিবারের দিকে। সবাই সবাইকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। আদালতে উপস্থিত অন্যরা অভিভূত এই দৃশ্যে। এই বিচারকার্যটা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।

রেলফোর্ডকে পিতা বললেন, আর ভয় পেয়ো না। সব এখানেই শেষ। তোমার জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের শুরু হলো। নতুন এক শুরু। তোমাকে ন্যায়নীতির পথে চলতে হবে। যখন তুমি ৩১ বছর পর জেল থেকে বের হয়ে আসবে, তখন তুমি সত্যিকার মানুষ হিসেবে জীবন শুরু করবে।

পরে জিতমুদ বলেন, রেলফোর্ড এই ঘটনায় সত্যিই হচকিত হয়ে পড়ে। তার পরিবার এমন কিছুর জন্যে প্রস্তুত ছিল না।

আদালতে জিতমুদের ছেলেকে নিজে খুন করেননি বলে দাবি করেন। কিন্তু তাতে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেছেন। এতে তার অপরাধ কমে না বলেই মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

২০১৫ সালের এপ্রিলের ঘটনা। কেন্টাকির লেক্সিনটনের এক অ্যাপার্টমেন্টে অর্ডার করা পিৎজা ডেলিভারি করতে যান ২২ বছর বয়সী সালাহউদ্দিন। সেখানেই তাকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়। তার কাছে থাকা অর্থও ছিনিয়ে নেয় রেলফোর্ড এবং আরো দুজন।

সালাহউদ্দিন মুসলমান ছিলেন বলেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে ক্ষোভ জন্মেছে লেক্সিংটনের বিশাল মুসলিম সমাজে। তবে পুলিশ এটাকে মুসলমান বিদ্বেষী হত্যাকাণ্ড বলে শিকার করেনি। তারা বলছে, তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ বা তথ্য মেলেনি।

সেই ক্ষমাশীল পিতা আবদুল-মুনিম থাইল্যান্ডে থাকেন। আমেরিকার বেশ কয়েকটি ইসলামিক স্কুলে শিক্ষাপ্রদান করেন। লেক্সিংটন ইউনিভার্সাল একাডেমি এবং আল-সালাম ডে স্কুল রয়েছে এ তালিকায়। মিসৌরি স্কুল থেকে কিছু দিন আগে অবসর নিয়েছেন।

ওই দিন অনেকেই কেঁদেছেন মুসলমান পিতার ক্ষমতাশীলতার এই নজিরে। সবশেষে রেলফোর্ড কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, এই ক্ষমার জন্যে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

Share this...
Print this pageShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInEmail this to someone

comments

Bangla Converter | Career | About Us