আপডেট ১৮ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৮ বৈশাখ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৫ শাবান, ১৪৪০

সম্পাদকীয় জঙ্গিবাদের বিষবাষ্প: প্রতিরোধ করতে হবে সামাজিকভাবেই

জঙ্গিবাদের বিষবাষ্প: প্রতিরোধ করতে হবে সামাজিকভাবেই

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

নিরাপদনিউজ :  কারো না কারো সন্তানরূপে যে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হয় একমাত্র কান্না ছাড়া পৃথিবী সম্পর্কে আর কোনো জ্ঞানই তার থাকে না। এরপর সে যেমন দেখে দেখে শেখে, তেমনি তাকে শেখাতে হয়। সেই শিক্ষার ওপরই শিশুটির ‘মানুষের মতো মানুষ হওয়া’ নির্ভর করে। আর এই শিক্ষার সবচেয়ে বড় পাঠশালা পরিবার। তারপর রয়েছে সমাজ, পারিপার্শ্বিকতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও এভাবে পুরো বিশ্বজগৎ। কিন্তু পারিবারিক পাঠশালার কোনো বিকল্প নেই।

এখানেই তাকে শেখাতে হবে সে কী করবে, কী করবে না, অন্যের সঙ্গে সে কেমন আচার বা ব্যবহার করবে, নিজের পাশাপাশি অন্যের প্রতি মমত্ববোধ, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এমনি আরো অনেক কিছু। পারিবারিক পাঠশালা কাজ না করলে শিশুর জীবনের ভিত্তিটাই নড়বড়ে হয়ে যায়। এ কাজগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও করার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, গাইড বই, নোট বই ও কোচিংনির্ভর আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুদের মানসিক বিকাশের কোনো স্থান নেই। আছে কেবল প্রশ্ন-উত্তর মুখস্থ করানো এবং পরীক্ষা পাসের ব্যবস্থা করা। ফলাফল যা হওয়ার তাই হচ্ছে।

সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে নীতি-নৈতিকতা, মানবতা, মমত্ববোধ, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ, ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও নান্দনিক গুণাবলিÑসব কিছুই ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।

সমাজ ও রাষ্ট্র আর্থিক দিক থেকে এগোলেও সভ্যতার মাপকাঠিতে ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে। হিংসা-বিদ্বেষ, নিষ্ঠুরতা, নির্দয়তা, লোভ-লালসা, আত্মকেন্দ্রিকতা ইত্যাদি নেতিবাচকতার শুধু বৃদ্ধি নয়, উল্লম্ফন ঘটছে। আর তাতে সমাজ তথা সমগ্র মানবজীবনই হুমকির মধ্যে পড়ছে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটছে। বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে হোক আর বোমা বিস্ফোরণ বা গুলি চালিয়ে হোক, নির্দ্বিধায় নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। আরো অনেকের মতো প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠেও উঠে এসেছে এমনই ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র।

মঙ্গলবারও তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে এ কথাগুলো বলেছেন। তিনি পরিবার, বিশেষ করে মা-বাবাকে শিশুদের কাছে রেখে, আদর-ভালোবাসা দিয়ে তাদের মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমাদের বিশ্বাস, তাঁর এই আহ্বানের মর্মার্থ সবাই উপলব্ধি করবেন।

তা না হলে নিজেকেই চরম পরিণাম ভোগ করতে হবে। নিজের প্রিয় সন্তানটি যদি বিপথে গিয়ে বেঘোরে প্রাণ হারায় কিংবা অন্যের প্রাণ হরণের কারণ হয়, তার চেয়ে বড় দুঃখ কোনো মা-বাবার কাছে আর কিছুই হতে পারে না।

আমাদের মনে রাখতে হবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ দমনে কিছু ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু মূলোৎপাটন করতে পারে না। সেই মূলোৎপাটনের দায়িত্ব সমাজকেই নিতে হবে। পরিবার, শিক্ষক, আলেম, রাজনীতিবিদ সবাইকে যাঁর যাঁর অবস্থান থেকে তৎপর হতে হবে।

আজ যা ঘটছে, তা সেই অপরাজনীতিরই ভিন্ন রূপ মাত্র। ধর্ম আমাদের উন্নত মানুষ হওয়ার কথা বলে। সেই ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে যারা সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ ছড়ায় তাদের ধর্মীয়ভাবেই প্রতিরোধ করতে হবে।

আসুন, সবাই মিলে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র ও এর সমাজকে দলমত, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার বসবাসের উপযোগী একটি সুন্দর আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তুলি। আর তা না হলে তা হবে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারার নামান্তর।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)