সংবাদ শিরোনাম

২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , হেমন্তকাল, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৩৯ হিজরী
সম্পাদকীয় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ১৫, ২০১৭ , ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ :  বিজ্ঞানীদের হিসাব-নিকাশ মেনেই বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমে বেড়ে চলেছে। উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ক্রমেই গ্রাস করে নিচ্ছে সাগরের নোনা পানি। বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তনের এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়। দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দিনে দুইবার স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। নিম্নচাপ বা সাগর উত্তাল থাকার মতো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তো কথাই নেই।

গাছপালা, ফসল ও মাছ চাষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ স্তর দিয়ে নোনা পানি দেশের মধ্যাঞ্চলে বিস্তৃত হচ্ছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বন্যা ও খরার মতো প্রকৃতির নানা বৈরী আচরণ। এ বছর দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও সংখ্যা দুটিই বেড়ে যাবে। ফলে অনেক দরিদ্র ও অনুন্নত দেশে মানুষের জীবনধারণ মহাসংকটে পড়বে।

জার্মানির একটি গবেষণা সংস্থা জার্মানওয়াচ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে। গত ৯ নভেম্বর প্রকাশিত সেই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ স্থানে। এর আগেও বেশ কিছু গবেষণায় বাংলাদেশ যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি তা উঠে এসেছে। কিন্তু সেই ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ কি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে?

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। উন্নত দেশগুলোতে শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কার্বন ডাই-অক্সাইড বা গ্রিনহাউস গ্যাসের ব্যাপক নির্গমন ঘটছে। এসব গ্যাস তাপ ধরে রেখে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। উষ্ণতা যত বাড়ছে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে জলবায়ুর অস্বাভাবিক আচরণ। ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলোর মানুষ। উষ্ণায়নপ্রক্রিয়া কিছুটা স্তিমিত করতে বিশ্বনেতারা এক হয়েছিলেন প্যারিস সম্মেলনে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এ অবস্থায় জাতিসংঘের উদ্যোগে জার্মানির বনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২৩তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। ক্ষয়ক্ষতির সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা স্বল্পোন্নত দেশগুলো বরাবরের মতো এবারের সম্মেলনেও জাতিসংঘের অভিযোজন তহবিল থেকে আরো বেশি সহায়তা চাইবে। ধরে নেওয়া যায়, ফলাফলও আগের মতোই হবে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার তিন কোটি মানুষের একটি বড় অংশই পরিবেশ-উদ্বাস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের রক্ষা করার বিষয়টি বাংলাদেশকেই ভাবতে হবে। প্রতিবছর বন্যায় ফসল ও জানমালের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তার প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।

তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় খুঁজতে হবে। উত্তরাঞ্চলে যে মরুকরণ প্রক্রিয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তা মোকাবেলায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সে জন্য যথাযথ গবেষণা ও পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে। আমরা আশা করি, মহাবিপর্যয় ঘটার আগেই সরকার কাক্সিক্ষত পথে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us