ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৭ কার্তিক, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১২ সফর, ১৪৪০

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস, নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন (ভিডিও)

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন (ভিডিও)

নিরাপদনিউজ : সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০১৮ এবং জাহানারা কাঞ্চনের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে আজ প্রেসব্রিফিং এর মাধ্যমে অক্টোবরের এক মাস ব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষনা করেন নিসচার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ২ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত নিজ উদ্যোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক এবং রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পথ নিরাপত্তা বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। ৮ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত টাঙ্গাইল বগুড়া জয়পুরহাট নরসিংদি ও কুমিল্লা প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট এ প্রশিক্ষণরত শিক্ষকদের মাঝে নিরাপদ বিষয়ক কর্মশালা করা হবে। ১৩ই অক্টোবর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েত। ১৪ই অক্টোবর প্রেসক্লাবের সামনে প্রশিক্ষিত লাইসেন্সধারী চালক দের মাঝে সনদ বিতরণ, ২০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন, ২১ অক্টোবর র‌্যালি, ২৪ থেকে ৩১ অক্টোবর দেশব্যাপী বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ও বাস টার্মিনাল ছাত্রীদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ২৫ বছর পূর্বে এ দেশের জনসংখ্যা ১১ কোটি থাকলেও দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি ছি‌লো। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৭ কো‌টি হলেও গাড়ির সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়েছে তারপরেও দুর্ঘটনার সংখ্যা কমেছে। কিন্তু ২০১৭ সালের চেয়ে ২০১৮ সালে এ দুর্ঘটনার নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। এসব দুর্ঘটনা কমানোর জন্যই মাসব্যাপী আমাদের এই কর্মসূচি করা হচ্ছে।

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক চাই এর আন্দোলনের কারণে রাজধানীতে কিছু একটা পরিবর্তন হয়েছে। তবে তা পুরোপুরি পরিবর্তন করার জন্য কিছু সময় দরকার কারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভ্যাস পরিবর্তন হতে একটু সময় লাগবে। এসময় তিনি জন সাধারণদেরকে সচেতন করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীদের কেউ কাজে লাগানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, নিসচা’র কেন্দ্রিয় মহাসচিব ও প্রধান প্রশিক্ষক সৈয়দ এহসান উল হক কামাল, নিসচা’র কেন্দ্রিয় যুগ্ম মহাসচিব ও জাতীয় নিরাপদ সড়ক চাই দিবস পালন কমিটির আহবায়ক লিটন এরশাদ, সংবাদ সম্মেলন পাঠ করেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) –এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। কোরআন তেলোআত করেন নাসিম রুমি। পবিত্র তর্জমা করেন কার্যনির্বাহী সদস্য ফিরোজ আলম মিলন , পরিচালনা করেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ, শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জহিরুল ইসলাম মিশু। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিসচার কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব বেলায়েত হোসেন, প্রচার সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমান, সহ-প্রচার সম্পাদক সাফায়েত সাকিব, কার্যনির্বাহী সদস্য নাহিদ মিয়া প্রমুখ।

সুপ্রিয় সাংবাদিক সমাবেশ

আসসালামু আলাইকুম। আপনারা জানেন ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসটি সরকারীভাবে পালনের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)ও মাসব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি পালন করবে। নিসচা মাসব্যাপী যে সকল কর্মসূচী গ্রহণ করেছে তা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে অবহিত করার লক্ষ্যে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

আপনারা নিশ্চয়ই জানেন নিরাপদ সড়ক চাই প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ২২ অক্টোবরকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে এবং এই দিনটিকে জাতীয় স্বীকৃতি দিয়ে সরকারীভাবে পালনের দাবী করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৫ জুন সরকার ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এবছর দ্বিতীয় বারের মত দেশব্যাপী সরকারীভাবে ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে পালিত হবে। সাম্প্রতিককালে সড়ক দুর্ঘটনারোধে দেশব্যাপী গণজাগরণ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সবার বিবেককে নাড়িয়ে দেয়। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষনিকভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আশাবাদী আমরা এখানেই সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে। যার প্রেক্ষিতে এবারের ২২ অক্টোবর ভিন্ন মাত্রায় ও ভিন্ন আয়োজনে আমাদের সামনে এসেছে। আমরা সকল বিষয় বিবেচনা করে দিবসটি পালনে উদ্যোগী হয়েছি। সরকারের পাশাপাশি  আমরাও দেশব্যাপী ১২০টি শাখা সংগঠনের মাধ্যমে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করতে যাচ্ছি। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরবসহ বিদেশে আমাদের শাখা সংগঠনসমুহ একই কর্মসূচী পালন করবে।

কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে

  • ০২-০৭ অক্টোবর পর্যন্ত নিসচার উদ্যোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে  সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন এবং রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পথচারী ও চালকদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
  • ০৮-১১ অক্টোবর পর্যন্ত টাঙ্গাইল, বগুড়া, জয়পুরহাট, নরসিংদী ও কুমিল্লার প্রাইমারি টিসার্চ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই) এ প্রশিক্ষণরত শিক্ষকদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা পরিচালনা করা হবে।
  • ১২ অক্টোবর নিসচা প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য ফেসবুক ও ইউটিউবের মাধ্যমে ‘লাইভ’ প্রচার।
  • ১৩ অক্টোবর নিসচার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েত ও
  • ১৪ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিসচা কর্তৃক বিনা ফিতে প্রশিক্ষিত লাইসেন্সধারী চালকদের মাঝে সনদ বিতরণ ও পরবর্তী চালক প্রশিক্ষণ কর্মসুচি ঘোষণা।
  • ১৫ অক্টোবর মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নিসচা শাখা সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন যানবাহনের বিদ্যমান চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
  • ১৬-১৯ অক্টোবর রাজধানীর ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল-গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়ায় চালক ও যাত্রীদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হবে।
  • ২০ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন।
  • ২১ অক্টোবর র‍্যালী
  • ২২ অক্টোবর সরকারীভাবে গৃহীত সকল কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ।
  • ২৩ অক্টোবর সকাল ১১.০০টায় মরহুমা জাহানারা কাঞ্চনের কবর জিয়ারত ও বিকেলে কেন্দ্রীয়সহ সকল শাখা সংগঠনের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন।
  • ২৪-৩১ অক্টোবর সারা দেশব্যাপী নিসচা শাখা সংগঠন (১২০টি) এর উদ্যোগে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্কুল-কলেজের (নূন্যতম ৫০০) শিক্ষার্থীদের মাঝে ও জেলা/উপজেলা পর্যায়ের বাস টার্মিনালে চালক ও যাত্রীদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা।
  • পাশাপাশি ৩১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিশেষ জমায়েত ও নিসচা প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের মাসব্যাপী পালিত কর্মসুচির উপর বিশেষ বক্তব্য প্রদাণ ও কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই বোনেরা

আপনারা জানেন, আজ থেকে ২৫ বছর আগে কেন এবং কি প্রেক্ষাপটে আমি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন শুরু করেছিলাম তা আপনাদের অজানা নয়। আমার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর আমি যখন চলচ্চিত্র জগৎ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম তখন আমার কিছু শুভাকাংখীর পরামর্শে স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার জন্য নয় বরং এদেশের জনগণকে সড়কের মড়ক থেকে রক্ষার জন্য এই আন্দোলন গড়ে তুলি। দীর্ঘ ২৫ বছরের পথ চলার শুরুতে এদেশের নামিদামি গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ অনেকেই আমার সাথে ছিলেন যাদের অনেকে এখনো আন্দোলনের সাথে আছেন, আবার অনেকেই মারা গেছেন। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় এদেশের কোটি কোটি জনগণ আমাকে সমর্থন দিয়েছে, ভালবাসা দিয়েছে বিশেষ করে আপনারা মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ আমার কর্মকান্ডকে অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে গেছেন যার ফলাফল ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস এর স্বীকৃতি অর্জন।

সেইসাথে শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের ২ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাজপথে নেমে আসা, দেশব্যাপী নিরাপদ সড়কের দাবীতে জনতার স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ, সমাজের সর্বস্তরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ঢেউ আমাদের ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন শ্রমকে যৌক্তিক অবস্থানে উন্নীত করেছে বলে আমি মনে করি।

প্রিয় সাংবাদিক সমাবেশ

নিরাপদ সড়ক চাই ১৭ কোটি মানুষের প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে আমাদের শ্রমের বিনিময়ে। আমাদের গঠনমূলক ও কার্যকর কর্মসূচি- জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে দেশের সর্বত্র সভা, সমাবেশ ও র‍্যালী, বিদ্যমান চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা, দেশের সকল বাস টার্মিনালসমূহে চালক ও যাত্রীদের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষিত করে তোলা, অভিভাবকদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা, তৃণমূল পর্যায় থেকে আগামী প্রজন্মকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের (পিটিআই-এর মাধ্যমে) প্রশিক্ষণ প্রদান সর্বোপরি আপনারা (সংবাদ মাধ্যম) নিরাপদ সড়কের দাবীকে গুরুত্ব প্রদান করে তুলে ধরায় আজ টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় সমস্বরে আওয়াজ উঠেছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। আমরা দাবী করতে পারি এটি আমাদের ২৫ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের অর্জন।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

২৫ বছর পূর্বে এদেশের জনসংখ্যা ছিল ১১ কোটি, গাড়ী ও সড়কের সংখ্যা ছিল অনেক কম কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের পরিমাণ ছিল অনেক বেশী। তখন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা প্রতিবছর গড়ে ১০,০০০/১২,০০০ এর উপর ছিল। আহতের সংখ্যা ছিল গড়ে ২৫,০০০/৩০,০০০। আজ দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি, রেজিস্ট্রেশনকৃত গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। তবে আনরেজিস্টার্ড গাড়ী তথা নসিমন, করিমন, ইজিবাইক, ভটভটি, মোটরসাইকেল মিলিয়ে এসংখ্যা হবে প্রায় ৬০ লাখ। সড়কের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে সে তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত ও আহতের সংখ্যা অনেকাংশে কমে এসেছিলো। ২০১৬ সালে আমাদের পরিসংখ্যানে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমান ছিল ২৩৪৭টি ও নিহতের সংখ্যা ছিল ৫০০৩ জন। আমাদের আন্দোলনের ফলে সকলের মাঝে সচেতনতা সৃস্টি হচ্ছে বিধায় এ সুফল পাওয়া গিয়েছিলো। তবে কাংখিত সচেতনতা এখনও তৈরী হয়নি বলে আমরা মনে করি।তাই দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় গত বছর ২০১৭ সালে এসে সড়ক দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন দুর্ঘটনার পরিমাণ বেড়ে হয় ৩৩৪৯। এতে আহত হয় ৭৯০৮ জন এবং নিহত হয় ৫৬৪৫ জন।

এক নজরে গত ৩ বছরের সড়ক দুর্ঘটনার হিসাব

হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া দুর্ঘটনার কারন অনুসন্ধান ও বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার তথ্যে চমকে উঠতে হয় সড়ক দূর্ঘটনার সম্পর্কৃত কারন জেনে। ২০১৬ সালে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল ৭ লক্ষ যা এখন  বেড়ে ২২ লক্ষ। অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোর মোটরসাইকেল চালকগণ অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার স্বীকার হন এবং ক্রমেই তা বেড়ে চলেছে। ২০১৭ সালের দুর্ঘটনায় নিহতের ২৭ ভাগই মোটরসাইকেল আরোহী। গত দুই মাসে ঢাকা শহরের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে ৭ জনই মোটরসাইকেল আরোহী। তাছাড়াও অদক্ষ চালক (শুধুমাত্র বাস-ট্রাকই নয় এখানে অদক্ষ চালক বলতে সি.এন.জি, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভটভটি, নসিমন, করিমন ইত্যাদি চালকরাও রয়েছে) ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, মালিকের অব্যবস্থাপনা, মনিটরিংয়ের অভাব, দূর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তা নির্মাণে ক্রটি, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আইন ও তার যথারীতি প্রয়োগ ইত্যাদিই উঠে আসে।

এদিকে জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি গোল অর্জনে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে তা নিয়ে এক ধরনের শংকা দেখা দিয়েছে। আমরা আশাবাদী হতে চাই- এখনও সম্ভব যদি বাকী আড়াই বছরে আমরা যদি ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরী করতে পারি তাহলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসতে বাধ্য।

প্রিয় সাংবাদিক সমাবেশ

আমরা প্রচন্ড আশাবাদী বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে যে ১৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিটি সংস্থার তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনারোধে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ে সেধরনের কর্মসূচিতে আরও বেশি করে উদ্যোগী হয়েছে। বলা চলে সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে একযোগে ক্রাশ প্রোগ্রাম চলছে। কিন্ত এর মাঝেও দুঃখের সাথে বলতে হয়  পথচারী, যাত্রী ও গণপরিবহনের মালিক-চালকের মাঝে সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেন, কি কারনে প্রতিনিয়ত ধ্বংসস্তুপ দেখার পরেও তাদের টনক নড়ছে না, আমি ভেবে পাইনা। রাজপথে প্রতিদিনের অব্যবস্থাপনার চিত্র যখন আমি সংবাদপত্রে দেখি মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। আমি মনে করি এ জন্য সরকারী, বেসরকারী এবং সকল সামাজিক সংগঠন বিশেষ করে রোড সেফটি বিষয়ে কাজ করছেন সে সকল  সংগঠনকে জনগনের মানসিকতা পরিবর্তনের বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালনে আরও তৎপর হয়ে উঠতে হবে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা-

২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ গত প্রায় এক বছরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জনসচেতনতা তৈরীতে যে সকল কার্যক্রম করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কার্য্যক্রম হল- ঢাকাসহ দেশব্যাপী র‍্যালী, মানববন্ধন, সেমিনার, চালক প্রশিক্ষন, শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ, দেশের বিভিন্ন জেলায় পিটিআই এর মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, যাত্রী-পথচারি সমাবেশ, জাতিসংঘ ঘোষিত রোড সেফটি সপ্তাহ পালন, গোলটেবিল বৈঠক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত অসংখ্য টকশোতে অংশগ্রহণ। এছাড়া আমরা আমাদের বিভিন্ন শাখা কমিটির যোগ্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদেরকে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরী করা হয়েছে এবং তারা নিজ নিজ এলাকায় স্কুল- কলেজসহ চালক, যাত্রী, পথচারিদের মাঝে সচেতনতাবৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের কেন্দ্রীয় চৌকষ প্রশিক্ষকবৃন্দ সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রদান করেছেন ।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ নিয়ে আমাদের ভূমিকা আপনাদের অজানা নয়। এই আইন প্রণয়নে আমাদের পক্ষ থেকে ছোট বড় মিলিয়ে একাধিক সংশোধনী দেয়া হয়েছিলো। বিশেষ করে আইনটির শিরোনাম ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন ২০১৮’, সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ দশ বছর করা, অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ী চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে এবং তাতে কারো মৃত্যু হলে মামলা ৩০২ ধারায় হবে উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে আপনাদের সামনে আমি একাধিকবার কথা বলেছি। আইনটি পাশ হওয়ার পর আমাদের পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে আমাদের চাওয়ার প্রায় ৮০ ভাগই বর্তমান আইনে এসেছে। একথা অনসীকার্য যে আমরা ছাড়াও সড়কে আরও স্টেক হোল্ডার রয়েছে। সকলের চাওয়ার যে কোনকিছুকে বাস্তবায়নে সকল মত ও পক্ষকে আস্থার আওতায় আনতে হয়। আমি মনে করি পর্যায়ক্রমে সরকার এ আইন আরও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলবেন। তাতে করে  আমাদের চাওয়া পাওয়ার শতভাগই বাস্তবায়ন হবে। সড়কে ফিরে আসবে শৃঙ্খলা, আইন মানার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে এবং সর্বমহলের সচতনতায় সড়ক হয়ে উঠবে নিরাপদ। আমি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়নে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এইজন্য যে দীর্ঘ দিনের জঞ্জাল পরিস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন এই সরকার। বিশেষ করে এ আইন প্রয়োগে সকল মহলের আন্তরিকতা, মনিটরিং ও মেনে চলার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরে নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হবে।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

পরিশেষে বলতে চাই-বাংলাদেশে বহু দিবস পালিত হয় কিন্তু ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস সেরকম দিবস নয়। এটির মাধ্যমে আমরা শুধু একদিনে দিবসটি উদযাপন করবো না বরং সারা বছর আমরা বিভিন্ন কার্য্যক্রমের মাধ্যমে চালক, মালিক, পথচারি, যাত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমজীবী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখবো এবং দেশবাসিকে সচেতন করার মাধ্যমে দেশকে সড়ক দুর্ঘটনার মহামারী থেকে উদ্ধার করবো ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা-

আপনাদের মাধ্যমে ২২ অক্টোবরকে নিয়ে আমাদের সংগঠন কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কর্মসুচী এবং আমাদের কর্মকান্ডের কিছু দিক সংক্ষেপে তুলে ধরলাম। এ ছাড়া সরকার জাতীয় নিরাপদ সড়ক’ দিবস উপলক্ষে যে কর্মসুচী গ্রহন করবেন তার প্রতিও আমাদের সার্বিক সমর্থন ও অংশগ্রহণ থাকবে। সরকারী কর্মসুচিতে আমাদের সকল শাখা কমিটি, সামাজিক সংগঠন ও দেশবাসীকে অংশগ্রহন করে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের কর্মসুচিকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য আপনাদের মাধ্যমে বিনীত আহবান জানাচ্ছি।

দীর্ঘ ২৫ বছরের এ সামাজিক আন্দোলনের সফলতায় আপনারা সাংবাদিকবৃন্দ আমাদের পাশে থেকে যে সহযোগিতা,সহমর্মিতায় আবদ্ধ করেছেন তার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে,সু-স্বাস্থ্য কামনা করে আজকের সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করছি। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।

পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়।

 

ইলিয়াস কাঞ্চন

চেয়ারম্যান

নিরাপদ সড়ক চাই

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)