আপডেট আগস্ট ২৪, ২০১৯

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৫ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২০ মুহাররম, ১৪৪১

বিনোদন জাপানি ছবিতে এই নায়িকা নাকি রক্তমাংসের মানুষ নন!

জাপানি ছবিতে এই নায়িকা নাকি রক্তমাংসের মানুষ নন!

নিরাপদ নিউজ: ছবিতে নায়ক নায়িকা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সুন্দরী নায়িকার সঙ্গে নায়ক প্রেম করবে, কথা বলবে, আবার মাঝে মাঝে একটু রোমান্সতো থাকবেই। তবে এবারও নায়ক রোমান্স করবে ঠিকই কিন্তু যার সঙ্গে করবে সেই নায়িকা নাকি রক্তমাংসের মানুষ নন।

কথাটা শুনে একটু অবাক হলেও ঘটনাটি দেখা যাবে একটি জাপানি ছবিতে। ছবির নায়িকা এখানে অ্যান্ড্রয়েড রোবট। নাম জেমিনয়েড এফ। আর ছবির নাম ‘সায়োনারা’।এই প্রথম কোনও মানুষ নায়কের বিপরীতে রোবট নায়িকাকে দেখা যাবে ছবিতে।

জাপানের পরমানু বোমা বিস্ফোরণ নিয়ে ছবি এগিয়েছে রোবট ও তানিয়া নামের এক মহিলার সম্পর্ক নিয়ে। রোবটের সংস্পর্শে এসে অসুস্থ হয়ে পরেন তানিয়া। এর আগে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ওপর স্পেশাল এফেক্টসে ছবিতে তৈরি হয়েছে রোবট। তবে জেমিনয়েড এফ বা লিওনা কোনও মানুষ নয়। পরিচালকের কথা শুনে কৃত্রিম বুদ্ধির সাহায্যে কাজ করে লিওনা।

জাপানি পরিচালক কোজি ফুকাদা, নাট্যকার ওরিজা হিরাতা এবং ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইন্টালিজেন্ট রোবোটিকস ল্যাবরেটরির অধ্যাপক হিরোশি ইশিগুরো এই ছবি তৈরি করেছেন। ২৮তম টোকিও ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে দেখানো হয়েছে এই ছবি।

আরও রয়েছে সুন্দরী মডেল কন্যা হিউম্যান সাইবারনেটিক। হিউম্যান সাইবারনেটিক এইচআরপি রোবটটি অবিকল মানুষের মতো দেখতে। এর মুখায়ববে জাপানি মেয়ের চেহারা নিখঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যাকে দেখে আপনার মনে হতে পারে ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সী কোনো মেয়ে। এটি সুন্দর মুখায়বব এবং কাঁধ পর্যন্ত চুলের অধিকারী এক অপরূপ সুন্দরী নারী রোবট। এই রোবটটির বিশেষত্ব হচ্ছে এটি একটি মডেল কন্যা।

শুনলে অবাক হবেন যে, এই মডেল রোবট নানা রকম ড্রেস পরে মোট ৪২ রকমের স্টাইলে ক্যাটওয়াক করতে পারে। এর ব্যবহার অনেকটা স্বাভাবিক মানুষের মতো। এই ধরনের রোবটের মতো আরও কিছু রোবট রয়েছে যারা দেখতে শুধু সুন্দরীই নয় বরং কেউ ওদের বিরক্ত করলে বা বাজে ব্যবহার করলে সঙ্গে সঙ্গে ইলেকট্রিক শক দেয় এবং প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ পর্যন্ত জানাতে পারে।

এদিকে, ২০১৮ অলিম্পিক উইন্টার গেমসে ১১ ধরনের ৮৫টি রোবট ব্যবহার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। ১১ ধরনের রোবটের মধ্যে একটি ছিল হিউম্যানয়েড। হাঁটার পাশাপাশি অলিম্পিক মশাল বহন করেছে এই রোবট। খেলা চলাকালীন মাঠের দেয়ালে চিত্র এঁকেছে কিছু রোবট। আর কিছু মাঠে সরবরাহকারী এবং ফিশিং রোবট দেখা গেছে। এ ছাড়া কথা বলতে পারে এমন রোবটও ছিল উইন্টার অলিম্পিকসে। সময়সূচি, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং দর্শনীয় স্থান বা বস্তু নিয়ে তথ্য দেবে এই রোবটগুলো। কোরিয়ান, চাইনিজ, জাপানিজ এবং ইংরেজি ভাষায় কথা বলেছে এগুলো।

অলিম্পিক গেইমসে দেশটির স্থানীয় ইলেক্ট্রনিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলজিও রোবট ব্যবহার করতে যাচ্ছে। গত বছরের শুরুতে দুটি রোবট উন্মোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে সিউলের ইঞ্চেওন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে রোবটগুলোর পরীক্ষা চালাচ্ছে এলজি। এর মধ্যে একটি পরিষ্কারক রোবট এবং অন্যটি এয়ারপোর্ট গাইড রোবট। অন্যদিকে পরবর্তী সামার অলিম্পিকসের আগে পুরো একটি ‘রোবট ভিলেজ’ বানানোর আশা করছে জাপান।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)