ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৫ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ সফর, ১৪৪১

সম্পাদকীয় জিহাদের জন্য ভালোবাসা

জিহাদের জন্য ভালোবাসা

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

কোটি কোটি মানুষের প্রার্থনা আর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে না ফেরার দেশেই চলে গেল শিশু জিহাদ। শিশু জিহাদের এ চলে যাওয়া আমাদের সক্ষমতাকে আরেকবার প্রশ্নবিদ্ধ করল। শুক্রবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে পানির পাইপে পড়ে যাওয়া চার বছরের শিশু জিহাদকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান চালায়। দেশের কোটি কোটি মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে শুক্রবার বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনে এ উদ্ধার অভিযান সরাসরি সম্প্রচার দেখেছেন নির্ঘুম থেকে। প্রায় তেইশঘন্টা পর শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সংস্থার মহাপরিচালক ‘পাইপের ভেতর কোন ভিকটিম নেই’- বলে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান স্থগিত ঘোষণা করেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, উদ্ধারকর্মিদের সঙ্গে কথা বলে তার ধারণা হয়েছে, পাইপের ভেতরে শিশুটি নেই। ফায়ার সার্ভিসের অভিযান স্থগিত ঘোষণার পনের মিনিট পরই বিকাল তিনটার দিকে সাধারণ মানুষদের চেষ্টায় ৬-৭ জনের অপ্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল নিজ প্রক্রিয়ায় তৈরি লোহার খাঁচা দিয়ে পাইপের ভেতর থেকে জিহাদের মরদেহ উদ্ধার করে। আমরা জিহাদকে জীবিত উদ্ধার করতে পারিনি। এ ব্যর্থতা সরকারের। এ ব্যর্থতা রাষ্ট্রযন্ত্রের। এ লজ্জা আমাদের সবার। শিশু জিহাদ তখনো উদ্ধার হয়নি। বাইরে তাকে উদ্ধারে নানা তৎপরতা, ছেলেকে উদ্ধারের জন্য মধ্যরাতে হন্যে হয়ে সবার কাছে ছুটছেন বাবা। ঠিক এমন সময়ে পুলিশ তুলে নিয়ে গেল জিহাদের বাবা নাসির ফকিরকে। শিশুটি উদ্ধারের আগ পর্যন্ত শাহজাহানপুর থানায় সাড়ে ১২ ঘন্টা আটকে রাখা হয় তাকে। এমনকি কোথায় জিহাদকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে সে বিষয়ে জানাতে তাকে উল্টো ভয়ভীতিও দেখানো হয়। এ সময় কোনো খাবারও দেওয়া হয়নি- গণমাধ্যমে এমন খবর এসেছে। কী, অমানবিকতা! প্রাকৃতিক হোক আর মানব সৃষ্ট দুর্যোগ হোক তা মোকাবেলায় আমাদের সক্ষমতা নিয়ে আমরাই সন্দিহান। পাইপ, গর্ত, ম্যানহোল অরক্ষিত পড়ে থাকা কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে-জিহাদের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এরপরও কী আমাদের বোধোদয় হবে না? গভীর পাইপের ভিতর পড়ে ওইটুকু শিশুর কী কষ্টই না হয়েছে- একবার চিন্তা করে দেখুনতো। তাই, লজ্জার ব্যর্থতার দায়ভার আমরাই মাথা পেতে নিচ্ছি, কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা থাক শিশু জিহাদের জন্য।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)