ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

ঢাকা শুক্রবার, ২ ভাদ্র, ১৪২৫ , শরৎকাল, ৫ জিলহজ্জ, ১৪৩৯

মতামত ‘জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি কোটি কোটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রয়েছে’

‘জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি কোটি কোটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রয়েছে’

মনির খান

মনির খান, নিরাপদনিউজ : বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে সেই রায়ের আগে প্রতি সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন করে আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। হাজিরা দেওয়ার সময়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি এবং বিএনপি পক্ষের আইনজীবিদের যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে আমরা দেখেছি এ মামলা টির রায় সুস্পষ্ট হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া নির্দোষ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছিল।

এ রায়ের আগে খালেদা জিয়ার দুর্নীতি এ মামলায় প্রমাণিত করতে পারেনি। নথি পত্রের ঘষা-মাজা, বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তন করে নেওয়া হয়েছে । বিদেশ থেকে আসা টাকা এবং সে টাকা ব্যাংক থেকে তোলার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার সিগনেচার করার প্রমাণ নেই। আমরা দেখেছি, টেলিভিশনের পর্দায় এবং আইনজীবিদের ভাষায় সুস্পষ্ট হয়েছে যে, খালেদা জিয়া নির্দোষ । বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নির্দোষ, সেটি সারা বিশ্ববাসির কাছে প্রমাণিত হয়েছে।

রাজনৈতিক দিক থেকে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে বর্তমান সরকার এ দুর্নীতি মামলার ফরমায়েশি রায় দিয়েছে। এ বছর একাদশ সংসদ নির্বাচনি বছর হিসাবে বর্তমান সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে দুর্নীতির মামলার দায়ে জেলে পাঠিয়েছেন। যেন বিএনপি সঠিকভাবে নির্বাচনের মাঠে আসতে না পারে। এবং ৫ জানুয়ারির মত বিনা ভোটে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাবে, এই তাদের পরিকল্পনা। সে কারণে বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃবৃন্দকে যেভাবে পুলিশ দ্বারা গ্রেফতার করা হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক যারা আছেন, তারা খালেদা জিয়ার এমন রায়ে খুবই আশ্চর্য হয়েছেন। গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটি হওয়া উচিত নয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দিক থেকে বিএনপি একটি শক্তিশালি ও সর্ববৃহৎ দল দল। এদেশের জনগণের সমর্থনের দিক থেকে আওয়ামী লীগ এর চেয়ে বিএনপির সমর্থন বেশি। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তিন বার প্রধানমন্ত্রী হয়েও তাকে একটি দুর্নীতির মামলার রায়ে আটকে রেখে কেউ যদি মনে করে ফায়দা লুটা যাবে, সেটি সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বেগম খালেদা দেশ পরিচালনা করেছেন। শহিদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসা রয়েছে।

এ রায়ে মানুষের অন্তরে দাগ কেটেছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আটকে রেখে তাকে ছোট করার কোন সুযোগ পাবে না বর্তমান সরকার। বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দী করার কারণে যে সমস্ত নেতা-কর্মীরা ঘরমুখি ছিল, তারা এখন ঝাঁকে ঝাঁকে মাঠে এসে উপস্থিত হয়েছেন। এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন। এ থেকে বলতে চাই, বিএনপির কোনভাবে ক্ষতি করার সুযোগ নেই। বেগম খালেদা জিয়া যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশের মানুষের মাঝে থাকবেন। বাংলাদেশে যেকোন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এর ফলাফল বাংলাদেশের মানুষ দেখতে পারবে। কারণ, বিএনপি একটি নির্বাচন মুখি দল।

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে যে দুর্নীতির মামলার দায়ে জেলে দেওয়া হয়েছে, তাকে বেশি দিন জেলে আটকিয়ে রাখতে পারবেন না, সেটি দেশের মানুষ সবাই বিশ্বাস করে। বর্তমানে বিএনপির মহাসচিব স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং আইনজীবি সহ মওদুদ আহমেদসহ যারা আছেন, তারা প্রত্যেকে একটি কথা বলেছেন। এই সপ্তাহের মধ্যে তাকে জামিন করানো সম্ভব হবে। তিনি জেল থেকে বের হয়ে আসবেন এবং নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন হতে পারে এবং সেখানে বিএনপি অবশ্যই নির্বাচন করবে। কারণ, বিএনপি একটি পরিবার। এ পরিবারের প্রধান হচ্ছেন আমাদের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।

এখন বেগম খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিকভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন তারেক রহমান। তারেক রহমান সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারেক রহমান যোগ্যতার সাথে, দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তারেক রহমানের মত এত আলোড়ন সৃষ্টিকারি নেতা আর দ্বিতীয় হতে পারে নাই কেউ। এজন্য বিএনপি পরিবারের প্রধান হিসাবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করবেন তারেক রহমান। বিএনপি পরিবারের একজন নেতা তিনি দুরে থাকুক আর কাছে থাকুক দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা হওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ৮ তারিখে জেলে যাওয়ায় সেদিন এ দেশের সব মানুষ একটিমাত্র শ্লোগান দিয়েছিলেন, আমার নেত্রী আমার মা, বন্ধী হতে দিব না।

এ শ্লোগানটি বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষের মুখে মুখে প্রচার হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ায় লক্ষ মানুষের চোখের জল পড়েছে। বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগে, তিন তারিখে নির্বাহি কমিটির একটি মিটিং হয়েছিল। সেখানে তিনি বলেছিলেন, আমি যেখানে থাকি, আমি তোমাদের সাথে আছি, তোমরা কখনো ভেবোনা, আমি তোমাদের থেকে অনেক দূরে আছি। আমি তোমাদের কাছে না থাকলেও তোমরা ভাববে আমি তোমাদের সাথে আছি এবং থাকব। কারণ, আমার বাংলাদেশের বাইরে কোন ঠিকানা নাই। তোমাদের নিয়ে আমার সবকিছু।

আমি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করব তোমাদের কাছে। খালেদা জিয়া আরো বলেছিলেন, আমরা গণতন্ত্র চর্চায় বিশ্বাসী, শহিদ রাষ্ট্রপ্রতি জিয়াউর রহমান সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করে গেছেন। আমিও পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এ দেশে গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছি। সুতরাং আন্দোলন হবে, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন হবে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে। কোন ভাবে সহিংসতামূলক কোন আন্দোলন করা যাবে না। যখন ৮ তারিখে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে জেল দিয়েছেন, সেদিন আমাদের দেশের বিএনপির কোন নেতাকর্মীরা সহিংসতা করেনি। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় আছেন। রাজনৈতিকভাবে তারা এখন অনেক কথাই রাজনৈতিক মাঠে বলবেন। ওবাইদুল কাদের একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। এবং আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল।

তিনি ওই রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি তারেক রহমানকে দুর্নীতিবাজ বলে গালি দিয়েছেন। সেটি বাংলাদেশের মানুষ না, সারা বিশ্বের মানুষ দেখেছে বা দেখেন। আজ পর্যন্ত তারেক রহমানের যত বিচার হয়েছে, একটি বিচারে কেউ প্রমাণ করতে পারেনি তিনি দুর্নীতিবাজ। তারেক রহমান যে দুর্নীতিবাজ কোন আদালতে এটি প্রমাণিত হয় নাই। এ কথাগুলো তারা আমাদেরকে রাজনৈতিকভাবে ছোট করার জন্য বলে থাকেন। তারেক রহমান হচ্ছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় নেতা। এজন্য ওবায়দুল কাদের দুর্নীতিবাজ বলে গালি দিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের এর কথায় শঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই। একটি উদাহরণ হচ্ছে, যে গাছ বড় হয়, সে গাছের গায়ে বাতাস লাগে বেশি। তার ছায়ার নিচে সবাই বিশ্রাম নিয়ে থাকেন। তারেক রহমান একজন বড় বটবৃক্ষ। তার ছায়ার নিচে বাংলাদেশের মানুষ আশ্রয় নিবে। তাকে নিয়ে সবাই আলোচনা করবেন। এটা নিয়ে আমাদের আনন্দ হয়।

পরিচিতি : গায়ক ও রাজনীতিবিদ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)