আপডেট ৪৩ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৮ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

খুলনা, সড়ক সংবাদ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙ্গাচোরা সাঁকো দিয়ে পারাপার

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙ্গাচোরা সাঁকো দিয়ে পারাপার

সরদার কালাম,নিরাপদনিউজ: কপোতাক্ষ নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে ভাঙ্গাচোরা বাশেঁর সাঁকো দিয়ে হাজারো মানুষসহ ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার বাইসাইকেল,মোটরসাইকেল ও ভ্যানসহ অন্যান্য ছোট যান।দীর্ঘদিন ধরে কপোতাক্ষ নদী ভরাট ও পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনসাধারণকে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।বর্তমান আ.লীগ সরকারের আমলে অনেক কাজ সংস্কার ও নির্মিত হয়েছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাসহ ১২টি ইউনিয়ন ঘিরে।তারই প্রকাশ উপজেলার দেয়াড়া এলাকার কপোতাক্ষ নদ খনন ও খোরদো ব্রিজ।নদীর স্রোতের জলধারা পুর্বের ন্যায় পরিপূর্ণ ভাবে প্রবাহিত হচ্ছে।কিন্তূ ওই নদের উপর অবহেলা ও নজরহীন অনাদরে পড়ে আছে মানসম্মত একটি সেতু বিহীন ভাঙ্গাচোরা বাঁশের সাকো।যেটা পারাপারের জন্য খুবই জরুরী ও জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এদিকে যেমন সম্প্রতি কয়েক বছর আগে উপজেলার খোরদো চাকলা বর্ডার গার্ড ব্রিজ হয়ে চলাচলের উপযুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করে দিয়েছে আ.লীগ সরকার।ঠিক তেমনি ভাবেই প্রয়োজন বোধ করছে উপজেলা দেয়াড়ার কাশিয়াডাংগা-কেশবপুর ত্রিমোহীনি মধ্যবর্তী কপোতাক্ষ নদীর উপরে সেতুটি।ওই নদীর উপরে ভাঙ্গাচোরা সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ছোট খাটো বিভিন্ন যানবাহনসহ ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে শত শত স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীসহ কোমলমতি শিশু ও বৃদ্ধ জনসাধারণ।এমনটাই  জানান স্থানীয়রা।সরোজমিনে গেলে তারা জানান উপজেলার ওই ঘাট অতিক্রম করে জনসাধারণ কেশবপুর ও খুলনা শহর যাওয়ার জন্য সল্প সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে পৌছাতে বেশ সহজতর ও কম খরচ লাগে।তাছাড়া যশোরের কেশবপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এলাকা সনেট কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়িতে যেতেও এক সহজলভ্য একটি যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে ওই স্থানের সাঁকোটি বলেও জানা যায়।এছাড়াও পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলা বড় বাজারটিও এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের খুবই নিকটবর্তী।তাদের দাবি ওই গুরুত্বপূর্ণ স্থানটিতে সেতুটি সম্পন্ন হলে কষ্ট লাঘব হবে।এছাড়াও ১০-১৫ টি স্কুল কলেজ মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পৌছাতে বেশ হয়রানি ও কষ্ট ভোগ করতে হয় তাদের বলে জানান ওই ওয়ার্ড আ.লীগ নেতা জৈনেক হারুন অর রশিদ।গুরুত্বপূর্ণ একটা ভবন দেয়াড়া কাশিয়াডাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার মধ্যমনি স্থান হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন্য সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ওই এলাকার বাসিন্দারা শুধু একটি ব্রিজের অভাবে বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।তাছাড়া স্থানীয় অনেকেই বলেন আমাদের প্রাণের দাবি বর্তমান উন্নয়নশীল আ.লীগ সরকারের কাছে,যেনো আমাদের এই কষ্ট লাঘবে সদয় হন।তাদেরকে একটি ব্রিজের অভাবে কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে বলে জানান ওই এলাকার হাজারো মানুষ।তাছাড়া তারা আরো জানান যে,ওই কপোতাক্ষ নদীর উপরে কোনো সরকারি ভাবে তদারকি করে চলাচলের জন্য সাকো না থাকায় এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় অস্থায়ী সাকো তৈরি করে চলাচল করেন।যেটা ভারি যানবাহন চলাচলের একেবারেই অযোগ্য।যেটার সাইনবোর্ডে স্পষ্ট করে লেখা আছে-সাবধান-মটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়া যাবে না।বোঝাই কোন গাড়ি বা ভ্যান পারাপার করা যাবে না।এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারিবে কতৃপক্ষ।অর্থাৎ সাঁকোটি এতোটাই দুর্বল যে স্থানীয় সাঁকো কতৃপক্ষ এমনটাই লিখে রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে জানান সাঁকো কতৃপক্ষ।এব্যাপারে জানতে চাইলে পৃথক পৃথক ভাবে একই মন্তব্য উঠে এসেছে।উপজেলার দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মাহবুবুর রহমান মফে,ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান,স্থানীয় বাসিন্দা ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য বাবরালী সরদার মধু বলেন,নিঃসন্দেহে ওই স্থানে ব্রিজটি জনগুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত ব্রিজটি সম্পন্ন হলে জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘব হয়ে সস্তি পাবে হাজারো মানুষ।তাছাড়া এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্দ্যেগী – লেয়াকত আলী,নাসির শেখ,মৃত আমির সরদারসহ ২০/২৫ জন মিলে ২০০১ সালে আনুমানিক ৩ – ৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৭৫ ফুট কপোতাক্ষ নদের উপর একটি সাঁকো নির্মাণ করেন।যেটা উদ্বোধন করেন প্রাক্তন তালা – কলারোয়ার বিএনপির – সংসদ সদস্য (এমপি) হাবিবুল ইসলাম হাবিব।তিনি উদ্বোধনের সময় সাকোর জন্য কিছু টাকা অনুদানও দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।দুই উপজেলার মধ্যবর্তী ওই ব্রিজটি নির্মাণে প্রতি বছর মধুমেলাগামী সকল শ্রেণীর মানুষের দুর্ভোগ কমবে।এবং ব্রিজ প্রত্যাশী সকল শ্রেণীর মানুষের পক্ষ থেকে – ব্রিজটি তৈরি করার জন্য উদ্যোগীসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে অনেক দপ্তরে আবেদন করেছিলেন বলেও জানান স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।এদিকে কাশিয়াডাংগা বাজারের স্থানীয় চায়ের দোকানী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোজাফফর আলী খান বলেন,ওই ব্রিজটি খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য।তাই স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে আমাদের দাবি অতিদ্রুত ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণ হোক।এদিকে ব্রিজ পারাপারের সময় কথা হয় জৈনেক নাছির উদ্দিন নামের এক বয়োজোষ্ঠ শিক্ষকের সাথে।তিনি বলেন স্বাধীনতার ৪৭ বছরতো অপেক্ষায় ছিলাম।উপরন্তু যে সকল জনপ্রতিনিধিরা আসেন তারা ব্রিজটি নির্বাচনী বৈতরনীতে মুলা বানিয়ে রেখেছে।একটি ব্রিজের বুক ভরা আশায়তো ছিলাম।জানি না ব্রিজ হয়েছে দেখে যেতে পারবো কি না। দুর্ভোগ লাঘবে ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয়রা অতি দ্রুত উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)