আপডেট ডিসেম্বর ১, ২০১৮

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ পৌষ, ১৪২৫ , শীতকাল, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪০

সম্পাদকীয় জেলে তালিকায় ধনীরা

জেলে তালিকায় ধনীরা

নিরাপদ নিউজ: দেশের জেলেদের একটি তালিকা তৈরি করেছে সরকার। প্রায় সাত বছর পরিশ্রম করে গত জুনে কাজটি শেষ করা হয়েছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এই প্রথম এমন তালিকা করা হলো। সম্প্রতি এ তালিকা ধরে জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুরুষানুক্রমে বা দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত অনেকের নাম তালিকায় নেই। তারা পরিচয়পত্র পায়নি। ফলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্ছিত হবে তারা। অথচ অনেক ধনী লোক জেলের পরিচয়পত্র পেয়েছে, যাঁরা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত নয়। সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটেছে। তাদের তালিকাভুক্ত হওয়ার মূল কারণ ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা।

স্বাধীনতার পর অনেক দিন জেলেদের তালিকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রকৃত জেলেদের তালিকা ও স্বীকৃতি না থাকায় প্রভাবশালী শ্রেণির লোকজন জেলে পরিচয় দিয়ে সরকারের কাছ থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছিল। এ অনিয়ম ঠেকাতে সরকার ২০১২ সালে প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ গত জুনে শেষ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কাজও এরইমধ্যে শেষ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক জেলে নিবন্ধনের বাইরে থেকে গেছে। আর নিবন্ধন তালিকায় ঢুকে পড়েছে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে অনেক প্রকৃত জেলের নিবন্ধিত না হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা অবশ্য বলেছে, সারা দেশের জেলেদের ডাটাবেইস তৈরির কার্যক্রমে যে ধরনের দক্ষ জনবল থাকা দরকার, তা ছিল না। এ কারণে অনেক প্রকৃত জেলের তথ্য আসেনি। অন্যদিকে ধনী অনেক ব্যক্তির তালিকায় ঢোকা প্রসঙ্গে প্রকল্পের উপপরিচালক বলেছেন, তালিকা তৈরি করতে গিয়ে যে ত্রুটিবিচ্যুতি হয়েছে, তা মাঠপর্যায়ে হয়েছে।

উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটি চেষ্টা করেছে একটি স্বচ্ছ তালিকা করার জন্য। তিনি এ কথাও বলেছেন, বাদ পড়া জেলেদের চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। ‘জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান’ নীতিমালার খসড়া অনুমোদন পেলে রাজস্ব খাতের মাধ্যমে জেলেদের তথ্য নেওয়া যাবে। ধনিক শ্রেণির লোকজনকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাদ পড়া জেলেদের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।

শুধু জেলে তালিকা নয়, বাংলাদেশে যেকোনো সরকারি তালিকায় বিচ্যুতি স্বাভাবিক ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তা-কর্মীদের দক্ষতা ও সততার অভাব, প্রভাবশালী মহলের সুবিধাভোগী মনোভাব, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনীতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ ও নীতিমালার অভাব বা ত্রুটি এর কারণ। একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ যাতে নিন্দনীয় হয়ে না ওঠে সে জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দ্রুত তৎপর হবেন বলে আমরা আশা করি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)