সংবাদ শিরোনাম

২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং

00:00:00 শনিবার, ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , বসন্তকাল, ৯ই জমাদিউস-সানি, ১৪৩৯ হিজরী
চট্টগ্রাম জ্ঞানের অভাবেই একটি মহল চায় না চট্টগ্রামে সুইমিংপুল হোক: বাস্তবায়ন কমিটি

জ্ঞানের অভাবেই একটি মহল চায় না চট্টগ্রামে সুইমিংপুল হোক: বাস্তবায়ন কমিটি

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৯, ২০১৭ , ৩:৪৫ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চট্টগ্রাম

জ্ঞানের অভাবেই একটি মহল চায় না চট্টগ্রামে সুইমিংপুল হোক

শফিক আহমেদ সাজীব, ১৯ এপ্রিল, ২০১৭, নিরাপদনিউজ : চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি নগরীতে একটি সুইমিংপুল নির্মাণ। সুইমিংপুল খেলার মাঠেরই একটি অংশ, বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। এর আগেও দুইবার ব্যর্থ হয়ে এবারে ৪ দশক অপেক্ষাশেষে তৃতীয় দফায় ক্রীড়াবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে নগরীর আউটার স্টেডিয়ামে কাক্সিক্ষত সুইমিংপুল নির্মিত হতে যাচ্ছে। এরপরও এখানে এসেছে আপত্তি। একটি মহল চায় না এখানে সুইমিংপুল হোক। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়। গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুইমিংপুল বাস্তবায়ন কমিটি এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের কনভেশন হলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুইমিংপুল বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আলহাজ আলী আব্বাস। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দীন মো. আলমগীর ও সিজেকেএস’র অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স পরিচালক ও সিজেকেএস নির্বাহী সদস্য অহিদ সিরাজ চৌধুরী স্বপন। এ সময় সিজেকেএস যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও নির্বাহী সদস্য আলহাজ দিদারুল আলম চৌধুরী চৌধুরীসহ একাধিক ক্রীড়া সংগঠক, ক্রীড়াবিদ, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়সহ ক্রীড়ামোদীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, খেলার মাঠ আর সুইমিং পুল বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। মাঠ ও সুইমিং পুল পয়সার এপিঠ-ওপিঠের মতো। যারা এটা বুঝতে পারছেন না তারাই সুইমিং পুল নির্মাণের বিরোধিতা করছেন। এতে জনাব আলমগীর বলেন, ২০ বছর আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে চট্টগ্রামে সুইমিংপুলের জন্য অর্থ বরাদ্দ আসে। কিন্তু উদ্যোগের অভাবে সে বরাদ্দ চলে যায়, চাঁদপুরে। ২য় দফাতেই একই কারণে বরাদ্দ অর্থ চলে যায় ফেনীতে। এবারে তৃতীয়বারের মতো অর্থ বরাদ্দ আসলেও বিভিন্ন কারণে সুইমিংপুল নির্মাণে বাধা আসছে। তিনি আরো বলেন, দেশের ১৭টি জেলায় সুইমিংপুল রয়েছে। প্রত্যেকটি স্টেডিয়াম সংলগ্ন। এখানেও তাই করা হচ্ছে। কারণ শুধু নির্মাণ করেই কাজ শেষ নয়। সেটা রক্ষণাবেক্ষণও অনেক বড় একটা ব্যাপার। তিনি আরো বলেন, কারো পক্ষে বা বিপক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন নয়, সঠিক তথ্য তুলে ধরার জন্যই এই আয়োজন। লিখিত বক্তব্যে আলী আব্বাস বলেন, সকল নিয়মনীতি মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সুইমিংপুল নির্মাণের এ কাজটি ইতোমধ্যে শুরু করেছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, সিটি মেয়র আলহাজ আ জ ম নাছির উদ্দীনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুদানে এই সুইমিংপুলটি নির্মিত হচ্ছে। প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭০ হাজার ৩৮০ বর্গফুটের ৩০৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৩০ ফুট প্রস্থের এই আধুনিক মানের সুইমিং পুল আমাদের ক্রীড়াবিদদের উৎকর্ষ সাধনে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের সাঁতারু গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, যারা সুইমিং পুলকে খেলার মাঠ থেকে আলাদা কোনো বিষয় মনে করে তাদের ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই বললেই চলে। কারণ উন্মুক্ত মাঠের মতো সুইমিং পুলেও শারীরিক কসরত ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডই হয়। সুইমিং অন্যান্য দশটি ইভেন্টের মতো অলিম্পিক গেমস্ভুক্ত একটি ইভেন্ট। সুতরাং ক্রিকেট-ফুটবল-হকি-হ্যান্ডবলের মতো ইভেন্টগুলোর চর্চায় যেমন খেলার মাঠের প্রয়োজন তেমনি সাঁতার চর্চার জন্যও সুইমিং পুলের প্রয়োজন। এই জ্ঞানের অভাবে ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নন এমন কিছু ব্যক্তি এবং সংগঠন শুধুমাত্র বিরোধিতার খাতিরেই সুইমিং পুল নির্মাণের বিরোধিতা করছে, যা খুবই দুঃখজনক এবং চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধাও বটে। আলী আব্বাস আরও বলেন, চট্টগ্রাম একটি বিভাগীয় শহর হওয়া সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও এখানে একটি সুইমিং পুল নেই, চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের সাঁতার শেখার সুযোগও নেই। এ লজ্জা ও দায় আমাদের সকলের। তিনি তার বক্তব্যে সুইমিং পুল নির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নির্মাণশেষে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধনের ঘোষণা দিচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে সিজেকেএস নির্বাহী সদস্য আলহাজ দিদারুল আলম চৌধুরী, আ ন ম ওয়াহিদ দুলাল, একেএম আবদুল হান্নান আকবর, মোহাম্মদ ইউসুফ, আছলাম মোর্শেদ, রেখা আলম চৌধুরী, রেজিয়া বেগম ছবি, কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব, মকসুদুর রহমান বুলবুল, প্রবীন কুমার ঘোষ, আকতারুজ্জামান, ফুলিনা চৌধুরীসহ কাউন্সিলরবৃন্দ, সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার নুরুল আবেদীন নোভেল, ফজলে বারী খান রুবেলসহ ক্রীড়াবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

Share this...
Print this pageShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedInEmail this to someone

comments

Bangla Converter | Career | About Us