আপডেট ৩ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৫ , শরৎকাল, ১২ মুহাররম, ১৪৪০

কৃষি, বরিশাল ঝালকাঠিতে দেশের বৃহৎ ভিয়েতনামের খাটো জাতের নারিকেল গাছ চাষ করছেন মাহফুজ

ঝালকাঠিতে দেশের বৃহৎ ভিয়েতনামের খাটো জাতের নারিকেল গাছ চাষ করছেন মাহফুজ

ঝালকাঠিতে দেশের বৃহৎ ভিয়েতনামের খাটো জাতের নারিকেল গাছ চাষ করছেন মাহফুজ

আমিনুল ইসলাম,৯ নভেম্বর, ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : ঝালকাঠিতে দেশের সর্ববৃহৎ ওপেন পলিনেটেড বা খাটো জাতের নারিকেল গাছের চাষ হচ্ছে। চাষের ৩ বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসে। কম যায়গায় অল্প পরিচর্চা করে সহযেই ফল পাওয়া যায় বলে চাষিরা খাটো জাতের নারিকেল চাষে উদ্ধুব্ধ হচ্ছে।

ঝালকাঠির মাহাফুজুর রহমান ‘এশা ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচার’ নামে মিশ্র খামার করে বেকারত্ব গুছিয়েছেন। এই খামারের আওতায় পেয়ারা, আমড়া, আম, লেবু, পেপে ও কলাসহ শীতকালীন সবজী চাষ হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বড় বাগান হিসেবে বানিজ্যিকভাবে খাটো জাতের নারিকেল গাছ চাষ অনান্য কৃষি পন্যের পাশাপাশি শুরু হয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ের কবল থেকে গাছ ও নারিকেল রক্ষায় ঝালকাঠিতে তিন একর জমিতে ভিয়েতনামের খাটো জাতের ওপেন পলিনেটেড প্রজাতির নারিকেল গাছের চাষের পাশাপাশি মাহফুজুর রহমান গড়ে তুলেছেন একটি মিশ্র খামার।

পৈতৃক বসতভিটা ছাড়া তেমন কোনো জমাজমি নেই তার। স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে ৮ হেক্টর জমি লিজ নিয়ে নারিকেল গাছের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে প্রায় ২০ ধরনের সবজি আবাদ করছেন তিনি। ভিয়েতনামের এই খাটো জাতের নারিকেল গাছের খামার ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহান ও কৃষি অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেশাইন খান গ্রামে কৃষক মাহাফুজুর রহমানের এ মিশ্র খামারটি ঘুরে দেখেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভিয়েতনামের আদলে নারিকেলভিত্তিক পরিবার বা সমাজ তৈরি করতে চায় সরকার। বাংলাদেশে নতুন জাতের ডোয়ার্ফ বা বামন আকৃতির অধিক উৎপাদনশীল এই ‘ম্যাজিক নারিকেল গাছ’ আমদানি করেছে সরকার। উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারাদেশে এ নারিকেল গাছ চাষের সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে। গাছ রোপণের দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে ফুল ফোটা শুরু হয়। দেশীয় লম্বা জাতের নারিকেলগাছে ফুল আসতে ৭-৮ বছর লেগে যায়। ভিয়েতনামের খাটো জাতের ডাবে পানির পরিমাণও অনেক বেশি। খাটো জাতের নারিকেল গাছ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসে। সব ধরনের মাটিতেই এ গাছ লাগানো সম্ভব। তা ছাড়া এ জাতের গাছ লবণাক্ততা অনেক বেশি সহ্য করতে পারে। গাছ খাটো হওয়ায় পরিচর্যাও সহজ। এটা উদ্ভাবন করা হয় ২০০৫ সালে। এ জাতের ডাব খুবই সুস্বাদু। এ ছাড়া ফলনও লম্বা জাতের গাছের চেয়ে অনেক বেশি।

ভিয়েতনামে এ চারা কৃষকের খুবই পছন্দ। এ জাতের ডাব ও নারিকেল বিক্রি করে ভিয়েতনামে অনেক পরিবার বেঁচে আছে। বাংলাদেশেও, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়নে দুই ধরনের ছোট জাতের নারিকেলগাছ আমদানি করা হয়েছে। মোট ৪০ কোটি এ খাটো জাতের নারিকেলগাছ লাগানোর পরিকল্পনা আছে সরকারের। নারিকেল গাছের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে মাল্টা, লাউ, করল¬া, দুন্দল, শশা শীতকালীন সবজী ও মাছের চাষ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহান।

ছয় মাস আগে ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে ভিয়েতনামের খাটো জাতের চারা কিনে রোপন করেন তিনি। বন্যা ও ঝড়ো হাওয়ায় এই নারিকেল গাছের কোনো ক্ষতি হবে না। চারা রোপণের তিন বছরের মধ্যে গাছে ফল পাওয়া যাবে। নারিকেল ও ডাবের চাহিদা পূরণে ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা খাটো জাতের নারিকেল গাছ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় লাগানো শুরু করেছে সরকার। ইতোমধ্যে সরকার দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ জাতের চারা রোপণ করেছে।

কৃষি মন্ত্রীর নির্দেশে খামারটি পরিদর্শন করার কথা জানিয়েছেন যুগ্ম সচিব ফরিদা জাহান। মাহফুজের এই মিশ্র খামারটি দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই অসংখ্য বেকার যুবক খামরটি দেখতে বেশাইন খান গ্রামে ছুটে যাচ্ছেন। তারা খামারের মালিক মাহাফুজুর রহমানের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এই ধরনের মিশ্র খামার করার পরিকল্পনা করছেন।

খামারের শ্রমিক আনসার আলী জানায়, এই নারিকেল খামারে নিয়মিত কাজ করছেন পাঁচজন শ্রমিক। এ খামার থেকে ইতোমধ্যেই সপ্তাহে দশ হাজার টাকা আয় হচ্ছে মাহফুজের। তিন বছর পরে তার এ খামারের নারিকেল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো যাবে।

‘এশা ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচার’ পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে ৮ হেক্টর জমি লিজ নিয়ে তিনি বিভিন্ন ফল সবজির বাগান করেছেন। অল্প সময়ে ও কম পরিচর্চয়া অধিক পরিমান ফলনের জন্যই খাটে জাতের নারিকেল চাষ করেছেন তিনি। ১০ বছর ধরে কৃষি পেশায় এ জেলায় ভুমিকা রেখেছেন তিনি। তার বাগানে চাষ হওয়া কৃষি পণ্য ও ফল জেলায় চাহিদা পূরন করে পার্শ্ববর্তী বিদেশেও রপ্তানী করা যাবে বলে মনে করেন তিনি। এ জাতের নারিকেল গাছের চারা চাষ করে বছরে ২৫/৩০ লক্ষ টাকা উপার্জন করা সম্ভব বলে জানান মাহফুজুর রহমান।

ঝালকাঠির সদর কৃষি কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আধুনিক প্রযুক্তিসহ আইপিএমের মাধ্যমে চাষিকে সহযোগিতা করে আসছি তাকে গাছের চারা সরবরাহসহ সর্বাত্তোক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শুক্কুর মোল্ল¬া বলেন, ঝালকাঠি তথা দক্ষিণাঞ্চলে মাহফুজ একজন ক্ষুদ্র সফল চাষি। তার ফসল সঠিকভাবে বাজারজাতের ব্যবস্থা করা গেলে দিন দিন সমৃদ্ধি লাভ করবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)