ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৭ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৩১ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৫ মুহাররম, ১৪৪১

কৃষি, বরিশাল ঝালকাঠির লবণ শিল্প: সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চান দেশীয় লবন মিল মালিকরা

ঝালকাঠির লবণ শিল্প: সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা চান দেশীয় লবন মিল মালিকরা

রহিম রেজা, নিরাপদনিউজ : নদী পথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম হওয়ায় ঝালকাঠিতে লবণ শিল্পের প্রসার ঘটেছিল। বর্তমানে লবণমিলগুলো বাজারের সেরা কোম্পানীগুলোর সাথে প্রতিযোগতিায় টিকে থাকতে পারছেনা। ব্যাংক ঋন সুবিধা না পওয়ায় মিলগুলো আধূনীকিকরন করতে পারছেনা মালিকরা। পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত ১৭টি লবণ মিলের মধ্যে টিকে আছে ১১টি। এ জেলার লবণ মিলগুলোতে এখনো সনাতন পদ্ধতিতে কক্সবাজার ও বাগেরহাট থেকে আনা কর্দমাক্ত লবণ শ্রমিকরা পানিতে হাত দিয়ে সোধন করে। সয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে লবণ সোধন না করতে পারায় পিছিয়ে পরছে লবন ব্যবসায়িরা। এজন্য তাঁরা ব্যাংক ঋনের বিরম্বনাকে দায়ি করছেন। মিলমালিকদের অভিযোগ বাজারের সেরা লবণ কোম্পনী গুলো লবণ সোধনে সোডিয়াম সলফেট ব্যবহার করে। যা লবণকে ধবধবে সাদা করে। ফলে ক্রেতারা সহজেই আকৃষ্ট হয়। কিন্তু এ ধরনের লবণ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তবে দেশীয় লবণ সোধনে ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। যা মনব দেহের জন্য উপকার। বর্তমানে টিকে থাকা মিল গুলো হচ্ছে শরীফ সল্ট , নিউ ঝালকাঠি সল্ট , আজাদ সল্ট , লাকি সল্ট , কোয়ালিটি সল্ট , দি ঝালকাঠি সল্ট , ক্রিসেন্ট সল্ট , ধানসিড়ি সল্ট , বরকত সল্ট ও তাজ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের কার্যক্রম চলমান আছে। বন্ধ হয়ে গেছে মিতালী, নূর, কুমিল্লা, মদিনা, মিনি ও সুরভী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ। লবণ মিল মালিকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ব্রিটিশ আমল থেকে ঝালকাঠিতে লবণের মোকাম ছিল। ঝালকাঠি থেকে বৃহত্তর ফরিদপুর, খুলনা, বরগুনা, পাথরঘাটা, ভোলা, যশোর. সাতক্ষিরা, কুষ্টিয়া, নওপাড়া, আশুগঞ্জ ও নারায়নগঞ্জে লবণ সরবরাহ হতো। এ কারণেই ঝালকাঠিকে দ্বিতীয় কলকাতা হিসেবে অধ্যুষিত করা হয়। ১৯৮২ সালের দিকে লবণ তৈরীর আধুনিকায়ন শুরু হলে ঝিমিয়ে পড়তে শুরু করে দেশীয় পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন । বঙ্গোপসাগরের অপরিশোধিত লবণ এ জেলায় এনে পরিশোধিত করা হয়। এছাড়া কক্সবাজার এবং বাগেরহাটের কর্দমাক্ত লবণ এনে ঝালকাঠিতে শোধন করে প্রয়োজনীয় আয়োডিন মিশিয়ে তা বাজারজাত করা হয়। কিন্তু দেশের কয়েকটি আধুনিক লবণ তৈরীর কারখানা হওয়ায় দেশীয় লবণের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লবণ উৎপাদন করে প্রতিষ্ঠানে বসেই বিক্রি করে। প্রত্যন্ত এলাকার দোকানীরা এসে ঝালকাঠি থেকে কিনে নেয়। কিন্তু বড় কোম্পানী গুলো তাদের জনবল ও গাড়ি দিয়ে বাজারের দোকানে লবণ পৌছে দেয়। সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি হলেও দেখতে দৃষ্টি নন্দন হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা ও আগ্রহ সেই লবণের দিকেই বেশি।সম্প্রতি সরেজমিনে শরীফ সল্ট , নূর সল্টসহ কয়েকটি লবণ মিলে গিয়ে দেখা যায় , মিলের ঘাটে কক্সবাজার থেকে আসা কয়েকটি সাম্পান ট্রলার অবস্থান করছে। ট্রলার থেকে শ্রমিকরা তরল লবণ মিলে গুধাম জাত করছে। আরেক দল শ্রমিক মিলের মধ্যে কয়েক ভাগে থাকা হাউজে কর্দমাক্ত লবন হাত দিয়ে পরিস্কার করছে। পরে মেশিনে সোধন করে আয়োডিন মিশ্রন করা হচ্ছে। সেখান থেকে অন্য শ্রমিকরা হাতে প্যাকেটজাত করছে। শরীফ সল্টের মালিক আবু সালেক শরীফ জানান, চীন থেকে ওষুধ তৈরীর সরঞ্জাম হিসেবে সোডিয়াম সলফেট আনা হয়। যা উন্নত কোম্পানী গুলো লবণ শোধনে ব্যবহার করে। যার ফলে লবণ সাদা ধবধবে হয়। মানবদেহের জন্য তা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। দেশীয় লবণ উৎপাদনে মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।প্রবীণ লবণ ব্যবসায়ী বরকত সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক মালিক ও সাবেক পৌর কমিশনার মোঃ হাবিবুর রহমান তালুকদার জানান, লবণের আদি সৃষ্টি ঝালকাঠি ও চাঁদপুরে। তখন কক্সবাজার ও বাগেরহাট থেকে কর্দমাক্ত চাকা লবণ এনে যাতাকলে ভেঙে লবণকে খাদ্যোপযোগী করা হতো। মানুষের খাদ্যে, পশু-প্রাণির খাবারে, বরফের মিল, লোহা তৈরীর কারখানা, কাগজের মিল, চামড়ার পচন থেকে রক্ষা করার জন্য লবণের ব্যবহার করা হয়। এজন্য স্বাস্থ্য সম্মত দেশীয় উৎপাদিত মোটা লবণ অপরিহার্য।মেসার্স রূপালী ভান্ডারের ব্যবস্থাপক সুভাষ মাঝি জানান, দেশীয় লবণ প্রতি কেজি ১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। উন্নত কোম্পানীর লবণ অস্বাস্থ্যকর হলেও তা প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। উন্নত কোম্পানী গুলো চাচ্ছে তাদের চাপে এই কারখানা গুলো বন্ধ হয়ে গেলে তারা ক্রেতাদের জিম্মি করে আরো চড়া দামে বিক্রি করতে পারবে। দেশীয় পদ্ধতিতে উৎপাদিত লবণ ক্রেতাদের ক্রয়সীমার মধ্যে রয়েছে।ঝালকাঠি জেলা লবণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ ফজলুল হক হাওলাদার জানান, আমাদের দেশীয় পদ্ধতিতে উৎপাদিত লবণে পরিমাণ মতো আয়োডিন এবং সোডিয়াম ক্লোরাইড ব্যবহার করা হয়। যা স্বাস্থ্য সম্মত এবং মানবদেহের আয়োডিন পূরণে ও রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। কিন্তু আমরা ব্যাংক ঋন সুবিধা না পাওয়ায় বড় মিল মালিকদের সাথে পাল্লা দিয়ে লবন উৎপাদনে টিকে থাকতে পারছিনা। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগীতা কামনা করছি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)