আপডেট ১০ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ বৈশাখ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৮ শাবান, ১৪৪০

সম্পাদকীয় ঝুঁকিতে দুই কোটি শিশু: এদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করুন

ঝুঁকিতে দুই কোটি শিশু: এদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করুন

নিরাপদ নিউজ: দুর্যোগ-দুর্বিপাকের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি বহু পুরনো। বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে নিয়মিত ব্যাপার। সেই সংকট ক্রমেই আরো প্রকট হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। যুক্ত হচ্ছে সংকটের নতুন নতুন মাত্রা। গত শুক্রবার জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতেও উঠে এসেছে সংকটের গভীরতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি শিশু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের পরিবারগুলো ক্রমবর্ধমান হারে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে। শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিশুরা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর কথা স্বীকার করে তা আরো সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বাংলাদেশে প্রধানতম ঝুঁকি হচ্ছে বন্যা। বেশির ভাগ নদী ভরাট হয়ে গেছে কিংবা নদীর গভীরতা এত কমে গেছে যে বর্ষায় বৃষ্টি ও উজানের পানি নদী দিয়ে নামতে পারে না। তখন আশপাশের জনপদগুলো ভাসিয়ে দেয়। এভাবে প্রতিবছর বাংলাদেশের একটি বড় অংশ বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। এতে প্রতিবছরই হাজার হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়। ঘরবাড়ি ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারগুলো আর্থিক অনটনে পড়ে। তা ছাড়া এসব এলাকার সুপেয় পানির প্রধান ও একমাত্র উৎস নলকূপগুলো দূষিত হয়ে পড়ে। দেখা দেয় ব্যাপক হারে ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগ।

শিশুরাই আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বন্যার কারণেই প্রবল ঝুঁকিতে আছে এক কোটি ২০ লাখ শিশু। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে ৪৫ লাখ শিশু। লবণাক্ততার কারণে গর্ভবতী মায়েরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার কারণে আরো প্রায় ৩০ লাখ শিশু প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের একটি বড় অংশই পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়ে বড় বড় শহরে আশ্রয় নেয়। এসব শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, পারিবারিক অনটনে এদের পুষ্টির চাহিদা মেটে না, শিশুশ্রম বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়, পাচারের শিকার হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেয়েশিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায়ই তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং পরিবারগুলো তাদের অপরিণত বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়।

দেশের এক-তৃতীয়াংশ শিশুকে এমন ঝুঁকির মধ্যে রেখে আমাদের উন্নয়নকে কতটা গতিশীল করা যাবে। আজকের শিশুরা আগামি দিনের বাংলাদেশÑএটা কথার কথা নয়। দেশের এক-তৃতীয়াংশ শিশু যদি অপুষ্টিতে থাকে, রোগাক্রান্ত ও দুর্বলভাবে বেড়ে ওঠে কিংবা অশিক্ষিত ও অদক্ষ থাকে, তাদের কাছে দেশ কী আশা করতে পারে। এই শিশুরা যাতে বাস্তুচ্যুত না হয়, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে, রাষ্ট্রকেই তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)