ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জানুয়ারী ১৩, ২০১৭

ঢাকা শুক্রবার, ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

ধর্মকর্ম, লিড নিউজ টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু: ৫ জনের মৃত্যু

টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু: ৫ জনের মৃত্যু

টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু

১৩ জানুয়ারি ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : টঙ্গীর তুরাগ তীরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার ফজরের নামাযের পর ভারতের মাওলানা ওবায়দুল খোরশেদের বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তরজমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা জাকির।

অর্ধশতাধিক দেশের কয়েক হাজার বিদেশি মেহমান ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৭টি জেলার মানুষ এই পর্বে অংশ নিচ্ছেন। শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুম্মার জামাত।

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৮৭টি দেশের ছয় হাজার ৮৮৭ জন বিদেশি ইজতেমা মাঠে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, গতকাল সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ মুসুল্লির মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন টাঙ্গাইলের জানু ফকির, মানিকগঞ্জের সাহেব আলী, ময়মনসিংহের নান্দাইলের মারুয়া গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে ফজলুল হক, কক্সবাজারের হোসেন আলী ও সাতক্ষীরার আব্দুস সাত্তার। এসব ব্যক্তি বার্ধক্যজনিত ও অসুস্থতায় ভুগে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

ইজতেমার মূল বয়ান মঞ্চ থেকে জ্যৈষ্ঠ মুরুব্বিরা আগত মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাষায় আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশিত ইসলামী বিধানের উপর দিক নির্দেশনামূলক গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করছেন।

প্রথম পর্বে দেশের ১৭টি জেলা থেকে আগত মুসুল্লিরা ভোর থেকে বয়ান শুনছেন। ইজতেমার নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জঙ্গি হামলা বিষয়টি মাথায় রেখে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

ইজতেমা মাঠের দায়িত্বে নিয়োজিত গিয়াসউদ্দিন জানান, আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে রবিবার প্রথম পর্বের ইজতেমা শেষ হবে। এর চার দিন পর আগামী শুক্রবার শুরু হওয়ার কথা ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জমায়েত ‘বিশ্ব ইজতেমা’ হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টঙ্গীর বিভিন্ন মৌজায় ইজতেমার জন্য ১৬০ একর জমি বরাদ্দ দেন।

চাপ কমাতে ২০১১ সাল থেকে ইজতেমাকে দুই পর্বে বিভক্ত করা হয়। তার পরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১৫ সাল থেকে দেশের অর্ধেক জেলা প্রথম দুই ধাপে এবং বাকি অর্ধেক জেলা পরের বছর দুই ধাপে অংশ নিয়ে আসছে।

ইজতেমায় দেশের বাংলাদেশ ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা হাজির হয়েছেন। প্রতিবারের মতো এবারও ইজতেমা মাঠের উত্তর-পশ্চিমাংশে বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষভাবে টিনের ছাউনির মাধ্যমে পৃথক কামরা তৈরি করা হয়েছে।

ইজতেমা উপলক্ষে সব ধরনের সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ইজতেমা উপলক্ষে চালু করা হয়েছে বিশেষ রেল সার্ভিস। এছাড়া বুধবার থেকে বিআরটিসি বিভিন্ন রুটে ২২৮টি স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করেছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)