ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ১৩, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ বৈশাখ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৮ শাবান, ১৪৪০

বিনোদন, লিড নিউজ টেলিসামাদকে নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের স্মৃতিচারণ…

টেলিসামাদকে নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের স্মৃতিচারণ…

নিরাপদ নিউজ: পরিবারের একজন সদস্য হারালে যেমন হৃদয় ভেঙে চৌচির হয়ে যায় তেমনি আমরা চলচ্চিত্র পরিবারের কারও বিয়োগে একই ব্যথা অনুভব করি। স্বজন হারানোর বেদনা কতই কঠিন তা আমি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারি। এই বেদনা যে ক্ষতের সৃষ্টি করে তা কখনই নিরাময় হয় না। আমি টেলি সামাদের সঙ্গে খুব একটা বেশি ছবিতে অভিনয় করিনি। আমার বেশিরভাগ ছবির কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করতেন দিলদার, ইদ্রিস, সুরুজ বাঙ্গালী, ববি প্রমুখ। তারপরও যে কয়টি ছবিতে অভিনয় করেছি সহশিল্পী হিসেবে চমৎকার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কখনও বোঝা যেত না এ সম্পর্ক অল্প দিনের। মজার মানুষ ছিলেন তিনি। তবে তার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল, চরিত্র কৌতুক হলেও পর্দায় তা সিরিয়াস রূপ ধারণ করাতে পারতেন। তাই আমার পছন্দের একজন মানুষ ছিলেন।

আমি টেলি সামাদকে কখনই কৌতুক অভিনেতা বা কৌতুক সম্রাট বলতে রাজি নই। তিনি ছিলেন ভার্সেটাইল প্রতিভার একজন মানুষ। একাধারে চিত্রশিল্পী, গায়ক, অভিনেতা, প্রযোজক- আরও কত কী। তার বাসায় আমার বেশি যাওয়ার সুযোগ হয়নি। একবার কি দুইবার গিয়েছি। তার আঁকা কিছু ছবি আমি দেখেছি, যা আন্তর্জাতিক মানের। এসব থেকেই তার শিল্পবোধের পরিচয় পাওয়া যায়। আমার মতে তিনি একজন উঁচু মানের চারুশিল্পী ছিলেন। হবেনইবা না কেন? দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে তিনি পাস করেছিলেন। তার কণ্ঠে অসম্ভব জাদু ছিল। তিনি ছিলেন চমৎকার একজন গায়ক। গলার কারুকাজে ছিলেন অসাধারণ। তার গাওয়া ‘দিলদার আলী আমার নাম…’ গানটি আমি এখনও মাঝে মাঝে গেয়ে উঠি। এরকম অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গায়ক তিনি।

টেলি সামাদের অভিনয়ের কথা কী বলব। তিনি শুধু যে কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করতেন তাও নয়, তিনি ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। অভিনয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছিলেন বলেই সারা বাংলার ঘরে ঘরে তিনি পৌঁছে যেতে পেরেছিলেন। আমি মনে করি পর্দায় তিনি ভাঁড়ামি করতেন না, অভিনয় করতেন। তার অভিনয়ের সময় কথা বলার ধরন, ভঙ্গি তাকে সব সময় আলাদা করে রেখেছে।

একজন মানুষ হিসেবেও তিনি ছিলেন মানবিক গুণাবলীর অধিকারী। কখনই রাগতে দেখিনি তাকে। যখন যেখানে থাকতেন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে থাকতে পারতেন। তার আরেকটি অসম্ভব সুন্দর গুণ ছিল, সহজেই তিনি যে কাউকে আপন করে নিতে পারতেন। কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াতেন না। সবচেয়ে ভালো লাগত, তিনি ছিলেন নিজের সম্পর্কে বেশ সচেতন। যে কারণে দেখবেন কখনই তার অবয়বে পরিবর্তন আসেনি। সারা জীবন স্লিম থেকে গেছেন। তাকে একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ মনে হতো। শুটিং কিংবা আড্ডায় হাসি-ঠাট্টায় আমাদের সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যেত। টেলি সামাদের মতো এ রকম একজন চমৎকার মনের মানুষের বিদায়ে চলচ্চিত্র শিল্পের অনেক ক্ষতি হল। এমন ভার্সেটাইল প্রতিভার মানুষ খুব সহজে জন্ম নেয় না। চলচ্চিত্রে কৌতুক অভিনেতা আরও আসছে, আসবে। কিন্তু তার মতো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ এখনও আসেনি। ভবিষ্যতে আসবে কিনা জানি না। আমি মনে করি কেউ তার শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবে না। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

সহশিল্পী টেলিসামাদকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক কথাগুলো বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন ষষ্ঠ গ্লোবাল মিটিং অন রোড সেফটি সেমিনারে অংশ নিতে বর্তমানে গ্রিসে অবস্থান করছেন। ৯ থেকে ১৩ এপ্রিল অনুষ্টিত এই সেমিনারটির আয়োজন করেছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব এনজিওস ফর রোড সেফটি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)