ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট অক্টোবর ১৬, ২০১৯

ঢাকা শুক্রবার, ৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৪ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস, নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ ট্রাফিক আইন মানার শপথ নিলো ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা

ট্রাফিক আইন মানার শপথ নিলো ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা

নিরাপদনিউজ : ট্রাফিক আইন মানার শপথ নিলো ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ট্রাফিক অইন মানব, আইন মেনে সাবধানে পথ চলব, নিজে সচেতন হবো অন্যকে সচেতন করব নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে এমন বাক্য পাঠ করে শপথ গ্রহন করলো ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। আজ ১৬ অক্টোবর, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ মিলনায়তনে বেলা ১.৩০ মিনিটে নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা এই শপথ পাঠ করেন।

নিরাপদ আগামী এবং নিশ্চিত জীবন গড়তে সমাজের বিবেকবান প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। এ জন্যে আগামী প্রজন্মকে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষ নিজের দায়িত্ব এবং কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হলে তাদের সন্তানরা সড়কে চলাচলে সচেতন হিসেবে গড়ে উঠবে। আর এই সচেতনতা আসতে হবে তৃণমূল পর্যায় থেকে। এই লক্ষ্যেই নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। আজকের শিশু আগামীদিনের ভবিষ্যৎ। তরুণ প্রজন্মই পারবে জাতিকে সড়ক দুর্ঘটনার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে। এরই আলোকে সচেতনতামূলক এই কর্মসূচি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র পক্ষ থেকে অব্যাহত রয়েছে।

নিসচা বিশ্বাস করে সকলের সহযোগিতায় সড়ককে নিরাপদ করা সম্ভব। এই বিশ্বাস নিয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ২৬ বছর ধরে রাজপথে সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যত প্রজন্মকে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে নিসচা তার সারাদেশের ১২০টি শাখা সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্কুলে এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে। নেতৃবৃন্দ নির্দিষ্ট স্কুলে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করাসহ, বিভিন্ন স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পথচলা, গাড়ীতে উঠার নিয়মসহ যাবতীয় বিষয়াদি অবহিত করার কর্মসূচি সফলভাবে পালন করে আসছে।

ভবিষ্যত প্রজন্মকে দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কেন্দ্রীয়ভাবে বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের দিকনির্দেশনামূলক পালনীয় এবং করণীয় বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায়  এবং আসছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে নিসচার মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ১৬তম দিনে নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ কর্মশালা রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন হাসিনা বেগম,সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সিনিয়র কো অর্ডিনেটর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ।প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল মহাসচিব- নিরাপদ সড়ক চাই। শিক্ষার্থীদের মাঝে দিকনির্দেশনা মুলক বক্তব্য রাখেন, লিটন এরশাদ,যুগ্ম মহাসচিব- নিরাপদ সড়ক চাই ও আহবায়ক- জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন কমিটি, এস এম আজাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক- নিরাপদ সড়ক চাই ও সদস্য সচিব- জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন কমিটি, মঞ্জুলী কাজী, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- নিরাপদ সড়ক চাই, ফিরোজ আলম মিলন, দপ্তর সম্পাদক- নিরাপদ সড়ক চাই। পুরো অনুষ্ঠান সমন্বয়ক ছিলেন ফিরোজ আলম মিলন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্কুলের শিক্ষার্থী নওশীন নাওয়ার নিভা ও রিদনীন ইমরান রীজ। শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন স্কুলের শিক্ষার্থী আরজুমান্দ রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি,স্কুল প্রশিক্ষার্থী ইউনিটের প্রধান সাকিব হোসেন, আসাদুল ইসলাম আসাদ, মো: আনোয়ার হোসেন শাকিল, জান্নাতুল ফেরদৌস নিশি, সাধারণ সদস্য, আনজুমান আরা তন্বি, রাইসিন গাজী।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন শিক্ষার্থীদের আগামীদিনের নেতা উল্লেখ করে বলেন, তোমাদের হাতে দেশের ভবিষ্যত। তোমাদেরকে দেশের আইন,নিয়ম-কানুন বিশেষ করে সড়কে চলার,যানবাহন ব্যবহার করার নিয়ম কানুন জানতে হবে,মানতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে,পরিবারের এবং প্রতিবেশীদের সচেতন করতে হবে।

সড়কে নিরাপত্তায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতা দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক। এজন্য নিজেকে বদলাতে হবে, তাহলে দেশ বদলে যাবে। সড়কে নিরাপত্তায় দেশের সকল নাগরিকদের দায়িত্ব রয়েছে,নিজ নিজ জায়গা থেকে সে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন,দেশ প্রেম মানে কি? দেশকে শুধু ভালোবাসলেই হবেনা। নিজের কাজ সঠিক ভাবে পালন করতে হবে। সমাজ উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে হবে। সেটাই হলো প্রকৃত দেশ প্রেম। তোমাদের সেই দেশ প্রেমিক হিসেবে গড়ে উঠতে হেবে। নিজের দায়িত্ব নিজেকে পালন করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে তোমাদের গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের সড়ক চলাচলে সাবধানতা অবলম্বন করার আহবান জানিয়ে বলেন, যেখান সেখান দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়া যাবে না,মনে রাখবে রাস্তা একটি অত্যন্ত বিপদজনক জায়গা। এখানে প্রতিমূহুর্তে চলমান ভুত চলাচল করে। সামান্য অসাবধানতায় এই ভুত পিষ্ট করে দিয়ে যাবে।

পরিশেষে তিনি শিক্ষার্থীদের শপথ করান আমি তোমাদের যে সমস্ত কথা যে বিষয়গুলো বুঝিয়ে দিলাম তোমরা কি আমার সেই কথাগুলো মেনে চলবে। শিক্ষার্থীরা সবাই এক বাক্যে উচ্চকন্ঠে হাত তুলে বলেন হ্যা আমরা মেনে চলব। আমরা ট্রাফিক আইন মানব।

কর্মশালায় শিক্ষর্থীরাও সড়কে চলার নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা সড়কে ইচ্ছা থাকার পরও নিয়ম মেনে পথ চলতে পারে না বলে নানা অভিযোগ করেন। তাঁরা বলেন আমরা নিয়ম মেনে পথ চলতে চাই আমরা চাইনা দুর্ঘটনায় আমাদের কোন ক্ষতি হোক কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় আমাদের অভিভাবকরা আমাদের সে বিষয়ে সাহায্য করেন না বরং তাঁরা তাড়াহুরো করে পথ চলবে আমাদেরও সাথে নিয়ে সেই তাড়াহুরো করবে। অনেক সময় সড়কে যানজট থাকার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে স্কুলে পৌছতে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আমরা অনিচ্ছাকৃত ভাবে সড়কে তাড়াহুরো করতে বাধ্য হই। সেই সাথে শিক্ষার্থীরা জানান আমাদের স্কুলটির সামনে আমাদের নিরাপদে চলাচলের কোন সুযোগ নেই। এখানে যে ফুটপাত আছে তা সব সময় দখল হয়ে থাকে। অনেক পুরুষ অভিভাবক ফুটপাতে দাড়িয়ে ধমপান করেন। এসব নানা কারণে আমরা ফুটপাত ব্যবহার করতে পারিনা। শিক্ষার্থীরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেন এসব বিষয়গুলো নিয়ে যেন স্কুল কমিটি দ্রুত সমাধানমুলক পদক্ষেপ গ্রহন করেন।

কর্মশালা শেষে নিসচার পক্ষ থেকে জানানো হয়,আজ সুন্দর শুশৃংখলভাবে একটি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্য করা হলো। এই শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় শিক্ষার্থীরা ধর্যের সাথে ২.৩০মিনিট মনোযোগ দিয়ে আমাদের প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছে। এবং শিক্ষার্থীদের কথায় আমরা যেটুকু জেনেছি তাঁরা অনেকটা সচেতন। আমরা আশা করি এই শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে আরো অনেক সচেতন হবে এবং দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে উঠবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)