ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট December ২, ২০১৬

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

রংপুর ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দু-দেশের স্বজনদের মিলন মেলা

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দু-দেশের স্বজনদের মিলন মেলা

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দু-দেশের স্বজনদের মিলন মেলা

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দু-দেশের স্বজনদের মিলন মেলা

গোলাম সারোয়ার সম্রাট, ০২ ডিসেম্বর ২০১৬, নিরাপদ নিউজ :  গত শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কোঁচল ও চাঁপাসার এবং ভারতের নাড়গাঁও ও মাকারহাট সীমান্তের তাঁরকাটার এপার-ওপারে প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দুই বাংলার লাখো মানুষের উপস্থিত যেন মিলন মেলায় পরিণত হয়। বর্ষ পুঞ্জিকা অনুযায়ী হিন্দু সম্প্রদায় প্রতি বছর পাথরকালী পুজা উপলক্ষে মেলা উদযাপন করে থাকেন। আর এ পুজা উপলক্ষে প্রতি বছরে এই দিনে দূরদূরান্ত থেকে দু-দেশের স্বজনরা ভীর জমায় সীমান্তের ৩৪৫ ও ৩৪৬ নম্বর পিলার এলাকায়। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শুক্রবার সকাল থেকে দূরদূরান্ত থেকে দু-দেশের স্বজনরা সীমান্তে সমবেত হতে থাকে। স্বজনদের সাথে দেখা ও কথা বলার জন্য সকাল থেকে সীঁমান্তের এপার-ওপারে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় দু-দেশের হাজার হাজার মানুষকে। শেষ পর্যন্ত দুপুর ১২ টায় স্বজনদের ধরে রাখতে পারেনি দু-দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী। তাঁরকাটার গেট না খুললেও অনানুষ্ঠানিকভাবেই তাঁরকাটার এপারে-ওপারে দাড়িয়ে স্বজনদের দেখা ও কথা হয় একে অপরের সঙ্গে। আদান-প্রদান হয় নানা রকমের খাদ্য ও পণ্য সামগ্রী। স্বজনদের সাথে দেখা করতে আসা পাশের জেলার কাহারল উপজেলার বাসিন্দা হাজেরা বেগম (৬৫) জানান, এবার দেখা করেছেন তার ছোট ভাই মুসার সঙ্গে। স্বাধীনতার সময় আমার বিয়ে হয়। সর্বশেষ ২০ বছর আগে বাবা-মা ও ভাই-বোনদের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ২০ বছর পর আজ ভাই-বোনদের সাথে দেখা পেয়ে খুব আনন্দিত হয়েছি। ভারতের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা রহিমা, শাকির. মাজেদা, লক্ষীরানী, গিতাদেবী সরেন মাড্ডীসহ একাধিক ব্যক্তি তাঁরকাটার এপার-ওপারে দাড়িয়ে নিজনিজ স্বজনদের সাথে কথা বলে এবং কাটাতাঁরের ফাঁক দিয়ে মিষ্টি ও কাপড়-চোপড় দিতে পেড়ে আনন্দর অনুভুতির কথা ব্যক্ত করেন। হরিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুছ বলেন, কড়া প্রহরা সত্ত্বেও অনেকে তাঁরকাটার এপার-ওপারে দাড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে কথা বলেছেন ও খাদ্য বিনিময় করা ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে পাথরকালী পুঁজা কমিটির সভাপতি নগেন কুমার পাল বলেন এবার স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি ও বিএসএফ’র পক্ষ থেকে সীমান্তে সমবেত হতে বাধার না দেওয়ার কারণে অন্য বছরের তুলনায় এবার দু-দেশের স্বজনরা সহজেই তাঁরকাটার এপার-ওপারে দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন ও খাদ্য বিনিময় করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)