ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৭ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ সফর, ১৪৪১

সম্পাদকীয় ডঃ কামাল হোসেন আসুন আয়নায় দেখি

ডঃ কামাল হোসেন আসুন আয়নায় দেখি

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

অতি সম্প্রতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন দেশের শাসন ক্ষমতা লুটেরাদের হাতে চলে গেছে। ড. কামাল হোসেন আরো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন- প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দিয়ে জানাবেন দেশের আদালতগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। ড. কামাল হোসেন একজন আইন বিশেষজ্ঞ। দেশের সাবেক আইনমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ছিলেন; বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাও বটে। সোজাসুজি বললে ভুল হবে না যে, ড. কামাল হোসেনের আইন বিশারদের বাইরে যতটুকু অর্জন তার সবটাই বঙ্গবন্ধুর উদারচেতা দৃষ্টিভঙ্গির দান। আমি এ ক্ষেত্রে করুণা শব্দটি ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের দৃষ্টিভঙ্গিকে খাটো করতে চাইনি। তবে ১৯৭৫ এর পরবর্তী থেকে অদ্যাবদি ড. কামাল হোসেনের রাজপথে মেহনতি মানুষের পক্ষে, নিষ্পেষিত মানুষের হয়ে কোনো উল্লেখ্যযোগ্য অবদান খুঁজে পাওয়া যাবে না। দেশের বিপদে-আপদে, অসময়ে তার দেখা পাওয়া দুঃষ্কর হয়ে পড়ে। তার রাজনীতিক ক্ষেত্র বিশ্লেষণ করলে ভালো কোনো দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না।
ডঃ কামাল হোসেন বর্তমান শাসক শ্রেণীকে লুটেরা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তার কথাতে একবারও বলেননি বর্তমান রাজনীতিক পরিমণ্ডলে যাঁরা অবস্থান করছেন তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কি ধরণের। তিনি বলেন নি তার নিজস্ব রাজনীতিক দলের মাঝে অবস্থানরত নেতৃবর্গ কোনো শ্রেণির প্রতিনিধীত্ব করেন এবং তাদের অতীত প্রোফাইলে মেহনতি জনতার প্রতিনিধীত্বকারী কতজন তার দলে অবস্থান করছেন। ড. কামাল হোসেন অনেক কথাই বলেন; থেকে থেকেই কথা বলেন;তবে সেটা নিজের ওপর ভরসা করে বলেন না। কারো না কারো ওপর নির্ভরশীলতা কথা বলতে উৎসাহ যোগায়। কয়েকদিন আগে মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মুনসুর, আ,স,ম,আব্দুর রবের কাঁধে ভর করে বলেছিলেন “তাদেরকে সাথে পেয়ে জীবন ধন্য হয়ে গেছে”। ড. কামাল হোসেনকে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় এরশাদ সাহেবের গৃহপালিত বিরোধী দলীয় নেতা আ,স,ম আবদুর রব “কোন গোয়ালের গরু”। সুলতান মনসুর, মান্না সাহেবদের রাজনীতিক চরিত্র বিশ্লেষণ করতে হলে ফিরে যেতে হবে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের কয়েক দশকের রাজনীতিক প্রেক্ষাপটে। তাদের রাজনীতিক চাল-চিত্র মোটেই সুখকর নয়। ড. কামাল হোসেন একসময় জেনারেল এরশাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন। অতি সম্প্রতি সেই এরশাদের সাথেও রাজনীতি মিত্রতা করার পথে পা বাড়িয়েছিলেন; তার দুর্ভাগ্য সেটাও তার হয়ে ওঠেনি। ড. কামাল হোসেন উস্কে দিয়েছিলেন ড. ইউনুসকে আমেরিকার শুভ দৃষ্টি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে। সেখানেও তার সুবিধা হয়ে উঠেনি। সুবিধাবাদী এমন কোনো পথ নেই ক্ষমতায় যাওয়ার তাড়না থেকে সেই সব পথ ড. কামাল হোসেন মাড়িয়ে আসেন নি। ড. কামাল হোসেন কাউকে লুটেরা বলার আগে তাকে ভাবতেই হবে তিনি কোনো শ্রেণির লোক। ড. কামাল হোসেন যদি লুটেরাদের বিরুদ্ধে লড়ার ইচ্ছাই করেন; তবে লুটেরা শ্রেণির রাজনীতি পরিহার করে অন্তত একবার প্রমাণ করুন আপনার জন-সম্পৃক্ততা। পরের জোয়াল ধরে টানাটানি না করে লুটেরা শ্রেণির বিরুদ্ধে নিজে জোয়াল বাঁধুন। ৪০ বছরের গজিয়ে ওঠা লুটেরা শ্রেণির রাজনীতির বিরুদ্ধে গড়ে তুলুন আপনার নিজস্ব মতবাদ। লুটেরা শ্রেণির সাথে সহবাস করে প্রতিপক্ষকে লুটেরা বলে গালমন্দ করা ড. কামাল হোসেনের মুখে বড়ই বেমানান লাগে।
আদালতে অনিয়ম হচ্ছে এটা সত্য। হাজারো অনিয়মের মাঝে আদালতের অনিয়ম একটি অংশ মাত্র। হাজারো অনিয়মের দায় ড. কামাল হোসেন সাহেবগন অস্বীকার করবেন কেমন করে? সুবিধাবাদী গোষ্ঠি, লুটেরা শ্রেণির রাজনীতির ফসল হলো এই সমস্ত অনিয়ম। অনিয়মের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি উৎকন্ঠিত এটা সকলেই জানি। ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতি আদালতের অনিয়ম নিয়ে কথাও বলেছেন। ড. কামাল হোসেন প্রধান বিচারপতির জবাবে জনগণের নিকট যা কিছু জানাবেন; জনগণ সে সম্পর্কে ভালই জানেন; তাতে ড. কামাল হোসেনের কোনো ফায়দা হবে বলে মনে হয় না।
ডঃ কামাল হোসেন বাংলাদেশের এমন একজন নক্ষত্র; যিনি আলোকিত হতে চান অপরের জ্যোতিতে। দীর্ঘ জীবনধারা পেরিয়ে এসে জীবনের স্বাদ নেয়ার অদম্য বাসনা থেকে ঠাঁই খুঁজে বেড়াচ্ছেন যেখানে-সেখানে। বিদ্বান হলেই বুদ্ধিমান হবেন; জ্ঞানী হবেন কিংবা মানব কল্যাণের অবতার হবেন এমন কোনো কথা নেই; তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলেন ড. কামাল হোসেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)