ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুন ১৩, ২০১৮

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

সম্পাদকীয় ঢাকার নিয়তি যানজট

ঢাকার নিয়তি যানজট

নিরাপদনিউজ: ঢাকার যানজট এখন আর খবরের বিষয় নয়, এটা নিয়তি। এই নিয়তিকে মেনে নিয়েই চলতে হয় রাজধানীর বাসিন্দাদের। যানজটের মাত্রার কিছু হেরফের অবশ্যই হয়, যেমন সকাল-সন্ধ্যা অফিসে যাওয়ার সময় বা অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময়, দুপুরে স্কুল-কলেজ ছুটির সময় মাত্রা বেশি থাকে।

রোজার মাসে দুপুর-সন্ধ্যার সাময়িক মাত্রা হ্রাসের বিষয়টিও থাকে না। রাশ আওয়ারে মতিঝিল থেকে উত্তরা যেতে তিন ঘণ্টা সময় ধরে নিতে হয়। এখন লাগছে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। গুলিস্তান থেকে মিরপুর-১২ যেতে লাগে দেড়-দুই ঘণ্টা, এখন লাগছে সাড়ে তিন ঘণ্টা। কিছু পয়েন্টে আধাঘণ্টা বা ৪০ মিনিট অনড় বসে থাকতে হয়।

ভ্যাপসা গরমে সিদ্ধ হতে হতে অপেক্ষায় থাকতে হয়। রোজার মাসে, সাধারণত ১৫ রোজার পরে দুপুর দেড়টা বা ২টা থেকে দুঃসহ যানজট তৈরি হয়, যা থেকে ইফতারের আগে পর্যন্ত মুক্তি নেই। রাত ৮টার দিকে আবার যান চলাচলে জট বাঁধে, চলে রাত ১২টা পর্যন্ত।

ঢাকায় গাড়ির সংখ্যা (বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি) ক্রমবর্ধমান, ফলে রাস্তায় চাপ বাড়ছেই। বিভিন্ন আকৃতি-প্রকৃতির যান থাকায় গতির সমতা রক্ষা করা যায় না। চালক, যাত্রী বা পথচারীর মধ্যে আইন অমান্যের ঝোঁক রয়েছে; মান্য করানোর ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশ তেমন তৎপর নয়। ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে বের হওয়া মানুষের বাড়তি চাপও রয়েছে।

বাস নির্দিষ্ট স্থানে থামে না। গাড়িগুলোর বেশির ভাগ ইচ্ছামতো এদিক-ওদিক দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে। এসব কারণে যানজট আরো বাড়ে। কোথাও দুর্ঘটনা (ছোট বা বড়) ঘটলে তো কথাই নেই। অনেক রাস্তায় যানজটের কারণ খানাখন্দ। কোনো রুটে মেট্রো রেলের কাজ চলছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাস্তা কেটে তাদের সার্ভিস লাইন সারাচ্ছে, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি চলছে।

অবশ্য ঢাকার রাস্তায় কাটাকাটি-খোঁড়াখুঁড়ি সারা বছর ধরেই চলে। এসবের ফলে যানজট বাধে। ফুটপাতের ওপর দোকানপাট, মার্কেটগুলোতে পার্কিং স্পেস না থাকা ঢাকায় যানজটের কারণ বলে শেষ করা যাবে না।

ম্যানুয়াল ট্রাফিক কন্ট্রোলও বড় একটি সমস্যা, সঙ্গে রয়েছে কিছু অসাধু ট্রাফিক পুলিশের গাড়ি আটকে সালামি জোগাড়ের ধান্দা। সার্বিকভাবে বিবেচনা করে দেখলে বলতে হয়, নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতাই যানজট নামক অভিশাপের মূল কারণ। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে রাস্তার পাশ ঘেঁষে মার্কেট, শপিং মল, হাসপাতাল ও রেস্তোরাঁ বসানো বন্ধ করতে হবে।

সেবা সংস্থাগুলোকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত পরিবহনের চেয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থায় নজর বেশি দিতে হবে। ডিজিটাল ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম পুরোদমে চালু করতে হবে। যত দ্রুত এদিকে নজর দেওয়া হবে ততই মঙ্গল।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)