আপডেট ১৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৭ মুহাররম, ১৪৪১

ক্রিকেট, লিড নিউজ তৃতীয় ম্যাচে টাইগারদের পরাজয়

তৃতীয় ম্যাচে টাইগারদের পরাজয়

নিরাপদ নিউজ:  ২০১৯ বিশ্বকাপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। শনিবার (৮ জুন) টস জিতে বোলিং নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। কার্ডিফে ম্যাচ শুরু বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায়।

বাংলাদেশের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচে সাবধানি শুরুই করেছিলো ইংলিশরা। প্রথম ম্যাচে জেতার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে চাপে ছিল তারা। শুরুর ৫ ওভারের ব্যাটিংয়ে তা প্রভাবও ফেলেছিলো। সাকিবের ঘূর্ণিতে শুরুতে তাদের আটকে ফেলবার জাল বিছানো গেলেও ধীরে ধীরে ওপেনিং জুটি সেখান থেকে নিজেদের মুক্ত করে নেন। বরং তাদের আগ্রাসী সূচনা বড় স্কোরের মঞ্চ গড়ে দেয় ইংলিশদের। এমনকি ওপেনিং জুটি শুরুতে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দেখা দেয় বাংলাদেশ শিবিরে। ২০তম ওভারে মাশরাফি মুর্তজা ব্রেক থ্রু এনে দিলেও ইংলিশদের চাপে ফেলা যায়নি। ৫১ করে ফিরেছেন বেয়ারস্টো।

এই ওপেনিং জুটিই অসাধারণ শুরুর রসদ এনে দেয় ইংল্যান্ডকে। ওপেনিং জুটিতে জেসন রয়ের দ্রুত গতির হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে রানের চাকা সচল থাকে শুরু থেকে। অবশেষে এই জুটি ভেঙে স্বস্তি ফেরান মাশরাফি। বল কিছুটা লাফিয়ে ওঠায় এজ হয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের অসাধারণ ক্যাচে সাজঘরে ফিরতে হয় ধীরে গতিতে হাফসেঞ্চুরি তোলা বেয়ারস্টোকে।

তবে অপরপ্রান্তে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে খেলে নবম সেঞ্চুরি তুলে নেন জেসন রয়। বিদায় নেওয়ার আগে ১২১ বলে করেন ১৫৩ রান। অপরপ্রান্তে জো রুট কিছুক্ষণ সঙ্গী হলেও কার্যকরী কিছু করতে পারেননি। সাইফউদ্দিনের বলে ইনসাইড এজে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ২১ রানে।

মাঝখানে রয়ে সয়ে খেলে হঠাৎ ঝড় তোলা শুরু করেছিলেন ওপেনার রয়। ৩৫তম ওভারে মিরাজকে টানা তিন ছয়ে গ্যালারি মাতিয়ে তুলেছিলেন। ছক্কার ঝড়ে ১৫৩ রান পূরণও করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত এই ওভারের চতুর্থ বলে তাকে মাশরাফির তালুবন্দী করিয়েছেন মিরাজ।

সেট ব্যাটসম্যানরা ফিরে গেলে পেরে ইংলিশদের রানের চাকা চাহিদা মেনে এগিয়ে নেওয়ার কাজটা সঠিকভাবে করেছেন জস বাটলার ও অধিনায়ক এউইন মরগান। ঝড়ো গতিতে খেলে বাটলার রান তুলতে থাকেন ঠিকই। কিন্তু শেষ পাওয়ার প্লেতে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠার আগে তাকে সাজঘরে ফিরিয়েছেন সাইফউদ্দিন। ২টি চার ও ৪ ছয়ে বাটলার ফেরেন ৬৪ রানে। অপর প্রান্তে রয়ে সয়ে খেলেন মরগান।

অবশ্য বাটলারের বিদায়ের পর হঠাৎ আসা যাওয়ার মিছিল ছিলো তাদের ইনিংসে। শুরুটা হয় ইংলিশ অধিনায়ককে দিয়েই। ৩৩ বলে ৩৫ রান করে ফেলা এই তারকা হাত খোলবার আগেই ফিরে গেছেন সাজঘরে। ৪৭তম ওভারে তাকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। আগ্রাসী বেন স্টোকসও হাত খুলতে পারেননি। মোস্তাফিজুর রহমানের বলে মাশরাফিকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬ রানে। শেষ দিকে প্রত্যাশিত রানের ঘোড়াটা ছোটাতে না পারার ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে ভূমিকা রাখেন মূলত পেসার ক্রিস ওকস ও লিয়াম প্লাঙ্কেট। ওকস ৮ বলে ২ ছক্কায় মিনি ঝড় তুলে করেন ১৮ রান। আবার প্লাঙ্কেটও ছিলেন সমান তালে আগ্রাসী। ৯ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় করেন ২৭ রান।

কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনসে শুরুতে টস জিতে বাংলাদেশ ফিল্ডিং নিলেও বল হাতে কার্যকরী কিছু করতে পারেনি শুরুতে। ৭৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন পেসার সাইফউদ্দিন। ৬৭ রান দিয়ে দুটি নিয়েছেন মিরাজও। ৬৮ রান দিয়ে একটি নিয়েছেন মাশরাফি আর ৭৫ রান দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের সংগ্রহেও ছিলো একটি।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমেছিলো ৩৮৭ রানের বড় লক্ষ্য সামনে রেখে।

শুরুতে ইংল্যান্ডের বিশাল রান পাহাড় টপকাতে চ্যালেঞ্জটা কঠিন করে দিয়ে গেছেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। মাত্র ২ রানে ওপেনার সৌম্য সরকার বোল্ড হয়ে ফেরার পর তামিম ফিরেছেন ১৯ রান করে। বিপদে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশকে জয়ের পথে রাখতে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে থাকেন অভিজ্ঞ সাকিব আর মুশফিক।

তবে ইংলিশ পেসারদের গতির মুখে হিমশিম খেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। দেখে শুনে খেলতে গিয়ে বরং উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন সৌম্য সরকার। জোফরা আর্চারের ক্ষিপ্র গতির কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েই চতুর্থ ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন। জো রুট ঠিকমতো না হওয়াতে হাতে জমাতে পারেননি। অবশ্য পরের বলে আর পারেননি আর্চারকে রুখতে। বল সরাসরি স্টাম্প ভেঙে পৌঁছে যায় বাউন্ডারি লাইনে!

সাকিব নামার পর সেই পেস আক্রমণেই চাপ বজায় রাখে ইংলিশরা। সাকিব-তামিম জুটি গড়ার চেষ্টায় থাকলে আর্চার, ওকসের পর নতুন করে আক্রমণে আনা হয় মার্ক উডকে। উঠিয়ে মারতে গেলে তামিম মরগানের হাতে ধরা পড়েন এক্সট্রা কাভারে। তামিম ফিরেছেন ১৯ রানে।

দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলে সাকিব আর মুশফিকের দৃঢ়চেতা ব্যাটিংয়েই এক পর্যায়ে জয়ের পেছনে ছুটছিলো বাংলাদেশ। এই জুটিতে ওঠে আসে ১০৬ রান। সাকিবের সেঞ্চুরির পূর্বে ভেঙে যায় আশা জাগানিয়া এই জুটি। লিডিং এজ হয়ে প্লাঙ্কেটের বলে ফিরেছেন মুশফিক। পয়েন্টে রয়কে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নিয়েছেন ৪৪ রানে।

এই ‍জুটি ভাঙার পর পরই ধীরে ধীরে মিইয়ে যেতে থাকে সব আশা। বিপদটা আরও বেড়ে যায় নতুন নামা মিঠুন মাত্র শূন্য ফিরলে। আদিলের লেগ স্পিনে খেই হারিয়ে কট বিহাইন্ড হন। তারপরেও ২০১৫ সালে ইংল্যান্ড বধের নায়ক মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে আবার জুটি গড়ায় চেষ্টায় ছিলেন সাকিব। ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকলেও ১২১ রানে তাকে বোল্ড করে দেন বেন স্টোকস। নতুন নামা মোসাদ্দেক নেমে কিছু শটস খেললেও ২৭ রানে বিদায় নিয়েছেন স্টোকসের বলে। মাহমুদউল্লাহও ২৮ রানের বেশি কিছু করতে পারেননি। উডের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। সাইফকে বোল্ড করে অষ্টম উইকেটটিও তুলে নেন স্টোকস।

শেষ পর্যন্ত ৪৮.৫ ওভারে ২৮০ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)