আপডেট ২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১০ রমযান, ১৪৩৯

সম্পাদকীয় থাকছে না সিটিং সার্ভিস

থাকছে না সিটিং সার্ভিস

সম্পাদকীয়

নিরাপদনিউজ : ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতির দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল থেকে রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস, গেটলক সার্ভিস, বিরতিহীন কিংবা স্পেশাল সার্ভিসের নামে বর্ধিত ভাড়ার কোনো গণপরিবহন থাকার কথা নয়। সব গণপরিবহনকে বিআরটিএ নির্ধারিত চার্ট অনুসরণ করে ভাড়া আদায় করতে হবে। এ ছাড়া রংচটা, জরাজীর্ণ গাড়ি না চালানোর আশ্বাস রয়েছে গাড়ির মালিকদের। বাস মালিক সমিতির ঘোষণা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে নানা সংশয় রয়েছে। রাজধানীতে যথারীতি পুরনো জরাজীর্ণ বাসই চলাচল করছে। ফিটনেস সার্টিফিকেট নিয়ে চলাচল করলেও এসব যানবাহন রাজধানীর রাস্তায় চলাচলের কতটা উপযোগী তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। যাত্রীসাধারণের বড় প্রশ্ন ভাড়া নিয়ে। অনেকেরই আশঙ্কা, কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে না থাকলে সিটিং সার্ভিস তুলে দেওয়ার নাম করে সব ধরনের বাসে খেয়ালখুশি মতো ভাড়া আদায়ও শুরু হতে পারে।
রাজধানীর গণপরিবহনের মালিক-শ্রমিকদের কাছে অনেকটাই জিম্মি হয়ে পড়েছে যাত্রীরা। নানা অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এখন সিটিং সার্ভিস তুলে দিয়ে লোকাল বাসের মতো অতিরিক্ত যাত্রী বহন করার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে হিতে বিপরীত হবে। বিশেষ করে অফিস যাওয়া-আসার সময় যাত্রীদের জিম্মি করা হতে পারে বলেও অনেকের ধারণা।
অতীতে অনেকবারই বিআরটিএ বিভিন্ন রুটে ভাড়ার তালিকা দিয়েছে। কিন্তু ঢাকার গণপরিবহনে সে নিয়ম কখনো মানা হয়নি। যাত্রীদের অসহায়ত্ব পুঁজি করে বাস কম্পানিগুলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে। বাড়তি ভাড়া দিতে অস্বীকার করায় যাত্রী হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানীতে এখন এমন বাস সার্ভিস চালু আছে গতকাল পর্যন্ত যেগুলোর সর্বনিম্ন ভাড়া ছিল ১৫ টাকা। যেসব বাসে টিকিট দেওয়া হয়, সেগুলোতে নিকটতম গন্তব্যের কোনো টিকিট পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। গতকাল থেকে এসব বাসের ভাড়া কী নির্ধারিত হয় সেটাই দেখার বিষয়। অপ্রতুল গণপরিবহনের সুযোগ নিয়ে ঢাকায় সিটিং সার্ভিসের নামে এই নৈরাজ্য দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে। এসব বাসে লেখা থাকে ‘হাফ ভাড়া নেই’। অর্থাৎ এ ধরনের বাসে যেন শিক্ষার্থীদের উঠতে মানা। শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবে। কিন্তু সিটিং সার্ভিসের নামে শিক্ষার্থীদের এসব বাসে যাতায়াত করা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল থেকে যে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে, তা কঠোরভাবে মেনে চলতে বাস মালিক-শ্রমিকদের বাধ্য করতে হবে। যাত্রীদের ভোগান্তি বন্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। গণপরিবহনে সিটিং সার্ভিস বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া নৈরাজ্যও যেন দূর হয়, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া হোক।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)