আপডেট ২১ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৭ কার্তিক, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১২ সফর, ১৪৪০

জাতীয়, লিড নিউজ ‘দক্ষিণাঞ্চল এখন আর অবহেলিত নেই’

‘দক্ষিণাঞ্চল এখন আর অবহেলিত নেই’

নিরাপদ নিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চল এখন আর অবহেলিত নেই। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে অনুন্নত এই এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ শুরু করে। ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট নির্মাণের মাধ্যমে এই এলাকার যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করেছে তার সরকার। নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতু থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে রেললাইন। বরিশালে বিশ্ববিদ্যালয় করেছেন, করেছেন সেনা নিবাসও। বরিশালের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়িত হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নেও অনেক কিছু করেছে তার সরকার। শুধু রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্টই নয়, তার সরকারের সময় তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও অনেক বিকাশ লাভ করেছে। বরিশালের একটি প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে দেশের দ্বিতীয় পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে সরকারি পরিকল্পনার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দক্ষিণের উপকূলবর্তী লবনাক্ত জমিতে চাষাবাদের জন্য লবন সহিষ্ণু জাতের ধান বীজ আবিস্কার করা হয়েছে। জলাবদ্ধ জমিতে ধাপের উপর সবজি চাষ করা হচ্ছে। উন্নয়নের সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় শষ্য ভান্ডার হিসেবে বরিশালের সুনাম ফিরিয়ে আনার কথা বলেন।

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে স্বতন্ত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। মেডিকেল কলেজকে নয়, আলাদা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে এবং সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে মেডিকেল কলেজগুলো এফিলিয়েটেড থাকবে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে হাসপাতালগুলোর শষ্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবকাঠামো সুবিধা থাকার পরও শুধুমাত্র ডাক্তার-নার্স না থাকার কারণে জনগণ সরকারের প্রদেয় প্রকৃত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছেন না বলে আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নত দেশ। ২১০০ সালের পরিকল্পনাও করা হয়েছে বলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের পর বরিশাল প্রান্তের উপস্থিত ২জন চিকিৎকের মাধ্যমে শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের সমস্যার কথা শুনতে চান। শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যপক ডা. ভাস্কর সাহা সাইনটিফিকেশন শিক্ষক এবং শিক্ষকদের আবাসন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

এছাড়া জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান ১ হাজার শয্যা বিশিস্ট বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ২ হাজার শয্যায় উন্নীত করার দাবী তোলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের আবাসন সংকটের সমাধানের জন্য ফ্লাট নির্মাণসহ অন্যান্য সমস্যা দূর করার প্রতিশ্রুতি দেন।

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক।

এছাড়া বরিশালপ্রান্তে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম এমপি, নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ, বিএমএ কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি ডা. মো. ইহতেশামুল হক চৌধুরী ও মহাসচিব ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বক্তব্য রাখেন। বরিশালে অনুষ্ঠান প্রান্তে সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস এমপি, বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস, পুলিশ কমিশনার মো. মোশারফ হোসেন, ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান সহ উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তা, নগরীর গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ১০টায় মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। সন্ধ্যায় কুমার বিশ্বজিতের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবগুলো অনুষ্ঠান নির্বঘ্নি করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

এর আগে গত রবিবার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার তৃতীয় দিন ৩ দিনব্যাপী সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব সমাপ্ত হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)