ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুন ৭, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ৩ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪০

নারী ও শিশু সংবাদ, রাজশাহী দীর্ঘ ১৭ দিন অসহ্য যন্ত্রণা ভোগের পর মৃত্যুর কাছে হার মানলেন গৃহবধূ মীম

দীর্ঘ ১৭ দিন অসহ্য যন্ত্রণা ভোগের পর মৃত্যুর কাছে হার মানলেন গৃহবধূ মীম

নিরাপদ নিউজ: দীর্ঘ ১৭ দিন অসহ্য যন্ত্রণা ভোগের পর মৃত্যুর কাছে হার মানলেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার মীম (২৬)।  শুক্রবার সকাল ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মারা যান তিনি। আতাইকুলা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনার পর থানায় মামলা হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে ঘাতক স্বামী কথিত গ্রাম্য চিকিৎসক পিন্টু মিয়াসহ (৩২) অন্য আসামিদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের দড়িসারদিয়ার গ্রামের আব্দুল মমিনের মেয়ে মাহমুদা আক্তার মীমের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার রাজাইমণ্ডল গ্রামের সগির প্রামাণিকের ছেলে পিন্টু মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের পর আব্দুল্লাহ আল মাহিন (৮) এবং মুন্তাহা (৩) নামে তাদের দুটি সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের সময় দেড় লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হলেও পিন্টু মিয়া প্রায়ই যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন।

মীমের বড় ভাই মেহেদী হাসান বলেন, গত বছর ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও গত ১৫ মে পিন্টু আরও এক লাখ টাকা বাবার বাড়ি থেকে মীমকে আনতে বলে। এই টাকার জন্য কয়েকদিন ধরে মীমের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছিল। এরই একপর্যায়ে গত ২১ মে রাত ২টার দিকে পিন্টু মিয়া ও তার চার ভাই এবং এক ভাগ্নে মিলে মীমকে বেদম মারধর করে রক্তাক্ত করে।

তারা গামছা দিয়ে মীমের গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। চিৎকার ও শোরগোল হওয়ায় প্রতিবেশীরা মীমের বাপের বাড়ির লোকজনকে মোবাইল ফোনে জানালে তারা অচেতন অবস্থায় প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহীর পপুলার হাসপাতালের আইসিইউ এবং সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করেন।

১৭ দিন অসহ্য যন্ত্রণা ভোগের পর গতকাল মারা যান মাহমুদা আক্তার মীম। রাজশাহী মেডিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মীমের মরদেহ বাপের বাড়ি দড়িসারদিয়ার গ্রামে আনা হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

এ ঘটনায় মীমের ভাই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে পিন্টু মিয়াকে প্রধান এবং তার চার ভাই রেজাউল করিম, দেলোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান, মিলন হোসেন এবং ভাগ্নে শাকিল হোসেনকে আসামি করে আতাইকুলা থানায় মামলা করলেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা ছাড়া আসামিদের গ্রেফতারে আগ্রহী হয়নি বলে মীমের আত্মীয়স্বজন অভিযোগ করেছেন।

মীমের ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান বলেন, এক লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় তার বোনের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানায়। মেহেদী অপরাধী পিন্টু ও তার পরিবারের সদস্যদের শাস্তি দাবি করেন।

ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারের জন্য কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছে। তবে আসামিরা চতুর এবং পালিয়ে থাকায় তাদের গ্রেফতার সম্ভব হয়নি। ওসি মনিরুজ্জামান আরও বলেন, নারী নির্যাতন মামলা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। আসামিরা কোনো মতেই পালিয়ে বাঁচতে পারবে না।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)