ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৮ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২২ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

ফটো গ্যালারী, বরিশাল দীর্ঘ ২২ দিন অবরোধের পর গভীর সমুদ্রের পথে জেলেরা

দীর্ঘ ২২ দিন অবরোধের পর গভীর সমুদ্রের পথে জেলেরা

রাসেল কবির মুরাদ, নিরাপদনিউজ: দীর্ঘ ২২ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ থাকার পর জেলেরা ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে যাত্রা শুরু করেছে। দীর্ঘ এ অবরোধের পর জেলেদের জালে মিলবে ঝাঁকেঝাঁকে রূপালী ইলিশ এমন আশায় কলাপাড়ায় হাজার হাজার জেলে বুক বেঁধেছে। উপকূল থেকে অনেক জেলেরা বুধবার গভীর রাত থেকে জেলেরা ট্রলার নিয়ে দলেদলে গভীর সমুদ্রে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে বলে একাধিক জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়িরা জানিয়েছেন। প্রানচাঞ্চল্য হয়ে উঠছে মাহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দর সহ জেলে পল্লীএলাকা। নিষেধাজ্ঞা চলাকালিন সাগর ও নদীতে অভিযান চালিয়ে ৮৭ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার ফলে দখিনের বড় মাছের মোকাম আলীপুর-মহিপুরের আড়ৎ গুলো হয়ে পড়েছিল নিষ্প্রান।

স্থানীয় ব্যাবসায়ী ও জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে গত ৯ অক্টোবর দিবাগত মধ্য রাত থেকে ৩০ অক্টোবর মধ্য রাত পর্যন্ত দেশের ৭ হাজার কিলোমিটার জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময় সাগর কিংবা নদীতে কোন জেলেরা মাছ শিকার করেনি। দীর্ঘ অলস সময় কাটিয়েছে ওইসব জেলেরা।

মৎস্য ব্যবসায়ি মো.মনিরুল ইসলাম জানান, অধিকাংশ ট্রলারই আড়ৎ ঘাট থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে ছেরে গেছে। ওইসব ট্রলার গুলো গভীর সমুদ্র থেকে রূপালি ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরবে, জমে উঠবে দখিনের সবচেয়ে বড় মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুর।

ট্রলার মাঝি আবদুল রহমান জানান, মাছ শিকার ছাড়া আর কোন পেশার অভিজ্ঞতা না থাকায় দীর্ঘ ২২ দিন মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে। এখন সরকারে দেয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ। তাই বাজার-সদাই করে ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে যাত্রা করবো। মহিপুর ফিশিং ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি মো. মালেক হালাদার বলেন, সরকারের দেয়া অবরোধ মেনে আমরা সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যাইনি।

কুয়াকাটা ও আলীপুর মৎস্য বন্দর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, দীর্ঘ ২২ দিন আলীপুর-মহিপুরের আড়ৎ গুলো হয়ে পড়েছিল নিষ্প্রান। বেকার, আলস সময় কাটিরেছেন সংশ্লিস্ট শ্রমিকরা। তবে সাগরে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে বলে এমনটাই আশা করেছেন তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা বলেন, বিগত বছরের মতো এবারও জেলেরা শতভাগ সরকারের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করেছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালিন সাগর ও নদীতে অভিযান চালিয়ে ৮৭ হাজার মিটার জাল উদ্ধার করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)