ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৫ পৌষ, ১৪২৫ , শীতকাল, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪০

জীবনযাপন, রংপুর দু’হাতে ভর করে বিভিন্ন এলাকায় ছুটছেন আব্দুর রউফ

দু’হাতে ভর করে বিভিন্ন এলাকায় ছুটছেন আব্দুর রউফ

তোফায়েল হোসেন জাকির, নিরাপদনিউজ: আব্দুর রউফ সরকার। বয়স প্রায় ৫০। এ মানুষটির দেখা হয় গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুরের নাগবাড়ী বাজারে। রউফ সরকার দু’হাতে ভর দিয়ে মাটি বেয়ে চলছেন। দারিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। চরম দারিদ্রের কষাঘাতের মধ্যে দিয়ে বেড়ে উঠেন রউফ সরকার। যুবক বয়সে তাঁর শারীক অবস্থা স্বাভাবিক ছিলো। ২০ বছর বয়সে তিনি বিয়ে করেন মোছা. ছেতারা বেগমকে। অন্যের বাড়িতে শ্রম বিক্রি করে সংসার জীবন ভালই চলছিল। বিয়ের কয়েকমাস পরই আব্দুর রউফ সরকার কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। সেই থেকে তাঁর দুটি পা অকেজো হয়ে পড়ে। পায়ে ভর দিয়ে চলতে পারেনা।

এরপর রউফ সরকারের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। শুরু হয় তাঁর জীবন সংগ্রাম। আব্দুর রউফ সরকার রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের মৃত ছমছেল সরকারের ছেলে। বর্তমানে তাঁর দুই কন্যা সন্তান। একজন মোছা. ছালমা খাতুন (১৮) ও অপরজন মোছা. তাছলিমা খাতুন (১৫)। চরম অভাব অনটনের কারণে মেয়েদের তেমন লেখা-পড়া করাতে পারেনি। তাঁর দুটি পা অচলের কারনে চলাফেরার জন্য দুই হাতের উপরেই নির্ভশীল। পরিবারের স্ত্রী-সন্তাদেরকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে শুরু করেন তিনি ভিক্ষাবৃত্তি। দু’হাতে ভর দিয়ে নিজ গ্রাম কিংবা জেলা থেকে ছুটছেন অন্য জেলায়।

গতকাল সাদুল্লাপুরের নাগবাড়ী বাজারে ভিক্ষবৃত্তি করতে আসা এই আব্দুর রউফ সরকার চরম হতাশার গ্লানী নিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার দুটি কন্যাকে পাত্রস্থ করা জরুরী। কিন্ত অর্থাভাবে পারছি না। বর্তমান সামাজিক অবস্থায় উপযুক্ত মেয়েকে বিয়ে না দিয়ে কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিতে চাই না। মেয়েদেরকে বিয়ে দিতে না পারায় সামাজিক মর্যাদা নিয়ে আতঙ্কে আছি।

তিনি আরও বলেন, আমি একমাত্র প্রতিবন্ধি ভাতাদি ছাড়া সরকারের আর কোনো সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়নি। জনপ্রতিনিধিদের কাছে শতাধিকবার ঘুরে কোনো সহযোগিতা পায়নি বলেন জানান তিনি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)