ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ১৯, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ৪ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪০

কৃষি ধানের ফলন ভালো হলেও মূল্য নেই

ধানের ফলন ভালো হলেও মূল্য নেই

নিরাপদ নিউজ, কুষ্টিয়া থেকে প্রতিনিধি: ধানের দাম প্রতিবছরই বাড়ে, এবারও বাড়তে পারে তবে তখন আমাদের ঘরে ধান থাকবে না। মণ প্রতি ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের খরচও হচ্ছে না। সরকারের কাছ থেকে আজীবন লাভ করে মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আর আমরা কৃষক আজীবন কাজ করেই মরবো। আমাদের কেনার সময় সার, বীজ, কিটনাশক সবকিছুর দাম বেশি, শুধু বিক্রির সময় ধানের দাম কম। এ কথা বলবো কার কাছে। এককথায় কৃষকদের সবাই মারে। কৃষক হওয়া যেন আজন্ম পাপ। খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে কথাগুলো বলছেন কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের কৃষক বদর উদ্দিন ও সিরাজুল ইসলাম।
অন্য কৃষক খাইরুল মালিথা জানান, ধান প্রতি মণ ন্যূনতম ১ হাজার টাকা হলে চাষিদের বাঁচনো সম্ভব। বর্তমানে উপায় না পেয়ে লস দিয়ে ধানের আবাদ করছি আমরা। ধানের চাইতে এখন ধানের কুড়া, খুদের দামই তুলনামূলকভাবে বেশি। ১৪-১৫ টাকা কেজি ধান বিক্রি করছি আর সেখানে ধানের কুঁড়া ১০-১২ টাকা কেজি এবং খুদ ২০-২২ টাকা কেজি। এক কেজি ধান ১৪-১৫ টাকা দাম বাজারে। এক কেজি ধান উৎপাদন করতেই তার চেয়েবেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে।
মিরপুর উপজেলার খয়েরপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা ধান ৫৫০ টাকা থেকে ৫৮০ টাকা, মাঝারি ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা, এবং চিকন ধান ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা। জেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৫ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ৯০ ভাগ জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধান চাষ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হওয়ায় ধানের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ করেছে কৃষক। তবে ধানের দাম কম এবং শ্রমিক সংকট হওয়ায় চাষিরা একটু বিপাকে পড়েছে।
মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান, এ বছর ধানের উৎপাদন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময় কৃষকরা শ্রমিক না পাওয়ায় অতিরিক্ত মূল্য দিতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধানের দামও তুলনামূলকভাবে কম। ধানের ফলন ভালো হলেও বাজার কৃষকেরা ন্যায্যদাম পাচ্ছেন না। দাম না পেলে কষ্ট করে আাবাদ করা ধান চাষ থেকে তারা বিমুখ হবেন। বাজার মন্দার বিষয়টি খতিয়েদেখা প্রয়োজন।
এদিকে কৃষকদের কৌশলী হয়ে কম দামে ধান বিক্রি না করে বাড়িতে কয়েক দিন সংরক্ষণ করে বিক্রির পরামর্শ দিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক। জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন জানান, কৃষকের ধানের নায্যমূল্যে নিশ্চিত করতে হাটগুলোতে তদারকি বাড়ানো হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)