আপডেট ১৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৮ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২৩ মুহাররম, ১৪৪১

জীবনযাপন, রাজশাহী ধুনটে অর্থ ও চিকিৎসার অভাবে পঙ্গু আজ চাল চুলোহীন একই পরিবারের ৩ সদস্য

ধুনটে অর্থ ও চিকিৎসার অভাবে পঙ্গু আজ চাল চুলোহীন একই পরিবারের ৩ সদস্য

কারিমুল হাসান লিখন, নিরাপদ নিউজ: বগুড়ার ধুনটে অর্থ ও চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্ব বরন করছে চাল চুলোহীন একই পরিবারের ৩ সদস্য।
জানাযায়, উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের কান্তনগর গ্রামের ৩ নং ওয়র্ডের বাসিন্দা আমির আলী। সে লিভার জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে অর্থ ও চিকিৎসা অভাবে প্রায় ৮ বছর পুর্বে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর অভাবের সংসারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। মৃত আমির আলীর স্ত্রী গোলাপী খাতুন প্রায় দুই মাস পুর্বে প্রতিবেশিদের সাহায্যে পিত্তাশয়ে পাথর অপারেশন করেন। তার পর থেকে সেও শারিরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমানে তার দু পায়ে শক্তি না থাকায় সে আর চলাচল করতে পারেনা। আমির আলী ও  গোলাপীর দাম্পত্য জীবনে ২ মেয়ে ও ১ ছেলের জন্ম হয়। বড় মেয়ে আতিয়া খাতুন (২০)। সে জন্ম থেকেই অন্ধ। তার অন্ধত্ব জীবন চলাকালে শারিরিক নানা সমস্যার কারনে সেও এখন পঙ্গুত্ব বরন করেছে। দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা শুয়ে থাকা তার কাছে দুর্বিসহ জীবন। ২০০৬ সালে তার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কার্ড ইস্যু হয়।  আতিয়ার ছোট বোন আরিফা আকতার (১৫)। সে শারিরিক ভাবে একটু সুস্থ্য থাকলেও, সংসারের তিন সদস্যের চিকিৎসা, সাংসারিক খরচ ও নিজের জীবনের অনিশ্চিত দির্ঘ পথ তার জীবনে মানসিক চাপে পরিরত হয়েছে। আমির আলী ও  গোলাপীর দাম্পত্য জীবনে সবশেষ ছেলে সন্তান আবদুল্লাহ (১০)। সে গাবতলী উপজেলার নশিপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছিলো। বেশ কিছু দিন পুর্বে সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়। অভাবের সংসারে তার জ্বর ভালো হলেও শারিরিক নানা সমস্যার কারনে সেও এখন ঠিকমত হাটতে পারেনা। পায়ে শক্তি না পাওয়ায় চলাচলের সময় পড়ে যায়। অনেক সময় তাকে লাঠির সাহায্যে চলতে হয়।

মৃত আমির আলীর পরিবারে আয় রোজগারের কেউ নেই। স্বামী আমির আলীর রেখে যাওয়া ছয় শতাংশ জায়গায় জড়াজির্ণ ঘরে গোলাপী আকতার ৩ সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছে। সরজমিনে দেখা যায় তাদের সম্বল বলতে বাড়ির ছয় শতাংশ জমি। চাল নেই চুলো নেই, নেই কোন গৃহপালিত পশু। কতদিন যে তাদের চুলোয় আগুন জ্বলেনি তা বাড়ীর পরিবেশ দেখেই বোঝা যায়। একটি পরিবারের কর্তা না থাকায় বাড়ীর ভিতরটা কেন ভ‚তরে পরিবেশ হয় সেটা কারো অজানা নয়। পরিবারের অসুস্থ্য ব্যাক্তিদের নিয়ে নির্ঘুম রাত্রী যাপন করে পরিবারের ছোট মেয়ে আরিফা আকতার। দুশ্চিন্তার বোঝা নিয়ে নিথর দেহ নিয়ে বিছানায় পড়ে থাকে মা গোলাপী খাতুন।

 

মেয়ে আতিয়া খাতুনের জীবনে দিনরাত্রি সমান অন্ধকার নিয়ে পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে মাটিতে পড়ে থাকে চব্বিশ ঘন্টা। ছোট শিশু ছেলে সন্তান আবদুল্লাহ এখনও জীবনটাকে বুঝতেই শেখেনি। সেও সুস্থতা হারিয়ে অসুস্থতার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে। তাদের সংসার ও চিকিৎসা খরচ চালানো তাদের কাহারো পক্ষে সম্ভব নয়। এমন একটি দুর্বিসহ পরিবার সম্পুর্ন প্রতিবেশির উপর নির্ভশীল। স্থানীয়রা তাদেরকে নানা ভাবে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছে। এ সহযোগিতা কত দিন? চাল চুলোহীন জীর্ণ ঘরে বসবাস করা  এমন একটি পরিবারের জন্য স্থায়ী কি কোন সমাধান আছে? এমনটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন  পঙ্গুত্ব বরন করা গৃহকর্তি গোলাপী খাতুন। স্থানীয়রা বলেন প্রতিবেশি হিসেবে আমরা আমাদের সাধ্যমত তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। যদি সরকারী বা বেসরকারী ভাবে স্থায়ী কোন সমাধান করা হয় তাহলে তারা হয়তো এই সমাজে আরো অনেকের মতো জীবন চালাতে পারবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)