ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৫৬ মিনিট ৮ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

রাজশাহী ধুনটে নিখোঁজের ৩ দিন পর ভ্যান চালকের লাশ উল্লাপাড়ায় উদ্ধার

ধুনটে নিখোঁজের ৩ দিন পর ভ্যান চালকের লাশ উল্লাপাড়ায় উদ্ধার

কারিমুল হাসান লিখন, নিরাপদনিউজ: বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভ্যানচালক রুবেল আকন্দ (৩৮) নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন পর তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার থানা পুলিশ। শনিবার রাত ১১টায় বরোহর ইউনিয়নের করতোয়া নদীর কালীগঞ্জ ঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজ রুবেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত রুবেল আকন্দ বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছী ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিমগাছি গ্রামের জাহেদুর রহমানের ছেলে নাহিদ হাসান প্রায় ১২ বছর আগে রুমা আকতারকে বিয়ে করে। বিয়ের সময় নাহিদকে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দেয়। কিন্তু ২ বছর ধরে নাহিদ তার শ্বশুরের নিকট অতিরিক্ত ১ লাখ টাকা দাবী করে। কিন্তু শ্বশুরের পক্ষে জামাইয়ের দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে শ্বশুর-জামাইয়ের মাঝে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এ অবস্থায় বুধবার সকালের দিকে নাহিদ তার শ্বশুরের সাথে অসুস্থ্য শাশুড়িকে দেখতে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত ৮টার পর থেকেই নিখোঁজ হয় ভ্যানচালক রুবেল আকন্দ।

শুক্রবার সকালের দিকে আতিকুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক যুবক খালের পানিতে অজ্ঞাত ভাসমান লাশের ছবি তুলে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। ভাসমান মৃতদেহের ছবিটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। এদিকে রুবেল আকন্দ বাড়িতে ফিরে না আসায় তার পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে ফেসবুকে ছবি দেখে নিহতের মেয়ে রুমা আকতার ও তার স্বজনরা রুবেলের লাশ সনাক্তের পর বিষয়টি থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাসমান লাশের সন্ধান করতে পারেনি। এ ঘটনায় রুমা আকতার বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে ধুনট থানায় নাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। ঘটনার পর থেকে নাহিদ হাসান পলাতক রয়েছে।

ধুনট থানার অফিসার ইনাচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, রুবেলের মৃতদেহ ফেসবুকে দেখে তার স্বজনরা সনাক্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমান মিলেছে। ঘাতক নিহতের জামাই নাহিদ হাসানকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান, শনিবার রাত ১১টায় উপজেলার বরোহর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ ঘাট এলাকায় করতোয়া নদীতে ভাসমান লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ভাসমান লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। খবর পেয়ে তার স্বজনরা লাশের পরিচয় শনাক্তর পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)