আপডেট ৩১ মিনিট ১০ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪০

শিল্প-সংস্কৃতি নকশা মূকাভিনয় দ্যা ব্লাইন্ড পার্সপেক্টিভ মঞ্চায়িত

নকশা মূকাভিনয় দ্যা ব্লাইন্ড পার্সপেক্টিভ মঞ্চায়িত

নিরাপদ নিউজ:  আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উৎসব-২০১৮’ এ ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার ‘নির্বাক শব্দেরা মুখরিত হোক মুক্তির আলোয় আলোয়’ স্লোগানে নন্দিত মূকাভিনয় সংগঠন ‘ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম এ্যাকশন’ এর আয়োজনে ‘টিভিএস-ডুমা ২য় ইন্টারন্যাশনাল মাইম ফেষ্ট-২০১৮ তে গত ১০ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭ টায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি’র টিএসসি মিলনায়তনে তানভীর শেখ এর রচনা ও পরিচালনায় ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার এর প্রথম প্রযোজনা, নকশা মূকাভিনয় “দ্যা ব্লাইন্ড পার্সপেক্টিভ” মঞ্চায়িত হয়। প্রযোজনাটিতে একক অভিনয়ে তানভীর শেখ, সংঙ্গীত প্রক্ষেপনে রেজাউল মাওলা নাবলু, আলোক প্রক্ষেপণে রাম কৃষ্ণ মিত্র, নেপথ্যে ছিলেন কান্তা জামান, ফারজানা ইয়াছমিন, নূরে আলম ও ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ। এছাড়া প্রযোজনাটির ক্রিয়েটিভ কনসালটেন্ট হিসাবে কাজ করেছেন বিশিষ্ট মূকাভিনেতা ও সংগঠক রাজ ঘোষ। ‘বিনোদনে নান্দনিকতা’ স্লোগানে প্রতিষ্ঠিত ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার এর প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন কবির সুইট এবং প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক তানভীর শেখ বলেন, মানবসৃষ্ট অথবা প্রাকৃতিক ভাবে ঘটে যাওয়া অনেক বিপদজনক ব্যাপারই আমাদের চোখে ধরা পরে, যা প্রায় নিশ্চিতই জনসাধারণের দুর্ঘটনার কবলে পতিত হওয়ার আশঙ্খা থাকে। তদুপরি শক্তি বা ক্ষমতা থাকা সত্বেও শুধুমাত্র ইচ্ছার অভাবে প্রায় সবাই সেটা এড়িয়ে চলে। প্রক্ষান্তরে কিছু মানুষের অন্য সবার মত শক্তি বা ক্ষমতা না থাকলেও শুধুমাত্র ইচ্ছা শক্তি পুঁজি করে সমাজকে আলোকিত করে চলেছেন। এই প্রেক্ষাপট অবলম্বনে ‘ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার’ প্রযোজনা-১, নকশা মূকাভিনয় “দ্যা ব্লাইন্ড পারসপেক্টিভ” যার ব্যাপ্তিকাল ৫ মিনিট। এছাড়া প্রতিকূল অবস্থাতেই ২য় টিভিএস-ডুমা আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উৎসব-২০১৮ এর সফল সমাপ্তি ঘটলো মঙ্গলবার। রাত ১০টায় অংশগ্রহণকারী দল এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে সমাপ্ত হয় উৎসব। সমাপনী দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভপতি মিশা সওদাগর, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ঝুনা চৌধুরী, সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের সভাপতি খায়রুল বাশার। সমাপনী অনুষ্ঠানে মূকাভিনয় প্রদর্শনীতে অংশ নেয় ভারতের ত্রিপুরার মূকাভিনয় শিল্পীরা, চট্টগ্রামের প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট, রঙ্গন মাইম একাডেমি, সাইলেন্ট থিয়েটার, ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার, শ্রুতি মাইম থিয়েটার, কিশোরগঞ্জের মূকাভিনয় শিল্পী এবং আমেরিকান নিউ মাইম থিয়েটারের পরিচালক কাজী মশহুরুল হুদা। ‘নির্বাক শব্দেরা মুখরিত হোক মুক্তির আলোয় আলোয়’ এই স্লোগান নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮ এপ্রিল শুরু হয় ২য় টিভিএস-ডুমা আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উৎসব-২০১৮। ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন (ডুমা) আয়োজনে শনিবার সন্ধ্যায় টিএসসিতে উৎসব উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এস এ মল্লিক, এফসিএ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নিউজিল্যান্ড ডেইরি প্রোডাক্টস বাংলাদেশ লিমিটেড, এমএম মুনিরুল আলম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, গার্ডিয়ান লাইফ ইন্সুরেন্স, জে. একরাম হোসাইন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড এবং জাহিদ রিপন, সভাপতি বাংলাদেশ মাইম ফেডারেশন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন আহমেদ ওয়াসিমুল বারী, ভিপি, ওয়াসডা, নিউজিল্যান্ড। সভাপতিত্ব করেন বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফাদার তপন ডি রোজারিও । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূকাভিনয় প্রদর্শন করেন আমেরিকান নিউ মাইম থিয়েটার এর ডিরেক্টর কাজী মশহুরুল হুদা, ভারতের সোমা মাইম থিয়েটার, জার্মানির নিমো মাইম, রংপুরের মিরর মাইম থিয়েটার, জাপানের শিল্পীদ্বয় এবং আয়োজক সংগঠন ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। এসময় মূকাভিনয়ে অবদানের জন্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মূকাভিনেতা কাজী মশহুরুল হুদাকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। উদ্বোধনী দিনে বিশেষ আকর্ষণ ছিলো টিএসসির খোলা মাঠে একসঙ্গে প্রায় ২৫৪ জন মানুষের মূকাভিনয়ে অংশগ্রহণ। এটি বিশ্বে মূকাভিনয়ের একটি রেকর্ড। এই রেকর্ড গিনেস বুকে উঠানোর ব্যাপারে সার্বিক ব্যবস্থা করেই আয়োজন করা হয়েছে। ১২-১৪ সপ্তাহ গিনেসবুক কর্তৃপক্ষ এই আয়োজন যাচাইবাছাই করে আনুষ্ঠানিক রেকর্ড হিসেবে ঘোষণা দেয়ার কথা রয়েছে। মূলত গিনেসবুক যেসব শর্ত দিয়েছিলো সকল শর্ত পূরণ করেই এই আয়োজন সম্পন্ন কর হয় আজ। কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দিনের আন্তর্জাতিক মূকাভিনয় উৎসব করা না গেলেও সমাপনি দিন প্রতিকূল পরিবেশেও অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। এতে অনেক অংশগ্রহণ হয়। বর্ণাঢ্য এ মূকাভিনয় উৎসবে অংশ নিয়েছিলো জাপান, আমেরিকা, ইরান, জার্মানি, নেপাল এবং ভারতের ২ টি দল। এছাড়াও অংশ নেয় বাংলাদেশে মূকাভিনয় চর্চারত ১৫টি দল। দলসমূহ- প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট (চট্টগ্রাম), রঙ্গন মাইম একাডেমি (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), মাইম আর্ট (ঢাকা), সাইলেন্ট থিয়েটার (চট্টগ্রাম), মিরর মাইম থিয়েটার (রংপুর), বরিশাল বিএম কলেজ, কিশোরগঞ্জ মাইম থিয়েটার, ব্ল্যাকফ্লেইম থিয়েটার (ঢাকা), মাইম অ্যাকশন কক্সবাজার, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি মাইম সোসাইটি এবং মাইম অ্যাকশন ময়মনসিংহ । প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ছিলোউৎসবের মূল আয়োজন। এছাড়াও সকাল ১০টায় এবং বিকাল ৪টায় শহীদ মিনার, কার্জন হল, কলাভবন, শাহবাগ সহ পুরো ক্যাম্পাসজুড়েই ছিলো রোড শো। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে ভিন্ন আমেজে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো ট্রাকের মাধ্যমে উৎসবের আগের দশদিন ধরে চলে রোড শো। তিন দিনের আয়োজনে থাকছে মূকাভিনয়ের উপর কর্মশালা, সেমিনার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মূকাভিনয় প্রতিযোগিতা এবং পোস্টার প্রদর্শনী।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)