আপডেট এপ্রিল ২১, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১২ রমযান, ১৪৩৯

বিনোদন, লিড নিউজ, সাক্ষাৎকার ইলিয়াস কাঞ্চন জানালেন সিনেমা নিয়ে নানান কথা।

ইলিয়াস কাঞ্চন জানালেন সিনেমা নিয়ে নানান কথা।

নতুন যে সিনেমায় কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

মৌমিতা আফরিন, নিরাপদনিউজ :  বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা  ইলিয়াস কাঞ্চন। প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান ১৯৭৭ সালের ২৬ মার্চ। সুভাষ দত্তের ছবি  ‘বসুন্ধরা’ দিয়ে তার যাত্রা শুরু।। ছবিটি মুক্তি পায় একই বছর ডিসেম্বরে। তারপর ৩৫০টিরও বেশী ছবিতে অভিনয় করেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এর মধ্যে বেশির ভাগ ছবিই সুপারহিট। সম্প্রতি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘হঠাৎ দেখা’। বাংলাদেশ থেকে ছবিটি প্রযোজনা করেছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে এর চিত্রনাট্য লিখেছেন অলোক মুখোপাধ্যায় (ভারত), পরিচালনা করেছেন রেশমী মিত্র (ভারত) ও সাহাদাত হোসেন (বাংলাদেশ)।

সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে ইলিয়াস কাঞ্চন জানালেন সিনেমা নিয়ে নানান কথা। তিনি সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘হঠাৎ দেখা’ সম্পর্কে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে তৈরি হয়েছে ছবিটি। এখানে সময়কে ধরার একটা বিষয় থাকে, তেমনি সাজ আর লোকেশনেও থাকে ভিন্ন আয়োজন। এমন ছবিতে অভিনয়ে একটু বেশি আগ্রহী ছিলাম আমি। এখানে আমি অমিত চরিত্রে অভিনয় করেছি। যুবক অমিত আর প্রৌঢ় অমিত এই দুই সময়কে ধরা হয়েছে। আমি করেছি প্রৌঢ় অমিত চরিত্রে। এতে মানসী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কলকাতার দেবশ্রী রায়। মানসীর সঙ্গে আমার কৈশোরে পরিচয় ও প্রেম অতঃপর বিচ্ছেদ। তারপর অনেক বছর পর আবার কাকতালীয়ভাবে ট্রেনে দেখা। স্মৃতি রোমন্থন আর টুকরো আলাপে কেটে যাওয়া রোমান্টিক ছবি এটি।  আমার খুব ভালো লেগেছে এতে অভিনয় করে।

ওপার বাংলার শিল্পি দেবশ্রী রায় এর সাথে কাজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেশাদার অভিনেত্রী তিনি। যা চলচ্চিত্রের জন্য খুব দরকার। আমাদের ইন্ডাষ্ট্রিতে পেশাদারিত্বে অভাব রয়েছে। তাই ইন্ডাষ্ট্রি উন্নতি করতে পারছে না। শুটিংয়ে দেবশ্রী রায়ের সময়জ্ঞান আর পরিমিতি বোধ দারুণ। নির্মাতা কী চান, সেটা তার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ছবির অন্যান্য শিল্পীদের সঙ্গে মানিয়ে নেন নিজে থেকেই। মনে হচ্ছিল যেন তার নিজের বাড়ি। আর সবাই তার পরিবারের অংশ। ছবির শুটিং শেষ করতে একটু সময় লেগে যায়। সহশিল্পী হিসেবে আমার সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। দেবশ্রী রায় এর আন্তরিকতা আমার বেশ ভালো লেগেছে। সহজে একজন মানুষকে আপন করে নিতে পারেন দেবশ্রী রায়।

যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চন যৌথ প্রযোজনার ছবিকে কিভাবে দেখেন এ বিষয়ে তিনি বলেন, যৌথ প্রযোজনার ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে সবকিছু যদি সমানভাবে করা যায়, তাহলে কোনো সমালোচনার সুযোগ নেই। বরং এটা আমাদের জন্য ভালো। আমি তো বলব, যৌথ প্রযোজনার ছবির মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হয়। তবে যৌথ প্রযোজনার নিয়ম নীতি রয়েছে সেগুলো মেনে সিনেমা করতে হবে। দু দেশের পরিচালক থাকতে হবে দু দেশের শিল্পি থাকতে হবে। যে নীতিমালা আছে তা মেনে সিনেমা তৈরী করলে কোন অসুবিধা দেখিনা তবে শুধু মাত্র দু একজন শিল্পি নিয়ে কোন নিয়ম না মেনে যদি কোন সিনেমা তৈরী হয় তবে সেটা দেশের সিনেমার জন্য ক্ষতিকর।

চলচ্চিত্রে নিয়মিত নন দর্শক চাহিদা থাকার পরও কেন চলচ্চিত্র থেকে দুরে আছেন এমন প্রশ্নে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আমি কখনো বলিনি আমি আর চলচ্চিত্র করবোনা গত বছরও আমি কাজ করেছি এপার ওপার সিনেমায় এরপরই হঠাৎ দেখা সিনেমা করলাম মুক্তির অপেক্ষায় আছে বিজলি নামে সিনেমা। আসলে ভালো গল্প পেলে অবশ্যই সিনেমায় কাজ করব। তিনি আরো বলেন আমার প্রথম সিনেমাটি ছিলো সাহিত্য নির্ভর এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় কাজ করেছি সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত সিমেনা এটিও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে এমন সাহিত্য নির্ভর সিনেমায় কাজ করার প্রতি আমার একটা অন্যরকম দুর্বলতা কাজ করে, অনেক ভালো লাগে এমন সিনেমাগুলোতে কাজ করার। সেই সাথে তিনি তার মনের একটি ইচ্ছা প্রকাশ করে জানান তিনি এখনো কাজী  নজরুলের কোন গল্প অবলম্বনে নির্মিত সিনেমায় কাজ করেননি তবে তার অনেক ইচ্ছা আছে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা অবলম্বনে নির্মিত কোন এক সিনেমায় কাজ করার।

 বর্তমানে দুই দেশে একযোগে চলছে ইলিয়াস কাঞ্চনের হঠাৎ দেখা চলচ্চিত্র এবং ইলিয়াস কাঞ্চনের বিজলি নামে আরো একটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় আছে যা এবছরে মুক্ত পেতে পারে বলে জানা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)