আপডেট ৭ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ সফর, ১৪৪১

আইন-আদালত, নারী ও শিশু সংবাদ নারায়ণগঞ্জে শিশু জিহাদ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

নারায়ণগঞ্জে শিশু জিহাদ হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদন্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন

jastice

নারায়ণগঞ্জ,  ডিসেম্বর ০১ ২০১৪, নিরাপদনিউজ : নারায়ণগঞ্জে শিশু জিহাদ হত্যা মামলার রায়ে তিনজনের মৃত্যুদন্ড ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মালিক আব্দুল্লাহ্ আল আমিন এই রায় প্রদান করেন।
একই সঙ্গে আদালত যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামীকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে নিহতের পরিবারকে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মৃতুদ্য-প্রাপ্ত আসামীরা হলো-মোহাম্মদ সাদেক, ওয়াসিম, আব্দুস সালাম শিকদার। যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্তরা হলো মো: স্বপন ও মোসাম্মৎ লাকী আক্তার।
এর মধ্যে ওয়াসিম, সালাম শিকদার ও লাকী আক্তার পলাতক রয়েছে।
মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাকিল নামের একজনকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছে আদালত।
মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী নবী হোসেন জানান, ২০১১ সালের ২৬ জুন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম ধর্মগঞ্জ চটলার মাঠ এলাকার বাড়ি থেকে সাড়ে ৪ বছরের শিশু জিহাদকে অপহরণ করে নিয়ে যায় আসামীরা। ওই দিনই রাত সাড়ে ৮টায় একটি মোবাইল ফোন থেকে শিশু জিহাদের মায়ের কাছে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারি দলের নেতা ওয়াসিম। টাকা নিয়ে জিহাদের মাকে দু’দিন পর ২৮ জুন চাষাড়া শহীদ মিনারে থাকতে বলে অপহরণকারীরা।
অপহরণকারীদের কথা মতো শহীদ মিনারে আসলে আগে থেকে ওৎ পেঁতে থাকা র‌্যাব তিন আসামী ওয়াসিম, সালাম ও সাদেককে আটক করে।
ওয়াসিম র‌্যাবকে জানায়, ২৬ জুন রাত ৭টায় বাড়ির সামনে থেকে অপহরণ করা হয় জিহাদকে। ওয়াসিম তার সহযোগী সালাম, সাদেক, স্বপন, শাকিল, বুলুর সঙ্গে পরামর্শ করে শহরের চাষাঢ়া এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রাখে।
এসময় তার দ্বিতীয় স্ত্রী লাকিও তাদের সঙ্গে ছিল। অপহরণের পর জিহাদকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়। ঘুম ভাঙ্গলে জিহাদ তার খেলার সাথী ওবায়েদের বাবা হিসেবে ওয়াসিমকে চিনে ফেলে এবং মামা বলে সম্বোধন করে। জিহাদ জানতে চায়, কেন তাকে আটকে রাখা হয়েছে। চিনে ফেলার কারণেই সহযোগীদের সঙ্গে পরামর্শ করে জিহাদকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াসিম। জিহাদকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে সহযোগী সালাম ও সাদেককে সঙ্গে নিয়ে ওয়াসিম ২৭ জুন সন্ধা ৭টায় সিএনজি বেবিট্যাক্সি করে কাঁচপুর ব্রিজের ওপর যায়। সেখান থেকে ঘুমন্ত জিহাদকে ফেলে দেয় শীতলক্ষ্যা নদীতে।
এই ঘটনায় নিহতের জিহাদের মা মাসুমা আক্তার বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানায় অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই ঘটনায় মোট ২২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।-বাসস

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)