ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জানুয়ারী ২৭, ২০১৭

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় নারী ও শিশু বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরিতে গণমাধ্যমের নীতি নৈতিকতা

নারী ও শিশু বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরিতে গণমাধ্যমের নীতি নৈতিকতা

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ : গণমাধ্যমে নারী ও শিশুকে নিয়ে প্রতিবেদন বেশি প্রকাশ পায় যখন তারা বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়। শিশুর মনোবিকাশ ও শিশুর উন্নয়নের জন্য সংবাদমাধ্যমকে ইতিবাচক সংবাদের প্রতি খুব একটা মনযোগ লক্ষ্য করা যায় না। ২০১৪ সালে এমআরডিআই প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, ১২ মাসে শিশুবিষয়ক প্রকাশিত সংবাদ ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৩২৪টি।

এরমধ্যে সম্পাদকীয় ৭ হাজার ৮২৪টি এবং ছবিসহ সংবাদ ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫শ’টি। এসব সংবাদে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শিশু বা তাদের স্বার্থ ও বিষয়াবলীর সাথে জড়িত রিপোর্ট ছিল ১৩ হাজার ১৭৬টি (৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ)।

এরমধ্যে ১২ হাজার ৯৮৬টি (৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ) ছিল ছবিসহ নিউজ আইটেম এবং ১৯০টি (২ দশমিক ৪২ শতাংশ) সম্পাদকীয়। এসব সংবাদের ৬৯০টি সতন্ত্র ছবি এবং প্রতিবেদনসহ ছবি ছিল ৩ হাজার ৯৫৬টি। এদিকে শিশুর মতো নারীর ক্ষেত্রেও প্রতিবেদন প্রকাশে কোন নীতি নৈতিকতা মেনে চলা হয় না অনেকক্ষেত্রে। ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্রিশ্চিয়ান কমিউনিকেশনের (ডব্লিউএসিসি) গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি উদ্যোগে করা ‘গ্লোবাল মিডিয়া মনিটরিং প্রজেক্ট ২০১৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে ১৪৪টি দেশের তথ্য সংগ্রহ করে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে বিশ্বের গণমাধ্যমে নারীর বিষয় গুরুত্ব পেয়েছিল মাত্র ১০ শতাংশ সংবাদে।

আর বাংলাদেশে সংবাদ প্রকাশে নারীর জায়গা পাওয়ার হার ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে পুরুষের হার ৮২ শতাংশ। সমাজের সকলক্ষেত্রে প্রয়োজনের তুলনায় নারীর আত্মনির্ভরশীলতা, কর্মক্ষমতা বা সিদ্ধান্তগ্রহণের সুযোগও ততটা বাড়েনি। যেভাবে নানা সামাজিক সহিংসতা ঘটছে তাতে শিশু ও নারী অনেক সময় ভিকটিম হয়ে যায়, তাদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অন্য শিশুদের মনোজগতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। এ ব্যাপারে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের নীতি নৈতিকতা মেনে চলা উচিত।

সমাজে যেভাবে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে তা কোন না কোনভাবে অন্য পরিবারের আত্মীয় পরিজনের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। বিভৎস ছবি, লোমহর্ষক ঘটনা যেমন ‘ছেলের হাতে বাবা খুন’ বা ‘বাবার হাতে ছেলে খুন’ ‘মাদকের কারণে পিতাকে কুপিয়ে হত্যা’, ‘বন্ধুকে নৃশংসভাবে খুন’ এভাবে লিখে প্রতিবেদন প্রচার করা হচ্ছে।

এতে মানসিকভাবে মা-বাবা ও বন্ধুদের সম্পর্কে শিশুদের বিরূপ ধারনার তৈরি হচ্ছে। এই জায়গাগুলোতে আমাদের মিডিয়ার পরিবর্তন আনা উচিত। নারী ও শিশুদের জন্য প্রতিবেদন তৈরিতে সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নারী ও শিশুকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে অর্থাৎ শিশুর বা নারীর সাক্ষাৎকার নেয়া বা ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের সর্বোত্তম স্বার্থ দেখা জরুরি।

কোন প্রতিবেদনে শিশুর সাক্ষাৎকার বা ছবি প্রকাশের প্রয়োজন হলে শিশুর এবং তার অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে প্রকাশ করতে হবে। এবং সাক্ষাৎকার বা ছবি প্রকাশের ফলে শিশু কোন সমস্যায় পড়লে পরবর্তীতে যেন যোগাযোগ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।

স্পর্শকাতর বা ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে সর্বদা শিশুর খোঁজ খবর নিতে হবে এবং যোগাযোগ রাখতে হবে। অন্যদিকে নারীর ক্ষেত্রেও তার অনুমতি না নিয়ে ছবি তোলা কিংবা সাক্ষাৎকার গ্রহণে অনুমতি জরুরী।

আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া সকল বয়সী মানুষের জন্য। নারী ও শিশু ইস্যুতে সংবাদ পরিবেশন ও ছবি প্রকাশে স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে এবং সমাজের ইতিবাচক বিষয়গুলো তুলে আনলে অনেক অনভিপ্রেত ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)