আপডেট মে ৮, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ১ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১২ জিলক্বদ, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ নিজের জীবন রক্ষায় সবার আগে সচেতন হতে হবে নিজেকেই: ইলিয়াস কাঞ্চন

নিজের জীবন রক্ষায় সবার আগে সচেতন হতে হবে নিজেকেই: ইলিয়াস কাঞ্চন

নিরাপদনিউজ: গত ৬মে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় সারা দেশব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ৬মে সোমবার সকাল ৯টায় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয় এই শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ এর উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নজরুল ইসলাম। বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহের আজ ৩য় দিন। আজ সকালে মিরপুর ১০ নং গোলচত্ত্বরের সামনে সমাবেশ/ জনসচেতনতামূলক ব্যানার/পোস্টার/ ফেস্টুন/ প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করে নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় কমিটি।

কর্মসূচির বক্তব্যকালে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়ক নিরাপদ করতে সরকার, জনগণ সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকারের পাশাপাশি  আমরা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট, এককভাবে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে না। এজন্য মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, বিআরটিসি, পুলিশসহ সবার অংশগ্রহণ জরুরী। এছাড়া যার যেটা দায়িত্ব তা যদি সঠিকভাবে পালন করা হয় তাহলে দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব ।

নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়কে জীবন বাঁচাতে আমি সচেতন, আপনি সচেতন হোন। জীবন একটাই। এ জীবনকে নিরাপদ রাখতে আপনার ভূমিকা থাকতে হবে। অন্যের কি দায় পড়েছে আপনার জীবন দেখে রাখার। আপনি যদি নিজে আপনার জীবনের প্রতি মায়া না করেন। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচতে হলে প্রথমে আপনাকে সাবধানে পথ চলতে হবে। আপনি সাবধান না হলে যে কোন মুহূর্তে বিপদে পড়তে পারেন। মনে রাখতে হবে নিজের জীবন রক্ষায় সবার আগে সচেতন হতে হবে নিজেকেই। রাস্তায় চলাচলে গ্রহণ করতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতা। ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, আমরা শুধু একে অন্যের দোষ খুঁজে বের করি। নিজেদের কি দোষ তা দেখি না। আসুন, নিজেদের ভুলত্রুটিগুলো নিজেরা আগে সংশোধন করি। তাহলে অন্যরাও আপনার দেখাদেখি নিজেদের সংশোধন করে নেবে। তিনি আরো বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের জন্য একতরফাভাবে শুধু পরিবহন শ্রমিকদের না দুষে নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। কেননা সড়ক দুর্ঘটনার বড় একটা অংশের জন্য ভুক্তভোগী নিজেই দায়ী থাকে। কখনো চালককে দ্রুত চালাতে চাপ দেয়া যাবে না, ঝুঁকি নিয়ে পরিবহনে উঠা ও নামা যাবে না, গাড়িতে বসে হাত ও মাথা বাইরে নেয়া যাবে না। এবিষয়ে সবাইকে সচেতন করতে হবে। সবার সচেতনতা পারে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে।

বক্তব্যে তিনি নানা শ্লোগান দিতে থাকেন, ‘দ্রুতগতি পরিহার করি-সড়ক দুর্ঘটনা মুক্ত দেশ গড়ি’। আমি আপনি সচেতন হলে সড়ক দুর্ঘটনা যাবে কমে।তিনি সকলকে নেতা হয়ে গড়ে ওঠার আহবান জানান। দুর্ঘটনা রোধে জনমত গড়ে তুলতে সবার প্রতি দৃস্টি আকর্ষণ করেন । সেই সাথে তিনি সড়কে সবাইকে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে বলেন। যাত্রী-চালক উভয়কেই ট্রাফিক আইন মেনে রাস্তায় চলাচল করতে বলেন। সাইকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জানতে বলেন। রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করার আহবান জানান।

আজকের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন,নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন মহাসচিব লিটন এরশাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, অর্থসম্পাদক নাসিম রুমী,দপ্তর সম্পাদক আলহাজ ফিরোজ আলম মিলনসহ অন্যান্ন নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অনুরোধে চলতি বছরের ৬-১২ মে বিশ্ব সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। এই সপ্তাহে সড়কের নিরাপত্তায় নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করবে কর্মসূচি পালনকারী দেশগুলো। এর আগে ২০০৭, ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে বিশ্ব সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করেছিল জাতিসংঘ। এবার ৬ থেকে ১২ মে Fifth UN Global Safety week 2019 (৫ম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ ) ঢাকা সিটি সহ সারা দেশে পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘‘ Leadership for Road Safety’’ এবং মূল শ্লোগান হচ্ছে ‘‘Save Lives, Speak Up’’। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে একটি টেকসই ও নিরাপদ সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সরকারের টেকসই উন্নয়ন ও অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রেও নিরাপদ সড়ক তথা সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়ছে। United Nations Decade of Action for Road Safety ২০১১-২০২০ এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (SDG) ২০৩০ এর Goal/Target -3.6 অনুযায়ী বাংলাদেশ ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই লক্ষে নিরাপদ সড়ক চাই জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ গত ৪ বছর ধরে পালন করে আসছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে ১৯৯৩ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে গত ২৬ বছর ধরে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে কাজ করে আসছে। যার ধারাবাহিকতায় এবারো সপ্তাহব্যাপি কর্মসূচি পালনের বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিয়েছে নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটি।

 

 

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)