ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ১৮, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১২ রমযান, ১৪৩৯

নারী ও শিশু সংবাদ, রাজশাহী নিজের বিয়ে ঠেকাতে স্কুল ছাত্রী মার্জিয়া সুলতানার আত্মহত্যা!

নিজের বিয়ে ঠেকাতে স্কুল ছাত্রী মার্জিয়া সুলতানার আত্মহত্যা!

নিজের বিয়ে ঠেকাতে স্কুল ছাত্রী মার্জিয়া সুলতানার আত্মহত্যা!

১৮ এপ্রিল, ২০১৭, নিরাপদনিউজ : জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দেবিশাওল গ্রামে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকাতে মার্জিয়া সুলতানা (১৫) নামের নবম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে ওই গ্রামের বিত্তবান আলহাজ আমজাদ হোসেনের তৃতীয় কন্যা। গতকাল সোমবার তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় পুলিশ।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে জোর করে বাল্যবিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে বিয়ের এক মাসের মাথায় আত্মহত্যা করে তামান্না আক্তার (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী।

প্রতিবেশী, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মার্জিয়া সুলতানা ছিল পাঁচ বোনের মধ্যে তৃতীয়। মা রোজিনা বেগম গৃহিণী। বাবা আমজাদ হোসেন কৃষিকাজের পাশাপাশি স্থানীয় রায়কালী বাজারের বস্ত্র ব্যবসায়ী। মার্জিয়ার বড় দুই বোনের বিয়ে হয়েছে কলেজে পড়ালেখা করা অবস্থায় তাদের নিজেদের পছন্দে। সেই থেকে বাবা আমজাদ হোসেনের ইচ্ছা ছিল স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর নিজের পছন্দে মেয়ে মার্জিয়ার বিয়ে দেবেন।

সেই মোতাবেক মেয়ের জন্য পাত্রও খোঁজাখুঁজি শুরু করেন আমজাদ। বাড়ির কর্তা হিসেবে আমজাদ হোসেনের মতের বাইরে মত প্রকাশ করার সাহস ছিল না কারো। গতকাল পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার সান্তাহার এলাকা থেকে মার্জিয়াকে দেখার জন্য পাত্রপক্ষের আসার কথা ছিল। মার্জিয়া দেখতে ছিল বেশ সুন্দর। এ জন্য বাবা আমজাদ হোসেনের ইচ্ছা ছিল দেখাদেখির পর সোমবারই বিয়ের দিন-তারিখ পাকা করার। পারিবারিক চাপে এক প্রকার জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নীরব আপত্তি জানানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না মার্জিয়ার।

রবিবার রাতে নিয়মিত খাওয়াদাওয়া সেরে মার্জিয়া বাড়ির দোতলার শয়নকক্ষে শুয়ে পড়ে। গতকাল সকাল ৭টার দিকে মার্জিয়া ঘুম থেকে না উঠলে তার মা-বাবা ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু তাতেও কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির পেছন দিকের জানালায় মই লাগিয়ে বাবা আমজাদ হোসেন দেখতে পান, মেয়ে মার্জিয়া ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে।

তখন তিনি চিত্কার দিয়ে মই থেকে নেমে দ্রুত দরজা ভেঙে মার্জিয়াকে উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের নানা হবিবর রহমান আক্কেলপুর থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে দেবিশাওল গ্রামে মার্জিয়াদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, শোকে মুহ্যমান গ্রামটিতে চলছে মাতম। বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ ভিড় করছে মার্জিয়াদের বাড়িতে। জানাচ্ছে তাদের সমবেদনা।

প্রতিবেশী ও স্থানীয় রায়কালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমজাদ হোসেন মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন থেকেই ছেলে খোঁজাখুঁজি করছিলেন বলে শুনেছি।

সুন্দরী হওয়ার কারণে তাঁর আগের দুই মেয়ে কলেজে পড়া অবস্থায় নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেছিল। বিষয়টি তাঁর পছন্দের না হওয়ায় তাঁর তৃতীয় মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী মার্জিয়াকে এ জন্য নিজের পছন্দে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে মেয়েটি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। ’

স্থানীয় রায়কালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দিন বলেন, নবম শ্রেণিতে ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মার্জিয়ার রোল নম্বর ছিল ২৭। সে যেমন সুন্দর ছিল, তেমনি পড়ালেখায়ও মেধাবী ছিল। নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে এভাবে যে জীবন দেবে মার্জিয়া তা আমাদের কখনো কাম্য ছিল না। ’

মার্জিয়ার বাবা আলহাজ আমজাদ হোসেন বিয়ে দিতে চাওয়ায় মেয়ে আত্মহত্যা করেছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে আত্মহত্যার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

আক্কেলপুর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, বিয়ে ঠেকানো নয়, মার্জিয়া দ্রুত বিয়ে করার জন্যই অভিভাবকদের উল্টো চাপ সৃষ্টি করে। এতে মানসিক দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয়েই মার্জিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)