ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ১, ২০১৮

ঢাকা বুধবার, ৫ পৌষ, ১৪২৫ , শীতকাল, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ নিরাপদ সড়ক চাই-এর রজতজয়ন্তীতে র‌্যালি, সেমিনার ও সংবর্ধনা

নিরাপদ সড়ক চাই-এর রজতজয়ন্তীতে র‌্যালি, সেমিনার ও সংবর্ধনা

এ কে এম ওবায়দুর রহমান,নিরাপদ নিউজ:  সামাজিক আন্দোলন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা) -এর ২৫ বছর পূর্তিতে (রজতজয়ন্তী) শনিবার (১ ডিসেম্বর) র‌্যালি, সেমিনার ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘নিসচার ২৫ বছর: প্রেক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে নিসচার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় কাকরাইল থেকে পল্টন হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত একটি র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে নিসচার কেন্দ্রীয় ও শাখা কমিটিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এরপর  জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে গত তিন বছরের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়। ২০১৫-১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা হার নিম্নগামী থাকলেও ২০১৭ সালে তা বেড়ে যায়। এ বছরের অক্টোবর পর্যন্ত দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ১৩৩টি।

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোওয়াত করেন নিরাপদ সড়ক চাই’র দপ্তর সম্পাদক ফিরোজ আলম মিলন,এরপর জাতীয় সঙ্গীত ও নিসচা থীম সং শেষে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন নিরাপদ সড়ক চাই’র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোঃ জহিরুল ইসলাম মিশু, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক-নিসচা ও সদস্য সচিব-রজত জয়ন্তী উদযাপন পরিষদ।

এরপর নিরাপদ সড়ক চাই’র যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ কর্তৃক রচিত ‌‌’নিসচার ২৫ বছর: প্রেক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা’ শিরোনামে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিরাপদ সড়ক চাই’র মহাসচিব সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল । তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার সবচেয়ে বেশি শিকার হয় পথচারী। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৯৬৪টি দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত হয়েছে ২ হাজার ৮০৪ জন। তিনি বলেন, দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বোধের বেশ অভাব রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার জন্য জাতিসংঘের টার্গেট পূরণ করা কখনও সম্ভব হবে না, যদি না জনগণকে সচেতন করতে পারি। এসব তথ্য উপস্থাপন শেষে আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এহসানুল হক। এতে তিনি সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।

আলোচনা সভায় নিসচার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমরা নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য ঠিকমতো পালন করি না। আবার কেউ আছেন তারা দায়িত্ব পালন করতে চাইলেও করতে পারছেন না, এখানে রাজনীতির বিষয়টি আছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও আমরা আমাদের অভ্যাসের পরিবর্তন করতে পারিনি। আমাদের অন্য দিকগুলোর উন্নয়ন করতে পারলেও আমরা আমাদের মানসিক দিকটির উন্নয়ন করতে পারিনি। আমরা যদি আমাদের দায়িত্ব-কর্তব্যগুলো নিজের মনের মধ্যে নিয়ে করতে পারি তবে আমি মনে করি, সড়ক দুর্ঘটনা থামাতে পারবো।’

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘একটা হাইওয়ে কখনও দুই লেন- দুটি কারণে হয় না। একটা হচ্ছে, গাড়ি উল্টো দিক থেকে দ্রুত ছুটে আসবে। আরেকটা হচ্ছে যে মাঝখানে ডিভাইডার দিলে দুদিকে আটকে যাবে। কোনও একটা গাড়ি যদি বিকল হয়ে যায় তাহলে তিন মাইল পর্যন্ত গাড়ির লাইন হয়ে যায়। সুতরাং হাইওয়ে চার লেন হতেই হবে। আমাদের এখানে যে সমস্যাগুলো তার মধ্যে রাস্তা সমস্যা আছে। রাস্তা যথেষ্ট চওড়া নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে একের পর এক ফ্লাইওভার হচ্ছে। ফ্লাইওভার যত বড়, তার নিচে ততটুকু রাস্তা অব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাহলে উপরের রাস্তাটি দরকার কেন আমরা যদি রিকশা এবং ফুটপাতের দোকানগুলোকে কন্ট্রোল করতে পারতাম, তাহলে এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট হতো না।’

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, ‘দেশে রেল খাতের উন্নয়ন হয়নি। সারা পৃথিবীতে ট্রেন চলে। আমাদের সেই ট্রেনকে বন্ধ করে দিয়ে তারা বাস কিনতে লাগলো, রিকশা কিনতে লাগলো, ট্রাক কিনতে লাগলো। এতদিন পরে আবার এসে ট্রেনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ট্রেনের ওপর গুরুত্ব আরও বাড়লে দুর্ঘটনার সংখ্যা অর্ধেক কমে যাবে।’

নিসচা’র ২৫ বছর উপলক্ষে ‘নিসচা রজতজয়ন্তী পুরস্কার’ পান আইয়ুবুর রহমান খান এবং প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। এছাড়াও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয় স্বেচ্ছাসেবক আজহার মন্ডল এবং মৌলভীবাজার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. সালাউদ্দিন কাজলকে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সড়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক, অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম, বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর রাজধানীর এফডিসি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত পদযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও সামাজিক সচেতনতার এই আন্দোলন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)