আপডেট ১ মিনিট ৪৪ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১০ রমযান, ১৪৩৯

প্রবাসী সংবাদ, লিড নিউজ, সংগঠন সংবাদ নিরাপদ সড়ক চাই যুক্তরাষ্ট্র শাখার অভিষেক অনুষ্ঠিত

নিরাপদ সড়ক চাই যুক্তরাষ্ট্র শাখার অভিষেক অনুষ্ঠিত

প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কনসুলেটের মাননীয় কনসাল জেনারেল মোঃ শামীম আহসান

নিরাপদ নিউজ:  একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না, পথ যেন হয় শান্তির মৃত্যুর নয় – এই স্লোগানগুলিকে সামনে রেখে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ১৯৯৩ সালে চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে বাংলাদেশে গড়ে ওঠা “নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)” সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার অভিষেক অনুষ্ঠিত হল গত ২০শে মার্চ সোমবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় স্টার কাবাব রেস্টুরেন্টে। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নিসচা সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন স্বপন এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কনসুলেটের মাননীয় কনসাল জেনারেল মোঃ শামীম আহসান।


অভিষেক অনুষ্ঠানের শুরুতেই এই স্বাধীনতার মাসে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর পর বক্তারা বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিসচা সংগঠনের সামাজিক আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন নিরীহ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে কিন্তু খবরের কাগজে শুধু ঠাই হয় নামী দামী কেউ দুর্ঘটনার স্বীকার হলে। দুর্ঘটনার পর চালকেরও আইনগত ভাবে তেমন কোন শাস্তি হয়না।

এতে মনে হয় বাংলাদেশে সাধারণ মানুষের জীবনের কোন মূল্য নেই। যেহেতু আমাদের পরিবার পরিজন বা আত্মীয়স্বজন বাংলাদেশে আছেন আমাদের সবার কর্তব্য প্রবাস থেকেও নিসচা সংগঠনের সামাজিক আন্দোলনকে সমর্থন জানানো। বক্তারা আরও বলেন শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা, চালকদের নুন্যতম শিক্ষা ও বয়স নির্ধারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, সড়ক নির্মাণে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সাধারণ জনগণের সচেতনতা মূলক প্রচার, এই সব কিছু নিয়ে একটি জাতীয় নীতিমালা করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। তারা সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি নৌপথের দুর্ঘটনার উপরেও গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন দুর্ঘটনায় অনেক সময় অনেকের পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়, যা মৃত্যুর চেয়েও কম নয়। একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে দুঃসহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে, যদি দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তিটি পরিবারের উপার্জনের একমাত্র উৎস হয়। তিনি বলেন এই নিউইয়র্ক শহরে দুর্ঘটনা রোধে সড়কের গতি ৩০ থেকে কমিয়ে ২৫ করা হয়েছে, বড় সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা লেন করা হয়েছে এই সব কিছুই এই শহরের জনগণের সামাজিক আন্দোলনের ফসল। তাই বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের যে আন্দোলন সেই আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশী। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার যেকোনো লিখিত পরামর্শ তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

নিসচার সদস্য সচিব স্বীকৃতি বড়ুয়ার সঞ্চালনায় ও যুগ্ম আহ্বায়ক খোন্দকার রেজাউল করিমের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন স্বপন বলেন সড়ক দুর্ঘটনা মূলত চারটি কারণে ঘটতে পারে – চালক, যাত্রী, পথচারী এবং পরিবহন মালিকের কারণে। চালকরা ব্যাপারোয়া গাড়ী চালান, যাত্রীরা চালককে দ্রুত গতিতে গাড়ী চালানোর জন্য উৎসাহিত করেন, পথচারী নিয়ম না মেনে রাস্তা পারাপার করেন এবং পরিবহন মালিকার গাড়ীর যথাযথ রক্ষাবেক্ষন করেন না। তিনি বলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যদি জাতীয় আইন প্রণয়ন করেন, তাহলেই বাংলাদেশে সড়ক ও নৌপথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা যথাক্রমে এ বি এম ওসমান গনি, শাহ নেওয়াজ, ওয়াজেদ আলী খান বাচ্চু, মনির হোসেন, মোহাম্মদ আলী, ডাঃ শাহ আলম, আমিনুল হোসেন, আতিকুর রহমান সুজন, সদস্য যতাক্রমে আহনাফ আলম, লেখিকা কামরুনাহার ডলি, এডভোকেট কামরুজ্জামান বাবু, এডভোকেট মুকতাসিম বিল্লাহ লোটাস, সুলতান আহমেদ, এবং আগত অতিথিদের মাঝে বক্তব্য রাখেন ছদরুন নুর, লেখক ও সাংবাদিক ফাহিম রেজা নুর, রোকেয়া আক্তার, রুবাইয়া রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আব্দুল বারি মৃদা, নুরুল মোস্তফা রইসী, আব্দুল গাফফার বাবু, মির্জা সাইফুল্লাহ, রুদ্র মোহাম্মদ মাসুদ, নজরুল ইসলাম, শোভন রায়, শিরিন কামাল, শাহ গোলাপ রহিম শ্যামল, ডালিয়া চৌধুরী, উৎপল চৌধুরী, রুমানা জেসমিন, সালমা ফেরদৌস, প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে মাননীয় কনসাল জেনারেল আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবিন্দের গলায় কেন্দ্রীয় কমিটি কতৃক প্রেরিত নিসচার পরিচয় পত্র পরিয়ে দেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)