সংবাদ শিরোনাম

২৫শে এপ্রিল, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , গ্রীষ্মকাল, ২৯শে রজব, ১৪৩৮ হিজরী
সম্পাদকীয় নির্বাচনী প্রস্তুতি বড় দুই দলে

নির্বাচনী প্রস্তুতি বড় দুই দলে

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৮, ২০১৭ , ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ: আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নিজেদের তৈরি করছে। নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজও তারা এগিয়ে নিচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে জানা যায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই দলই নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নের কাজ শুরু করে দিয়েছে। এই নির্বাচনী অঙ্গীকারনামায় যথারীতি ভোটারদের তুষ্ট করার নানা প্রতিশ্রুতি থাকছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে দল ও ভোটার পরস্পরের পরিপূরক। ক্ষমতায় থেকে সাধারণ মানুষের মন জয় করা যায়, সমর্থন হারানোও যায়। একইভাবে ক্ষমতার বাইরে থেকেও ইতিবাচক রাজনীতির মাধ্যমে দলীয় সমর্থন বৃদ্ধি সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি গঠনমূলক রাজনীতির ধারায় থাকতে পারেনি। তারা সংসদ নির্বাচন বর্জনই শুধু করেনি, নির্বাচনোত্তর সময়ে চরম সহিংসতার আশ্রয় নিয়েছে। নেতিবাচক এই রাজনৈতিক আচরণে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও তাদের ভাবমূর্তি ভীষণ ক্ষুণœ হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, এবার দলটি গঠনমূলক রাজনীতিতে ফিরবে। আমাদের দেশের ভোটাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। অনলাইন সামাজিক নেটওয়ার্ক, টিভি টক শো, পত্রপত্রিকার বিশ্লেষণমূলক কলাম তাদের মতামত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। শুধু আশ্বাসের ফুলঝুরিতে তাদের মনোভঞ্জন আগের মতো আর এত সহজ হবে না। বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ সব বড় রাজনৈতিক দলকেই এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে হবে। গঠনমূলক, বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, অঙ্গীকারনামা হবে জাতীয় স্বার্থেরও রক্ষাকবচ। নির্বাচনী ইশতেহার ভোটারদের সামনে একটি দলের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে। সচেতন ভোটাররা জানেন, ইশতেহারের অনেক কিছুই মনোরঞ্জনমূলক, শুধুই কথার কথা। এর পরও একটি দলের ভবিষ্যৎ আচরণের আভাস এই ইশতেহার থেকে পাওয়া যায়। বর্তমানে ক্ষমতাসীন কিংবা অতীতে দেশ শাসন করেছেÑএমন কোনো দল নেই যাদের ভুলত্রুটি নেই। গঠনমূলক রাজনীতির অন্যতম শর্ত হচ্ছে আত্মমূল্যায়ন। বড় বড় কথা বলে ক্ষমতায় গিয়ে উল্টো পথে হাঁটা কিংবা সরকারে থাকার সুবাদে রাজনৈতিক হীনস্বার্থে জঙ্গিবাদ বা নাশকতা উসকে দেওয়া সবই ভোটাররা দেখেছেন। উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেওয়ার নতুন প্রতিশ্রুতির সঙ্গে অতীতের ভুল স্বীকার করে নেওয়াটাও তাই বড় জরুরি। তাতে ভোটারদের আস্থা বাড়ে। ক্ষমতা বা অর্থবিত্তের লোভে রাজনীতি যাঁরা করেন তাঁরা পরোক্ষভাবে দেশেরই ক্ষতি করেন। রাজনীতিবিদের লক্ষ্য হওয়া উচিত জনকল্যাণ। এই জায়গাটি থেকে আমরা বহুদূর সরে এসেছি। দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা কর্মকান্ডে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন দিনে দিনে প্রবল হচ্ছে। এসব কারণে রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা কমছে মানুষের। রাজনীতিকে ইতিবাচক ধারায় ফেরানোর দায় বড় দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলের ওপরই বেশি বর্তায়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় উন্নতির অন্যতম হাতিয়ার সুশাসন। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার কূটচালে এমন সব ব্যক্তি নির্বাচনী টিকিট পাচ্ছেন ও জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছেন, যাঁদের দিয়ে সুশাসন আদৌ সম্ভব নয়। ভোটশিকার নয়, উন্নয়নের শাসন হোক যেকোনো নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn1Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us