আপডেট ৩০ মিনিট ৪০ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৫ আষাঢ়, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ৪ শাওয়াল, ১৪৩৯

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে শহীদদের প্রতি পুস্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন

নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে শহীদদের প্রতি পুস্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে পুস্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়

নিরাপদনিউজ : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের নেতৃত্বে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে শ্রদ্ধা অবনত চিত্তে পুস্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

পুস্পস্তবক অর্পণকালে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, মহান ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক ঐতিহাসিক ও অতীব তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আন্দোলন ছিল আমাদের মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং পাশাপাশি এটি ছিল আমাদের জাতিসত্তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষারও আন্দোলন। এ আন্দোলন অবিনাশী প্রেরণা হয়ে পরবর্তীকালে স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় আমাদের শক্তি যুগিয়েছে। ১৯৭১ সালে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি কাংখিত স্বাধীনতা। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি প্রতিটি বাঙালীর শোক, শক্তি ও গৌরবের প্রতীক। ১৯৫২ সালে ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে প্রাণ দিয়েছিলেন রফিক, শফিক, জব্বার, বরকত, শফিউদ্দিন, সালামসহ আরও অনেকে। আজকের এই দিনে আমি ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মাহুতি দেয়া শহীদদের স্মরণে নির্মিত শহীদ মিনার বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনকালে ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব শামীম আলম দীপেন, যুগ্ম মহাসচিব লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল,সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আজাদ হোহেস,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আজাদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালীর প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকের রক্তের বিনিময়ে বাঙালী জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা। রাষ্ট্রভাষার লড়াইয়ে সে দিন রাজপথ রঞ্জিত হয় ভাইয়ের রক্তে।

রক্তের ঋণে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ কবিতা লিখলেন। কবিতাটি মোট ৩০ লাইনের। কিন্তু এখান থেকে বেশ কয়েকটি লাইন অমর একুশের কালজয়ী গান হয়ে গেছে। এই গানটি আজ কোটি কোটি বাঙালী প্রাণের আবেগে দিনভর গাইবেন- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি/ছেলেহারা শত মায়ের অশ্রু-গড়া এ ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি/আমার সোনার দেশের রক্তে রাঙানো ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’ এই গানটি প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চেতনায় আজও অনুপ্রাণিত বাঙালী জাতি। এই কালজয়ী গানের বাণী দেশের মানুষের মনে প্রোথিত হয়েছে সেই থেকে। গানটি পাকি শত্রুদের বিপক্ষে ঘৃণা ক্রোধ আর দ্রোহের আগুন এখনও জ্বালিয়ে তুলছে। পাকিস্তানের দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের বিচারের দাবিতে তরুণ প্রজন্ম রাস্তায় নেমে আসে। শাহবাগে গড়ে উঠে জাগরণ মঞ্চ। এই মঞ্চ এখন গিনেস বুকে স্থান করে নিয়েছে। বিশ্বের আর কোথাও এত দীর্ঘ সময় লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হয়নি। একুশের সেই চেতনাই শিক্ষা দিয়েছে কোটি কোটি বাঙালীর মেধা ও মননে। জাতিসংঘ সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পর থেকে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দিবসটি পালিত হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)