আপডেট ৩ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১০ সফর, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ নিসচা সংবাদ সম্মেলন: ২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৩৪৯টি,আহত ৭৯০৮জন,নিহত ৫৬৪৫জন

নিসচা সংবাদ সম্মেলন: ২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৩৪৯টি,আহত ৭৯০৮জন,নিহত ৫৬৪৫জন

নিসচা সংবাদ সম্মেলন

নিরাপদনিউজ :  সোমবার ১জানুয়ারী ২০১৮ সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে নিরাপদ সড়ক চাই কর্তৃক ২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নিসচা প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন নিসচা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন নিসচা’র উপদেষ্টা বি আর টি এ এর সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আয়ুবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান উল হক কামাল।মহাসচিব শামীম আলম দীপেন,দুর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমানসহ নিসচার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পরিসংখ্যানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃসড়ক দূর্ঘটনার সংখ্যা নির্ণয় করা,আহত ও নিহতের সংখ্যা নির্ণয় করা,দায়ী যানবাহন চিহ্নিত করা,ফলাফল ও বিশ্লেষণ ও করণীয়। পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনের কাজটি সম্পাদন করা হয়েছে পুরোপুরি সেকেন্ডারী ডাটা বা তথ্যের উপর ভিত্তি করে। যা হলঃ৬টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা নিসচা শাখা সংগঠনগুলোর রিপোর্ট,অনলাইন পোর্টাল ও টিভি চ্যানেল।২০১৭ সালের সর্বমোট দুর্ঘটনার হিসাবে দেখা যায় মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৩৪৯টি,আহত ৭৯০৮জন নিহত ৫৬৪৫জন।২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পূরুষ ও মহিলাদের হিসাব-পূরুষ ও ছেলে শিশু ৪৩২৭জন,মহিলা ও মেয়ে শিশু ১৩১৮জন।দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের ধরণ বাস,মিনিবাস, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ৯৬৩টি, ট্রাক,মিনি ট্রাক, ইট/বালু/মাটি বহনকারী যানবাহন৯৪১টি, মোটর সাইকেল ৭২০টি, কাভার্ডভ্যান জাতীয় যানবাহন১০৭টি, অন্যন্য(নসিমন, করিমন, ভটভটি, অটোবাইক, ইত্যাদি ৬১৮টি। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রসমুহ- দুর্ঘটনার সংখ্যা সড়ক পথে ৩১৩১টি, আহত ৭৭৩৬জন,নিহত ৫৩৯৭জন।রেল পথে দুর্ঘটনা ১৪৭টি,আহত ১১৭জন,নিহত ২০১জন।নৌ পথে দুর্ঘটনা ৩৮টি,আহত ৫৫জন,নিহত ৪৭জন।২০১৭ সালের সংগঠিত দুর্ঘটনার ধরণ গাড়ী চাপায় ১৯৬৪টি,আহত ১২০২জন,নিহত ২৮০৪জন।মুখোমুখী সংঘর্ষ ৭৩৪টি,আহত ৩৪৯৬জন,নিহত ১১৩১জন।খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ১৯২টি,আহত ১৪০৭জন,নিহত ৩১১জন।গাড়ি উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ১৬৫টি,আহত ৮৭৫জন,নিহত ২০৬জন। অন্যন্য দুর্ঘটনা ২৯০ই,আহত ৯৮৯জন,নিহত ১১৯৭জন।

২০১৭ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ৩৩৪৯ টি। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ১০৩৩ টি বেশি। এই তথ্য শুধু মিড়িয়ায় প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক আঞ্চলিক তথ্য অপ্রকাশিত রয়েছে যা কোনো মিডিয়ায় উঠে আসেনি।

২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে বাস,মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার ইত্যাদি দুঘটনা ৯৬৩টি, পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক, ইট/বালু/মাটি বহনকারী যানবাহন এর দুর্ঘটনা ঘটেছে ৯৪১ টি, মোটর সাইকেল এর দুর্ঘটনা ৭২০ টি, কাভার্ডভ্যান জাতীয় যানবাহন এর সংখ্যা ১০৭টি ও অন্যন্য (নসিমন, করিমন, ভটভটি, অটোবাইক, সিএনজি-অটোরিক্সা, ইজিবাইক, লেগুনা, টেম্পু, আলমসাধু, মহেন্দ্র, ইঞ্জিন চালিত রিক্সা ইত্যাদি অবৈধ যানবাহনের দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬১৮ টি।২০১৭ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৫৬৪৫। ২০১৬ সালে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪১৪৪। গত বছরের তুলনায় এ বছর নিহতের সংখ্যা সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর হার প্রায় ২৭.৩৬ শতাংশ বেশি।২০১৭ সালে মোট ৩৩৪৯ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৯০৮ জন লোক আহত হয়েছে। যাদের মধ্যে প্রায় ১০% হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। ২০১৬ সালে ২৩১৬ টি সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়েছিল ৫২২৫ জন, এ বছর আহতের সংখ্যা ২৬৮৩ জন বেশি (৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত)। গত বছরের তুলনায় আহতের সংখ্যা এবার প্রায় ৩২.৭৯% বেশি বলে রির্পোটে পাওয়া যায়। অনেক ছোট ছোট দূর্ঘটনায় আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করা হয় যা প্রত্রিকায়ও প্রকাশ হয় না। এদের মধ্যে অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে। যা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।

২০১৭ সালে বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বড় বড় শহর ও হাইওয়েতে। ছোট ছোট অবৈধ যানবাহন যেমন- ভ্যান, রিকসা, নসিমন, অটো রিক্সা ইত্যাদিকে এজন্য বেশী দায়ী বলে প্রতিয়মান হয়। আইনকে অমান্য করে ধীর গতির বাহন মহাসড়কে এখনো চলাচল করে যা দূরপাল্লার বড় গাড়ীগুলোর চলাচলে বিঘœতার সৃষ্টি করে। স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশকে এ ব্যাপারে তেমন কোন কার্যকর ভুমিকা পালন করতে দেখা যায় না। অবৈধ যানবাহনের চলাচলে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতাও আছে বলে প্রতিয়মান হয়। তাছাড়াও এ সমস্ত ধীর গতির গাড়ীর হেডলাইট না থাকার কারণে ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টিতে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। যেখানে ঘন কুয়াশায় লঞ্চ, স্টীমার, নৌকা এমনকি উড়োজাহাজ চলাচলকে বন্ধ করে দেয়া হয় সেখানে কুয়াশায় গাড়ী চালনোর জন্য নির্দিষ্ট গতি নির্ধারণ করা সত্বেও তা মানা হয় না। ২০১৬ সালে ট্রাকের সড়ক দুর্ঘটনা বাসের তুলনায় অনেক কম ছিল কিন্তু এ বছর ট্র্রাক ও বাস উভয়ই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ায় বাস ও ট্রাকের দুর্ঘটনা এখন প্রায় সমান-সমান। সরকার ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে গাড়ী চালকদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করার কারণে কিছু-কিছু গাড়ীর চালক অতিরিক্ত গতিতে চালানোর প্রবণতাও অনেকাংশে কমালেও ব্যাপকভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান না করার কারণে সকল গাড়ী চালকদের মধ্যে এখনো সচেনতা বৃদ্ধি পায়নি। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য এটাও একটি বড় কারণ।

২০১৭ সালে ১৯৬৪টি দুর্ঘটনায় পথচারি নিহত হয়েছে ২৮০৪ জন যা সমস্ত দুর্ঘটনার প্রায় ৫০% অধিক। রাস্তায় হাঁটা, রাস্তা পারাপার, রাস্তায় ধান-পাট শুকানো, হাঁটবাজার বসানো, রাস্তার পাশে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ইত্যাদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকার কারণে সাধারণ জনগণ নিয়ম-বর্হিভুতভাবে চলাফেরা ও কার্যক্রম করার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পথচারিদের সংখ্যা এতবেশি। গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করা যাচ্ছে যে, আমাদের দেশে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বোধের অভাব রয়েছে যা বিশ্বের অন্যন্য দেশের সাথে তুলনা করা যায় না। ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০% কমিয়ে আনার জন্য জাতিসংঘের টার্গেট পূরণ করা কখনোই সম্ভব হবে না যদি না আমরা জনগণকে সচেতন করতে পারি।

২০১৭ সালে মটর সাইকেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৭২০টি। মটর সাইকেল আরোহীদের হেলমেট না পরার প্রবণতা, ২ এর অধিক আরোহী, বেপারোয়া গতিতে মটর সাইকেল চালানো ও চলন্ত অবস্থায় মোবাইলে কথা বলাকে দায়ী করা হয়েছে। মটর সাইকেল চালকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে, ট্রাফিক আইন কানুন সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা, দেশের অল্প বয়স্ক যুব সমাজ মটর সাইকেল চালনা করা, গতি সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারনও উল্লেখযোগ্য। তাছাড়াও ঢাকা ও অন্যন্য সিটি করপোরেশনের রাস্তায় ট্রাফিক আইন না মেনে ফুটপাতের উপর দিয়ে চালানোর প্রবণতাও উল্লেযোগ্য। গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭ গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মটর সাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী নিহত হন যাদের কারো মাথায় হেলমেট ছিলনা। এর থেকে প্রতিয়মান হয় যে মটর সাইকেল আরোহীগনের উদাসিনতা ও মানসিকতা এর জন্য দায়ী। মটর সাইকেল চালনা এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন ও শৃংখলার আওতায় আনতে হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।

আরো উপস্থিত ছিলেন নিসচা’র ,যুগ্ম-মহাসচিব মো;গনি মিয়া বাবুল,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে আজাদ, আব্দুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মঈন জয়,প্রচার সম্পাদক মোঃ রিয়াজ উদ্দিনসহ-সম্পাদক মোঃআলাল উদ্দিন, কার্যকরি সদস্য সুরাইয়া রহমান মনি,মোঃ জামাল হোসেন মন্ডল,আবু বক্কর রাব্বী,মাধবদী শাখার আহবায়ক খঙ্কার শাহীন, আশুলিয়া শাখার আহবায়ক হাবিবুর রহমান, ডুলাহাজরা শাখার আহবায়ক সার্জেন্ট গিয়াসসহ নিসচার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)