আপডেট ২ মিনিট ২২ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৩ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ জিলহজ্জ, ১৪৪০

জাতীয়, লিড নিউজ নুসরাতের পরিবারকে সকল ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নুসরাতের পরিবারকে সকল ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

 

ঢাকা, ১৫ এপ্রিল ২০১৯, নিরাপদ নিউজ: গতকাল সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে নিহত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির পরিবার। সাক্ষাৎকারী ছিলেন নুসরাতের বাবা একেএম মুসা, মা শিরিনা আক্তার ও দুই ভাই। প্রধানমন্ত্রীর দেখা পেয়ে এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন নুসরাতের মা’সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী তাদের সান্ত্বনা দেন এবং গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, দুষ্কৃতিকারীরা কেউই আইনের হাত থেকে কোনোভাবেই রেহাই পাবে না। এ সময় তিনি নুসরাতের পরিবারকে সকল প্রকার সহযোগিতারও আশ্বাস দেন। এসময় এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ মার্চ সকাল ১০টার দিকে অধ্যক্ষ তার অফিসের পিয়ন নূরুল আমিনের মাধ্যমে ছাত্রীকে ডেকে নেন। পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হন তিনি। সেই মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারীরা। আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে মারা যান। এই মৃত্যুতে পুরো দেশ ক্ষোভে ফেটে পড়ে।
গত ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের আগের দেয়া এজাহার পরিবর্তন করে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাত বোরকা পরিহিত আরো চার নারীসহ অজ্ঞাত আরো অনেককে আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনায় করা মামলার তদন্ত করছে পিবিআই।মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম ইতোমধ্যে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার দায় স্বীকার করে নূর উদ্দিন ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বলেছে, কারাগারে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে সেখানেই নুসরাতের গায়ে আগুন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের প্রধান ডিআইজি বনোজ কুমার মজুমদার জানিয়েছেন: সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ দৌলা জেল থেকেই নুসরাতকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর তাকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন শামীম।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)