আপডেট অক্টোবর ১৩, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ১ শ্রাবণ, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ১ জিলক্বদ, ১৪৩৯

সম্পাদকীয় নৈরাজ্য শিক্ষাক্ষেত্রে

নৈরাজ্য শিক্ষাক্ষেত্রে

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ : দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। একদিকে হাজার হাজার স্কুল-কলেজে নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদ ও গভর্নিং বডি নেই, অন্যদিকে প্রয়োজন না থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদ ও গভর্নিং বডি না থাকার কারণে নতুন নিয়োগ হচ্ছে না। গত বছর বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ প্রায় ১২ হাজার শিক্ষককে নিয়োগের সুপারিশ করলেও তাঁদের এক-তৃতীয়াংশ এখনো নিয়োগ পাননি। আবার নিয়োগ পেয়েও এমপিওভুক্তিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

প্রথম থেকে ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে আবেদন নিয়ে মেধাতালিকা তৈরি করে গত বছর নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও শূন্য পদের ভুল তালিকা, ম্যানেজিং কমিটির জটিলতাসহ নানা কারণে সুপারিশ পাওয়া অনেকেই নিয়োগ পাননি।

আবার অনেকেই নিয়োগ পেলেও নানা অজুহাতে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। ওদিকে ত্রয়োদশ নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের এখনো নিয়োগের সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষও স্বীকার করে নিচ্ছে, মামলাসংক্রান্ত জটিলতায় ত্রয়োদশ বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।

আদালতে মামলার পাশাপাশি অনিয়মিত কমিটিই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করছে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে নিয়োগের সুপারিশ করার পরও অনিয়মিত কমিটির কারণে অনেক নিয়োগ ও এমপিও হচ্ছে না।

প্রভাবশালীদের তদবির ও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রয়োজন না থাকার পরও সারা দেশে নতুন নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পাঠদানের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশের অনেক কলেজ মানসম্মত শিক্ষা দিতে পারছে না বলে শুধু শিক্ষা বোর্ডগুলোরই অভিযোগ রয়েছে তা নয়, পাবলিক পরীক্ষার ফলও তার প্রমাণ। প্রতিষ্ঠিত নতুন নতুন কলেজে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতেও আগ্রহী হয় না।

সরকার গত শিক্ষাবর্ষে ১৪৩টি কলেজে পাঠদান বন্ধ করেছে। এ বছরও বন্ধের প্রক্রিয়ায় আছে ২৮০টি কলেজ। এ অবস্থায় নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আনবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গোড়ায় হাত দেওয়া প্রয়োজন। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অবশ্যই শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থাপনা কমিটির যোগ্যতাও বিবেচনা করে দেখতে হবে।

শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেই সব দায় শোধ হয়ে যায় না, পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে কোনো আপোশ করা চলবে না। কারণ মানসম্মত শিক্ষা সরকারের প্রাধিকার।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)