আপডেট ২৫ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৫ সফর, ১৪৪১

ভ্রমন নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কাপ্তাই: যা আপনাকে মুগ্ধ করবে

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কাপ্তাই: যা আপনাকে মুগ্ধ করবে

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কাপ্তাই

নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কাপ্তাই

ঢাকা, ১৮ নভেম্বর, নিরাপদনিউজ: উপ-শহর কাপ্তাইয়ের সবুজ প্রকৃতি দর্শনে হাজার হাজার পর্যটকের আগমনে মুখর হয়ে উঠছে কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলো। প্রকৃতির অপরূপ সৈন্দর্য দর্শনে পর্যটকরা বিমোহিত।
শীতের আগমনে পর্যটক আর প্রকৃতিপ্রেমি মানুষের আগমন শুরু হয়েছে এখানে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা কাপ্তাইয়ের সবুজ পাহাড়, শান্ত শীতল জলের কর্ণফুলী, দিগন্ত বিস্তৃত কাপ্তাই লেকসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দর্শনে ভিড় করছে শিক্ষা সফর এবং পিকনিকসহ নানা আয়োজন ও উপলক্ষ্য করে। দল বেধে বন্ধু-বান্ধব কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে কাপ্তাইয়ের সবুজ প্রকৃতির প্রাঙ্গণে।
কাপ্তাই উপজেলা
কাপ্তাই বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা।
কাপ্তাই উপজেলার আয়তন ২৫৯ বর্গ কিমি। চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি পার্বত্য জেলার অন্তর্গত কাপ্তাই উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ২২°২১’ হতে ২২°৩৫’ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২°৫’ হতে ৯২°১৮’ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে। উপজেলার উত্তরে কাউখালী ও রাঙামাটি, পূর্বে বিলাইছড়ি ও রাজস্থলী উপজেলা, পশ্চিমে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও দক্ষিণে রাজস্থলী উপজেলা।
কাপ্তাই উপজেলার নামকরণে ‘কত্থয়’ ও ‘কিয়ং’ শব্দ দু’টির প্রভাব রয়েছে বলে অনেকের ধারণা। কত্থয় অর্থ কোমর আর কিয়ং অর্থ খাল। ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’-কে চট্টগ্রাম জেলা থেকে আলাদা করে নতুন জেলা সৃষ্টি করার পর কাপ্তাই এর চন্দ্রঘোনায় এর সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়। । কাপ্তাই থানা সৃষ্টি হয় ১৯৭৬ সালে এবং থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৫ সালে। কাপ্তাইকে উপজেলায় রূপান্তরের পূর্ব পর্যন্ত এটি রাঙামাটি পার্বত্য জেলার একটি মহকুমা ছিল। এ উপজেলায় বাঙালিসহ চাকমা,মারমা,ত্রিপুরা,মুরং,খিয়াং,তঞ্চঙ্গ্যা,পাংখোয়া জাতিসত্বার বসবাস রয়েছে।
দর্শনীয় স্থানসমূহ
কাপ্তাইয়ের প্রধান পর্যটন স্পট প্যানারোমা জুম রেস্তোঁরায় এখন পর্যটকরদের ভির। পর্যটন স্পটের ব্যবস্থপনার দায়িত্বে থাকা বিজিবি কর্তৃপক্ষ জানান, পর্যটকদের আনন্দ আয়োজনে যেন কোন ঘাটতি না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রেখে সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় জুম রেেেস্তারাঁয় বসে পর্যটকরা নৌ-ভ্রমণ, প্রকৃতি দর্শন, পাহাড় ও নদীর একই সমান্তরালে মিশে যাওয়ার অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।জুম রেস্তোরাঁ ছাড়াও কাপ্তাইয়ের ন্যাশনাল পার্ক, বনশ্রী, কাপ্তাই নৌ-বাহিনীর লেক প্যারাডাইস, কাপ্তাই লেক ও কাপ্তাই বাঁধ দর্শনে পর্যটকরা এখানে ভির করছে। সোমবার বিকেলে দেখা গেছে বিভিন্ন পর্যটন স্পটে কাপ্তাইয়ের সবুজ প্রকৃতির মাঝে হাজার পর্যটকের আগমন পুরো এলাকাকে উৎসব মুখর করে তুলেছে।
কাপ্তাই হ্রদ
কর্ণফুলী পেপার মিল
কাপ্তাই বাঁধ
কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র
চিৎমরম বৌদ্ধ মন্দির
নেভীক্যাম্প পিকনিক স্পট
জুম রেস্তোরা পিকনিক স্পটওয়াগ্গাছড়া টি ষ্টেট,ওয়াগ্গা টি এস্টেস : ১৮৮৬ সালে ব্রিটিশ নাগরিক মি: ডরিন এর নেতৃত্বে কর্ণফুলী নদীর উভয় তীরে ওয়াগ্গাছড়া এলাকায় চা বাগান সৃজনের কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫০ বছর সময়কাল চা বাগানের কর্তৃত্ব ব্রিটিশদের হাতে থাকার পর এটির হাত বদলের ধারাবাহিকতায় চা বাগানের মালিকানা লাভ করেন নুরুল হুদা কাদেরী। বর্তমানে কাদেরী পরিবারের ব্যবস্থাপনায় “ ওয়াগ্গাছড়া টি লিমিটেড” নাম দিয়ে চা শিল্পের পরিচালনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ টি রিসার্স ইনস্টিটিউটের নতুন উদ্ভাবিত প্রায় সব কয়টি জাতই এ চা বাগানে চাষ করা হচ্ছে।৩৭০ হেক্টর আয়তনের এ বাগানে বাগান কর্তৃপক্ষের নিজস্ব একটি ফ্যাক্টরীও রয়েছে।

এনএন/মঙ্গলবার/ভ্রমণ/লিটন

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)