ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৪ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ সফর, ১৪৪১

সম্পাদকীয় পণ্যের মান বাড়াতে হবে

পণ্যের মান বাড়াতে হবে

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

দেশের বিভিন্ন ভারী শিল্প কারখানার জন্য প্রতি বছর অনেক ধরনের যন্ত্রাংশ আমদানি করতে হয়। যদিও এসব যন্ত্রাংশ উৎপাদন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সারাদেশে ৪০ হাজারের বেশি ছোট-বড় কারখানা আছে। এই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য অবশ্য মানসম্মত নয়। তাই উভয় পক্ষের মধ্যে এক রকম দূরত্ব রয়ে গেছে। এ অবস্থায় হালকা প্রকৌশল শিল্প কারখানার পণ্যের মান দক্ষ লোকবল, উন্নত প্রযুক্তি আর অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যমান দূরত্ব ঘুচবে। সেটি হলে কৃষি বা পোশাকের মতো এ খাতেও বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশন এবং হালকা প্রকৌশল শিল্প মালিক সমিতি যৌথভাবে ঢাকায় এক সমাবেশ করে। সেখানে তারা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের এক অংকের (সিঙ্গেল ডিজিট) সুদহারে ঋণ দেওয়ার দাবি জানান। বাংলাদেশে হালকা প্রকৌশল শিল্পে ইতোমধ্যে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। এ খাতে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে ছয় লাখ মানুষের। বর্তমানে দেশের জিডিপিতে এ শিল্পের অবদান ২ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত বছর সরকার এসএমই খাতে চার হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। কিন্তু এ ঋণের সুদ হার এক অংকের না হওয়ায় উদ্যোক্তাদের কোন লাভ হচ্ছে না। দেশের হালকা প্রকৌশল শিল্প খাতে পণ্যের মানোন্নয়নে জাইকা কারিগরি সহায়তা দেবে। জাপানের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা ১০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা থেকে যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করায়। অবশ্য সেসব হয় বিশেষ মানের। ফলে বাংলাদেশের কারখানাগুলো যদি উন্নত মানের যন্ত্রাংশ উৎপাদন করতে পারে তাহলে তাদের জন্যও সুযোগ তৈরি হবে। এ জন্য জাইকা সব ধরনের সহায়তা দেবে। দেশের প্রধান খাত হওয়ার কথা ছিল হালকা প্রকৌশল শিল্পের। এখানে মূল্য সংযোজনের হার অন্যান্য খাতের চেয়ে বেশি। কিন্তু বাতির নিচে অন্ধকারের মতো এ শিল্পটি পেছনেই পড়ে আছে। দেশে ৪০ হাজার কারখানা থাকলেও যন্ত্রাংশ উৎপাদন করে মাত্র ৫ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলো সংস্কার আর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এ খাতে সামগ্রিক উন্নয়নে একটি পরিকল্পিত শিল্পপার্ক স্থাপনের প্রয়োজন। হালকা প্রকৌশল শিল্প প্রসারিত হলে দেশেই আমদানি শিল্প যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরি হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)