ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪৭ মিনিট ১৫ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৭ রমযান, ১৪৪০

সড়ক সংবাদ পথ দুর্ঘটনায় সাহায্য করতে নতুন প্রয়াস মেডিকা-কলকাতা পুলিশের

পথ দুর্ঘটনায় সাহায্য করতে নতুন প্রয়াস মেডিকা-কলকাতা পুলিশের

নিরাপদ নিউজ,শফিক আহমেদ সাজীব: পথ নিরাপত্তা সারা পৃথিবীতেই একটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ শুধুমাত্র মারা যান পথ দুর্ঘটনায় বা দুর্ঘটনার পর চিকিৎসায় দেরি হওয়ার কারণে। বলাই বাহুল্য, জরুরি চিকিৎসার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার জটিলতা এবং হাসপাতালের খরচের ক্ষেত্রে সুবিধাজনক হতে পারে এবং অনেক প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতে পারে। অনেক বছর ধরেই, কলকাতায় পথ দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ট্রমা এবং অ্যাম্বুল্যান্স পরিসেবার ক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও সমস্যা থেকেই গিয়েছে। বলতে গেলে পথ দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের জন্য আলাদা করে কিছু তৈরি হয়নি। কলকাতা পুলিশ এই অবস্থার আশু পরিবর্তনের জন্য শহরের বিভিন্ন জায়গায় ১১১৮টি অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা শুধু করেছে তাই নয়, সঙ্গে এগুলো যাতে দ্রুত আক্রান্তদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছতে পারে, সেই ব্যাপারে অগ্রণী হয়েছে। প্রায় বছর ছয় আগে, পথ দুর্ঘটনা নিয়ে ভাবতে গিয়ে এরকম এক অন্যরকম ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করে কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশ এই অবস্থায় শহরের প্রথমসারির সব হাসপাতালকেই আমন্ত্রণ জানায় যাতে পথ দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের জরুরি পরিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমন্বয় গড়ে ওঠে। ঘটনা চক্রে মেডিকা সুপার স্পেশালটি হসপিটালই একমাত্র হাসপাতাল যারা এই ডাকে সাড়া দেয়। এর ফলশ্রুতি হিসেবে, ২০১২ সালের ৬ই মার্চ কলকাতা পুলিশ, মেডিকা সুপার স্পেশালটি হসপিটাল এবং ইস্টার্ন ইন্ডিয়া হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন একযোগে কলকাতা অ্যাক্সিডেন্ট রেসপনস এবং মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্স (কার্মা) তৈরি করে। কলকাতা অ্যাক্সিডেন্ট রেসপনস এবং মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্স (কার্মা) সর্বপ্রথম পথ দুর্ঘটনায় আক্রান্ত মানুষদের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা শুরু করে। গত ৬ বছর ধরে, পিপিপি মডেলে চলা এই প্রজেক্টে অনেক আক্রান্ত মানুষকে সময় মত হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মিতেশ জৈন জানান, এখনও পর্যন্ত মোট ২২,৮৯৯ মানুষকে জরুরি স্বাস্থ্য পরিসেবা দিতে সক্ষম হয়েছে কলকাতা অ্যাক্সিডেন্ট রেসপনস এবং মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্স (কার্মা)। এর মধ্যে ১৮,৯২৭ আক্রান্ত মানুষকে নিকটবর্তী হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। সম্পূর্ণ বিনা খরচে পথ দুর্ঘটনায় আক্রান্ত মানুষদের এই পরিসেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, কোনও অসুস্থ ব্যক্তি যদি নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি হতে চান, তাদেরও সম্পূর্ণ বিনা খরচে এই পরিসেবা দেওয়া হচ্ছে। কলকাতা অ্যাক্সিডেন্ট রেসপনস এবং মেডিক্যাল অ্যাসিসটেন্স (কার্মা)’র কাজ কর্মে দিনভর সাহায্য করে থাকে কলকাতা পুলিশ (ট্রাফিক) কন্ট্রোল রুম ও মোটর ট্রান্সপোর্ট সেকশন এবং নিয়ন্ত্রণ করা হয় একটি কমান্ড সেন্টার থেকে যা মেডিকা হসপিটালে অবস্থিত।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ ১৮টি জায়গায় অ্যাম্বুল্যান্স রাখা আছে তাই নয়, সঙ্গে মেডিকা দ্বারা প্রশিক্ষিত প্যারা মেডিক্যাল স্টাফও রয়েছে এবং বাড়তি সুবিধার জন্যে কমান্ড সেন্টারও প্রস্তুত থাকে। কলকাতা পুলিশের দুজন মেডিকেল টেকনিশিয়ান রয়েছেন এবং সঙ্গে কলকাতা পুলিশের পার্সোনাল, ড্রাইভার এবং জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ পরিকাঠামো রয়েছে দিনে অন্তত ১০-১৫ ফোন আসেই। মেডিকা গ্রুপ অফ হসপিটালের সিএসআর এর অধিকর্তা মঞ্জুলা সিংহ নিরাপদ নিউজকে জানান, কার্মা আরটিএ অর্থাৎ পথ দুর্ঘটনায় জখম মানুষদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যায়, যার ফলে চিকিৎসা শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিলম্ব না হয়। উনি জানান, কার্মার আগে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার কোনও উপায় সেইরকম ছিল না। কার্মার এই প্রজেক্ট চালু হওয়ার পর ইতিমধ্যেই পথ দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৬ জন মানুষকে মেডিকা হসপিটালে ভর্তি করানো গিয়েছে। বলাই বাহুল্য, মেডিকা হসপিটালের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বাহবা দেওয়ার মতো। মেডিকা সুপার স্পেশালটি হসপিটালের রিজিওনাল অ্যাডমিনিসট্রেটার সুদীপ ভট্টাচার্য এই বিষয়ে নিরাপদ নিউজকে জানান, এই যানবাহনের দায়ভার যারা নিয়েছেন তারা বেসিক লাইফ সাপোর্ট এবং ট্রমা ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রেও সমান পটু, বিশেষ করে এই আরটিএ জখম মানুষদের ক্ষেত্রে। প্রশাসনিক এবং ম্যানেজমেন্ট উভয় ক্ষেত্রেই কার্মা প্রজেক্টটি দক্ষতার সাথেই করা হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)