ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

চট্টগ্রাম, ভ্রমন পর্যটকদের জন্য নতুন সাজে খাগড়াছড়ি

পর্যটকদের জন্য নতুন সাজে খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির হেরিটেজ পার্ক

খাগড়াছড়ির হেরিটেজ পার্ক

খাগড়াছড়ি, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৪, নিরাপদনিউজ : আসন্ন পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের আকর্ষন করতে নতুন সাজে সেজেছে প্রকৃতির রানী সবুজ-অরুন্য ঘেরা পাহাড় বেষ্টিত খাগড়াছড়ি। শীত মৌসুমে স্বজনদের নিয়ে পরিবার ও পিকনিকের মতো ব্যবস্থা থাকলে এখুনি বেড়ানো উপযুক্ত সময়। পর্যটকদের থাকা-খাওয়া ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থানে যাওয়া-আসার জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যাবস্থা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
খাগড়াছড়ি জেলায় এমনিতেই সবুজাব পাহাড়ের ছড়াছড়ি। তার উপরে পাহাড়ের বুক ছিড়ে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী, কাচলং, মাইনী আর ফেনী নদী খাগড়াছড়ি জেলাকে সাজিয়েছে অপরুপ সাজে। চারিদিকে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ পাহাড়, এবং ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী আদিবাসীর বৈচিত্র্যময় জীবন-সংস্কৃতির কারণে পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এ জেলা। জেলার সদর উপজেলার হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলার প্রাকৃতিক গুহা, হেরিটেজ পার্ক, মাটিরাংগার শতবর্ষী বটগাছ, রিছাং ঝর্না, মহালছড়ির মনারটেক লেক, দেবতার পুকুর, মানিকছড়ির বনলতা এগ্রো প্রাইভেট, পুরাতন রাজবাড়ি, পানছড়ির অরণ্য কুঠির, রামগড়ের কৃত্রিম লেক, চা বাগান, দিঘীনালার হাজাছড়া-তৈদুছড়া ঝর্নাসহ রয়েছে শতাধিক মনোরম পর্যটন স্পট।
খাগড়াছড়ির বেসরকারী হোটেল গাইরিং এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা বলেন ইতিমধ্যে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়েছে। পুরো শুষ্ক মৌসুম জুড়েই পর্যটন মৌসুম এবং এসময় তারা ভালো পর্যটক পাবেন বলে তিনি আশা করেন। তিনি ও খাগড়াছড়ি বিভিন্ন আকর্ষনীয় স্থান ভ্রমন ও উপভোগ করতে সবাইকে অনুরোধ জানান। খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ম্যানেজার ক্যচিং মারমা বলেন, খাগড়াছড়িতে পর্যটন মৌসুমে হাজার হাজার পর্যটক আসে। তবে তাদের মোটেলে গড়ে ২০০জন থাকার ব্যাবস্থা থাকলে গড়ে ১০০-১২০জন দেশী-বিদেশী পর্যটক থাকে। গত বছর তারা প্রায় দেড় কোটি টাকা আয় করেছে। এ বছর পর্যটনের জন্য ভালো সময় যাচ্ছে এবং আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তিনকোটি টাকা ।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ করিম বলেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য খাগড়াছড়ি অত্যন্ত চমৎকার জায়গা। যে কোন পর্যটক একবার খাগড়াছড়ির নয়নাভিরাম সবুজাব পাহাড়ের দৃশ্য, চপলা ঝর্ণা, সর্পিল নদী, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্রময় জীবনধারা ও বর্ণাঢ্য সংস্কৃতি উপভোগ করলে তিনি এ জেলায় বারবার আসবেন। তিনি সকলকে বিভিন্ন দেশের পর্যটন স্থানগুলো ভ্রমনের আগে খাগড়াছড়ি ভ্রমনের আমন্ত্রন জানান।

আলুটিলা পর্যটন
খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথেই সবচেয়ে খাগড়াছড়ির বড় পর্যটন স্পট আলুটিলা। প্রায় হাজার ফুট উচুঁতে দৃষ্টি-নন্দন এই আলুটিলার শীর্ষে দাঁড়ালে শহর, চেঙ্গী নদীর সর্পিল গতিপ্রবাহ ও বিস্তৃত আকাশের মেঘমালা সবার মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। এখানে রয়েছে একটি রহস্যময় প্রাকৃতিক গুহা। পাহাড়ি পথ বেয়ে গুহার মুখ পর্যন্ত যেতে দর্শনার্থীদের এক সময় কষ্ট হলেও এখন পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে পাকা সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের চূড়া বেয়ে ২৬৬টি সিঁড়ি পেরোলেই গুহামুখ। গুহাটির ভিতরের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট। অন্ধকার গুহার ভিতরে মশাল নিয়ে ঢুকতে হয়। গুহার সৌন্দর্য ও ভিতরের শতশত বাদুড়ের উড়াউড়ির দৃশ্যও চোখে পড়ে।

হর্টিকালচার পার্ক
খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ১ কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে হর্টিকালচার পার্ক। শিশুদের জন্য আকর্ষনীয় বিনোদন ব্যাবস্থার পাশাপাশি এখানে রয়েছে ঝুলন্ত ব্রিজ, কৃত্রিম লেক, সু-সজ্জিত ফুল ও ফলদ বাগান। ছায়া-সুনিবিড় এই পার্কে ও লেকে শীতকালে দেখা যায় শতশত পাখি।

হেরিটেজ পার্ক
খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের সামনে, চেঙ্গী নদীর অববাহিকায় জেলা আনসার ২০০৭ সালে গড়ে তোলে হেরিটেজ পার্ক। এই পার্কে গ্রামীন অবয়বে রয়েছে ছোট-ছোট কুঠির। এসব কুঠিরে বসে চেঙ্গী নদীর প্রবাহ, সুর্যোদয় ও সুর্যাস্ত দেখা যায়। উপভোগ করতে পারেন নানা মৌসুমী ফলের জুস।

রিছাং ঝর্ণা
আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরেই রিছাং ঝর্ণা। মূলত রিছাং মারমা ভাষার শব্দ। শব্দটি বিশ্লেষন করলে ‘রি’ অর্থ পানি আর ছাং শব্দের অর্থ ধারা বুঝায়। ছন্দে-ছন্দে প্রবাহমান হিম শীতল ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি যে কাউকেই কাছে টানবে। এর জন্য অবশ্য মূল সড়ক থেকে কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে। রিছাং ঝর্ণায় যেতে ইতিমধ্যেই মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবেশ মুখে একটি গেটসহ পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কটি গোল ঘর। নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে পুলিশী চৌকি।

দেবতা পুকুর
মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম নুনছড়ি মৌজায় অবস্থিত প্রকৃতি দেবতার পুকুর। সমুদ্র-পিষ্ঠ থেকে প্রায় ১১০ ফুট উপরে পাহাড়ের চূড়ায় ৫ একর জায়গায় অবস্থিত এই পুকুরটি। পুকুরটির স্তিথিশীল স্বচ্ছ জলরাশি পর্যটকদের আকর্ষন করে। পুকুরের চারিদিকে রয়েছে ঘন সবুজ বনরাজি। স্থানীয় ত্রিপুরা ও মারমা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস স্থানীদের পানি চাহিদা পুরণের জন্য জলদেবতা পুকুরটি তাদের উপহার দেন। প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিতে হাজারো নারী-পুরুষ পূর্ন্য লাভের আশায় দেবতা পুকুর পরিদর্শনে আসেন। ।

ভগবান টিলা
মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে সোজা উত্তরে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ভগবান টিলা। জেলা সদর থেকে উত্তর পশ্চিমে এর কৌণিক দূরত্ব আনুমানিক ৮৫ কিলোমিটার। সবুজের বুক চিরে আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে গেলে দেখা যাবে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত এ টিলা সম্পর্কে স্থানীয়দের ধারণা, এ টিলার উপরে দাঁড়িয়ে ডাক দিলে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা শুনতে পান। আর এ কারণেই এ টিলার নামকরণ ভগবান টিলা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর একটি আউট পোস্ট রয়েছে এখানে।

পুরাতন মহাকুমা রামগড় চা বাগান
রামগড় সীমান্ত ঘেঁষে জেলায় প্রবশের সম্মুখভাগে খাগড়াছড়ি-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের-সড়কের দুইধারে, ফেনীর নদীর অববাহিকায় অবস্থিত চোখ জুড়ানো চা বাগান। যা খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পকে করেছে আরো আলোকিত। ভ্রমণপিপাসুদের স্বাগত জানাতে সদা প্রস্তুত সবুজ গালিচা বিছানো এ চা বাগান।

রামগড় লেক
জেলা সদর হতে ৫০কিমি উত্তর-পশ্চিমে রামগড় উপজেলা। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০০১ সালে রামগড় উপজেলা পরিষদের সামনে সৃষ্টি করা হয় লেকটি । হ্রদটি প্রায় ২৫০ মিটার লম্বা। এতে রয়েছে ছোট-বড় বেশ কটি নৌযান। এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন, লেকটির চারপাশে রেলিং বাঁধানো আর ফুল বাগানে সজ্জিত। মাঝখানে রয়েছে সুদৃশ্য ঝুলন্ত সেতু। রয়েছে সুন্দর সুন্দর বাগান, সবুজ ঘাস, আধুনিক লাইটিং, লেকে নামার জন্য শান বাঁধানো সিঁড়ি। দুই তীরের উদ্যানে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে ১২টি শেড।

মানিকছড়ি পুরাতন মং সার্কেল রাজবাড়ী
চট্রগ্রাম থেকে সড়ক পথে খাগড়াছড়ি আসার প্রবেশমুখেই মানিকছড়ি উপজেলা। উপজেলা সদরে রয়েছে ্ঐহিহ্যবাহী মানিকছড়ি পুরাতন মং সার্কেল রাজবাড়ী। রাজবাড়ীতে রয়েছে মং সার্কেল চিফ মংরাজা মংপ্র“চাই চৌধুরী এর রাজত্বকালীন বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা। রাজার সিংহাসন, মূল্যবান অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রতœতাত্ত্বিক অনেক স্মৃতি বিজড়িত এ রাজবাড়ী।

মানিকছড়ি বনলতা এগ্রো লি
মানিকছড়ি উপজেলা হাতিমুড়া এলাকায় অবস্থিত এই বাগানটি। প্রায় ৫০০একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই বাগানে রয়েছে ৫টি লেক। পুরো বাগানজুড়ে বনজ, ফলদসহ বিভিন্ন প্রজাতির রয়েছে হাজার হাজার গাছ। রয়েছে পাখ-পাখালির কলতান।

মাটিরাঙ্গা শতাবর্ষী বটগাছ
মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি আলুটিলা-বটতলী এলাকায় এ বহু পুরানো শতবর্ষী বটবৃক্ষটি ইতিহাসের সাক্ষী। ৫ একরের অধিক ভূমির উপরে এ গাছটি হাজারো পর্যটককে আকর্ষণ করেছে। মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা ডালপালা ও ঝুড়ি মাটিতে মিশে এক একটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। বটগাছটিকে ঘিরে আছে নানা কাহিনী। যেমন এটি রোগমুক্তির প্রতীক। মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিমি উত্তরে অবস্থিত এ বটবৃক্ষের নামানুসারেই গড়ে উঠেছে বটতলী নতুন বাজার। গাছটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্কুল, মাদ্রাসা ও বাজার।

আকর্ষণীয় সাজেক ভ্যালী দার্জিলিং খ্যাত
রাংগামাটি জেলা বাঘাইছড়ি উপজেলার দেশের বৃহত্তম ইউনিয়ন সাজেক উপত্যকা দার্জিলিং খ্যাত। অত্যন্ত আকর্ষনী স্থান ভারত-মিজোরাম সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত পাহাড়ী অঞ্চল । ইদানিং প্রশাসনিক থানায় রুপান্তর উন্নীত করায় জীব-মাইবাস যোগে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক হয়ে সরাসরি যাওয়ার সুযোগ আছে। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবস্থাপনায় নতুন রেষ্ট হাউজে থাকা-খাওয়া ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ে সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তারা ঘুরে যাওয়ার ফলে কিছুটা হলেও উন্নয়ন ছুয়া লাগতে শুরু করেছে । তবে যাওযার সময় নিজেকে প্রস্তুত করে পানি থেকে শুরু করে সকল প্রকার প্রয়োজনীয় খাবার দ্রবাদি সংগে নিয়ে যেতে হবে। সাজেক ভ্যালীর পাংখু-লুসাই, ত্রিপুরা স্থানীয় বাসিন্দারা অতিথি আপ্যায়নে-পিপাসু মনা। ভাল ব্যবহারে ভাল আচরন পাবে, নচেৎ খারাপ আচরনে বিপদ ডেকে আনতে পারে সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে পর্যটকরা।

খাগড়াছড়ি জেলা শহরে পর্যটন ও ধর্মীয় স্পট
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শহরে ভিতরে শতবর্ষে ঐতিহ্যবাহী বৌদ্ধদের য়ংড বৌদ্ধ বিহারে বড় বৌদ্ধ মুর্তি দর্শন করা যায় । বাজার এলাকায় মুসলিম ধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী লাইটিং সজ্জিত বিশ্রাল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ আদায় করা যায় । হিন্দু সনাতন ধর্মালম্বীদের কেন্দ্রীয় লক্ষী নারায়ন মন্দির ও খাগড়াপুরে খ্রিষ্টানদের ব্যাপিটিস্ট গীর্জায় প্রার্থনা করা যায়। দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে ১০০ ৩৪একরের বেশী বারিই-পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে নানা প্রজাতি’র ফলের বাগান উপভোগ করা যাবে। পানছড়ি-খাপড়াছড়ি সড়কে পেড়াছড়া ধর্মপুর অরন্যকুটির বন বিহারের আর্কষনীয় বৌদ্ধদের এলাকায় ঘুড়ানো যায়।

খাগড়াছড়ি সদরে আদিবাসীদের খাবার সিষ্টেম রেস্টুরেন্ট
খাগড়াছড়ি জেলা সদরে পান খাইয়া পাড়াস্থ ঐতিহ্যবাহী অত্যাধুনিক সিষ্টেম রেষ্টুরেন্ট এ সিষ্টেমে আদিবাসী বিভিন্ন রকমে সু-সাধু খাবার খাওয়া যায় । সারা দিনের ঘুরাঘড়ি’র ক্লান্তি ক্ষনে হরেক রকমে সিদ্ধ-শাক-সব্জি(আপ্রাইং), বড়তা(লাকসু), মাছ-মাংস নানা প্রজাতী খুবই উপযোগী খাবার পরিবেশিত হয়। তানকুনি-আদাগুনগুনি ঔষধি লতা-পাতা মিশ্রিত চাইলে পাওয়া যায়। খাবার শেষে কলা, পান ও আমলকি’র ফল বিনা খরচে খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। খাবার সময় পাহাড়ী-বাংগালী মিলন মেলায় পরিনত হয় অর্থাৎ আগে-বাগে অর্ডার দিয়ে নিশ্চিত করা বান্চনীয় ।

কিভাবে আসবেন
ঢাকা হতে খাগড়াছড়ির দূরত্ব ৩১৬ কি.মি ও চট্টগ্রাম হতে ১০৯ কি.মি। ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, কলাবাগান থেকে সরাসরি বাস রয়েছে খাগড়াছড়িতে। উপকূল সেন্টমার্টিনের এসি বাস, এস আলম, সৌদিয়া, শান্তি পরিবহন,ও শ্যামলী পরিবহনের যে কোনো একটি বেঁচে নিতে পারেন। নন-এসিতে গুণতে হবে ৫২০ টাকা। আর এসিতে গুনতে হবে ৭০০টাকা। চট্টগ্রাম থেকে আসতে হলে অক্সিজেন অথবা কদমতলী বিআরটিসি বাস টার্মিনাল যেতে হবে। অক্সিজেন থেকে রয়েছে শান্তি পরিবহন ও লোকাল বাস এবং কদমতলী থেকে বিআরটিসি। চট্টগ্রাম থেকে আসতে ১৮০-২২০ টাকা গুণতে হবে।

পর্যটন স্পটগুলোতে কিভাবে যাবেন
খাগড়াছড়ি শহর থেকে এসব পর্যটন স্থানে যেতে কমপক্ষে ১০০টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। খাগড়াছড়ি থেকে আলুটিলা এবং রিছাং ঝর্ণায় আসা যাওয়ায় মাথাপিছু খরচ হবে ১০০টাকা, মাটিরাংগার শতবর্ষী বটগাছ দেখতে গেলে মাথা পিছু ২০০টাকা, মহালছড়ির দেবতা পুকুর দেখতে গেলে মাথা পিছু ৩০০টাকা, মানিকছড়ির রাজবাড়ি অথবা বনলতা এগ্রো লিমিটেডে যেতে মাথাপিছু ৩০০ থেকে ৩৫০টাকা, দিঘীনালার হাজাছড়া-তৈদুছড়া ঝর্নায় অথবা রামগড়ে আসা-যাওয়ায় খরচ মাথাপিছু খরচ হবে ৪০০টাকার মতো। এছাড়া অন্যান্য মনোরম পর্যটন স্পটগুলোতে আসা যাওয়ায় প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাস নিয়ে গেলে সর্বোচচ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

কোথায় থাকবেন
শহরের প্রবেশমুখে চেঙ্গী নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত পর্যটন মোটেলের ডবল রুম নন-এসি ১০৫০ টাকা, ডবল এসি রুম ১৫০০ টাকা, ভিআইপি স্যুইট ২৫০০ টাকা। এ ছাড়াও রয়েছে জেলা সদরের মিলনপুরে হোটেল গাইরিং ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হোটেল ইকোছড়ি ইন। সেখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। মহাজন পাড়ায় খাগড়াছড়ি গেষ্ট হাউস হোটেল, আদিবাসী খাবার ইজর, টং রেস্টুরেন্ট কাম কমিউনিটি সেন্টার। খাগড়াছড়ি বাজার এলাকার হোটেল জিরান, হোটেল আল-মাসুদ, হোটেল লবিয়ত, হোটেল ফোর স্টারসহ অনেকগুলো হোটেলে থাকতে পারবেন সুলভে। খাগড়াছড়ি হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক এস অনন্ত ত্রিপুরা জানান, পর্যটকের সংখ্যা বিগত দিনের চেয়ে বেড়েছে। পর্যটন স্পটগুলো আরো একটু সংস্কার করলে পর্যটকদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলবে। খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো. মিজানুর রহমান জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় তিন পোশাকধারীর পাশাপাশি ডিবি ও সাদা পোশাকে পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন। কোনো পর্যটক পুলিশ চাইলে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)