ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪১ মিনিট ৪ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৭ রমযান, ১৪৪০

সম্পাদকীয় পলিথিনের সর্বগ্রাসী আগ্রাসন

পলিথিনের সর্বগ্রাসী আগ্রাসন

নিরাপদ নিউজ:  সর্বগ্রাসী এক আগ্রাসনের নাম পলিথিন। এটি মাটি, পানির দূষণ ঘটাচ্ছে। পলিথিন পচে না, মাটির গুণগত মান ও উর্বরা শক্তি হ্রাস করে। মাটির পুষ্টিপ্রবাহে ও মাটিতে সূর্যের আলো প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। অপচনশীল দ্রব্য থাকায় মাটি তার মৌলিকত্ব হারাচ্ছে। যেখানে সেখানে পলিথিন ফেলার কারণে মাটির ভেতরে চলে যাওয়ায় মাটিতে থাকা অনুজীবগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে না। এটি শত শত বছর পড়ে থাকলেও মাটিতে মেশে না। পলিথিন মাটির ক্ষতি করে এবং ফসলি জমি ও নদীনালায় ফেলার কারণে মাটি, পানি, পরিবেশ বিপর্যস্ত করে তুলছে।

এটি সহজলভ্য হওয়ায় তরিতরকারির খোসা, মাছের বর্জ্য, খাবারের উচ্ছিষ্ট, বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা পলিথিন ব্যাগে ভরে ডাস্টবিন, রাস্তাঘাট ও মাঠে ময়দানে ফেলা হচ্ছে। সহজে পরিবহন করা যায় এবং দামে সস্তা থাকায় পলিথিনের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা না করেই ব্যাপক হারে এর ব্যবহার শুরু হয়েছে। ফলে জনজীবন, জনস্বাস্থ্যসহ পরিবেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা সহজে বোধগম্য নয়।

প্রতিবেদনে থেকে জানা যায়, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানেও পলিথিন ব্যাগকে চর্মরোগের এজেন্ট বলা হয়। পলিথিনে মাছ, মাংস মুড়িয়ে রাখলে কিছুক্ষণ পর এতে রেডিয়েশন তৈরি হয়ে খাবার বিষাক্ত হয়ে ওঠে। পলিথিনে রঙ করার জন্য ক্যাডমিয়াম মানবশরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। উন্নত দেশগুলোয় ক্যাডমিয়াম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ফ্রিজে বা স্বাভাবিকভাবে সংরক্ষণের জন্য ঝুঁকিমুক্ত মোটা কাগজ ব্যবহার হয়। তাছাড়া আমাদের দেশে বর্তমানে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যত্বের যে প্রকট সমস্যা, তার মূলেও রয়েছে পলিথিনের ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রভাব। পলিথিনে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মানুষকে সন্তান জন্মদানেও অক্ষম করে দেয়।’

আইনে নিষিদ্ধ থাকলেও পলিথিন কোনোমতেই রোধ হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত উৎপাদন, পরিবহন, বিপণন আর বাজারজাত চলছে। প্রচলিত আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় পলিথিনের উৎপাদন আর বাজারজাতের সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত। ফলে হাত-পা বাঁধা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কিংবা কোণঠাসা পরিস্থিতি লক্ষ করা যায়। অথচ শোনা যায় পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পলিথিনের কারখানা থাকলেও উৎপাদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধই হচ্ছে না। উপরন্তু দিনের পর দিন সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে তৃণমূলেও পলিথিন ব্যাগ পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরাও জনসমক্ষে প্রকাশ্যে দেদার পলিথিন ব্যাগ ক্রয়-বিক্রয় করছেন।

পলিথিন ব্যাগের ক্ষতিকারক বিষয়গুলো বিবেচনা করে ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল সরকারি সিদ্ধান্তে সব ধরনের পলিথিন শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ প্রজ্ঞাপন জারির পর কিছুদিন পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে আইন বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত না হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার শুরু হয়। অথচ দেশে পাটের সুবর্ণ যুগ থাকলেও সেটি হারিয়ে যেতে বসেছে। পরিবেশবান্ধব পাটের ব্যাগের প্রচলন শুরু করা গেলে পাটচাষীদের সুদিন ফিরে আসবে। আবার পরিবেশেরও উন্নয়ন ঘটবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)