আপডেট মার্চ ১৮, ২০১৮

ঢাকা শনিবার, ৬ মাঘ, ১৪২৫ , শীতকাল, ১২ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০

উপসম্পাদকীয় পশ্চিমা বিশ্বের সাথে রাশিয়ার যুদ্ধ কি আসন্ন? ম্যাক্স বুট

পশ্চিমা বিশ্বের সাথে রাশিয়ার যুদ্ধ কি আসন্ন? ম্যাক্স বুট

উপসম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ :গত দশ বছর ধরেই রাশিয়া পশ্চিমা বিশ্বের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করে আসছে। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলি একে অগ্রাহ্য করছে। রাশিয়ার ট্যাঙ্ক যখন পোল্যান্ড আক্রমণ করে কিংবা এর ক্ষেপনাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ শহরে আঘাত হানে, তখন একে প্রথাগত যুদ্ধ বলা যায় কিনা তা আমি নিশ্চিত নই। তবে মস্কোর যুদ্ধের ধরন অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও কার্যকর।
পশ্চিমা বিশ্বের সাথে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হয় ২০০৮ সালে যখন রাশিয়া পশ্চিমা সমর্থক দেশ জর্জিয়ায় হামলা চালায়। জর্জিয়া ইরাক ও আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠায় এবং সেই সময় তারা ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারে ছিল উদ্বিগ্ন। এই আগ্রাসনের জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের কোনো শাস্তি তো হয়নি, উল্টো বারাক ওবামার প্রশাসন রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের নীতি গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে ইউক্রেনে হামলার মাধ্যমে পুতিন আবার আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দিলেন। এমনকি তিনি ক্রিমিয়া দখল করে নিয়ে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলকে রাশিয়ার প্রক্সি স্টেটে পরিণত করলেন। এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলি রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ করল। কিন্তু পুতিনকে ভুলপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে তা যথেষ্ট ছিল না।
২০১৪ সালে ইউক্রেনের ওপর দিয়ে মালয়েশিয়ার একটি বিমান উড়ে যাচ্ছিল। রাশিয়ার বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র তাকে টার্গেট করলে তা বিধ্বস্ত হয় এবং ২৯৮ জন মানুষ মারা যান। কিন্তু দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষতিপূরণ দিবার বদলে পুতিন উল্টো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হাজির করেন। ২০১৫ সালে পুতিন যুদ্ধাপরাধী বাশার আল আসাদ সরকারকে সহায়তার নামে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং এখন সিরিয়ায় গত মাস থেকে যা ঘটছে তার উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়া থেকে বিদায় করা।
পুতিন ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে নগ্ন হস্তক্ষেপ করেন। ইউরোপেও বিভিন্ন নির্বাচনে রাশিয়াপন্থী প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে হস্তক্ষেপ করা হয়। ডিজিটাল মিডিয়া বাজফিডের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, পুতিন ব্রিটেনে ১৪ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত একজনকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে থাকতে পারেন। ব্রিটিশ তদন্ত সংস্থার মতে, ২০০৬ সালে পক্ষত্যাগী দুজন সাবেক রাশিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। গত সপ্তাহেও ব্রিটেনে একজন পক্ষত্যাগী রাশিয়ার সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও তার মেয়েকে ‘নার্ভ এজেন্ট’ নামক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রাসায়নিক বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের পর বারাক ওবামা ৩৫ জন রাশিয়ার কূটনীতিককে বহিষ্কার করেন। এর জবাবে পুতিন রাশিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫০-এর বেশি কূটনৈতিক পদ বিলুপ্ত করেন। এখন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ২৩ জন রাশিয়ান কূটনীতিককে বহিষ্কার করলেন। পুতিন এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়া থেকে ব্রিটেনের কূটনীতিকদের বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন এবার ব্রিটেনের সাথে যোগ দিয়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে নার্ভ এজেন্টের ব্যবহারকে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র তার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য রাশিয়ার সাইবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে, কিন্তু তা আহামরি কিছু নয়। পুতিনের ব্যাপারে ট্রাম্পের অনিচ্ছাকৃত সমালোচনায় কেউ কেউ বিস্মিত হতে পারেন। তবে রাশিয়ার আগ্রাসনের ব্যাপারে সিরিয়াস ভূমিকা নিতে হলে তাদের অর্থ-সম্পদ জব্দ করুন। পুতিন এরইমধ্যে গ্রুফ-৮ থেকে চলে গেছেন। এখন গ্রুফ-২০ থেকেও তাদের বিদায় জানানো যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মনিটারি ট্রান্সফার তথা সুইফট পদ্ধতি থেকেও তাদের বিদায় জানানো যেতে পারে যাতে রাশিয়ার ব্যাংকগুলি আন্তর্জাতিক লেনদেন না করতে পারে। খালি কথা আর নয়। এ ক্ষেত্রে দরকার শক্তিশালী পদক্ষেপ। যাতে রাশিয়ার লৌহমানব বুঝতে পারেন যে, তিনি এই অঘোষিত যুদ্ধে জিততে পারবেন না। (ঈষৎ সংক্ষেপিত ও মতামত লেখকের একান্ত নিজস্ব)

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট থেকে অনুবাদ : ফাইজুল ইসলাম

লেখক : কলামিস্ট ও কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের একজন সিনিয়র ফেলো

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)