আপডেট জুলাই ৫, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

রংপুর, সড়ক সংবাদ পাঁচ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা এই জরাজীর্ণ সেতুটি

পাঁচ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা এই জরাজীর্ণ সেতুটি

নিরাপদ নিউজ: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাইহাট ইউনিয়নে নলেয়া নদীর ওপর আমিনের ঘাটে দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেই। তাই ৮০ ফুট দীর্ঘ একটি জরাজীর্ণ কাঠ-বাঁশের সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন লোকজন। এই কাঠের সেতুতে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না বলে মালামাল পরিবহনেও এলাকাবাসীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে উপজেলা সদরে।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, নাকাইহাট ইউনিয়নের পুরানদহ গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষের চলাচলের মাধ্যম এই সেতু। বিশেষ করে বর্ষাকালে সেতুটি অনেক বেশী প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। রোদ-পানিতে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই কাঠ নষ্ট হয়ে যায়। সংস্কারে কেউ এগিয়ে না আসায় দুর্ঘটনা এখানে নিত্যদিনের ব্যাপার। তাই একটি স্থায়ী ব্রিজের দাবি সকলের।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা ৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের জন্য দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

পুরানদহ গ্রামের মেঘারচর পাড়ার রিজিয়া বেগম (৪৫) জানান, জরাজীর্ণ সেতুটি পারাপারে বেশি সমস্যায় পড়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ ও শিশুরা। এই প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিয়মিত গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে থাকে শিক্ষার্থীরা।

গোবিন্দগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থী রুখসানা খানম জানান, ঘুনে ধরা কাঠে পা দেবে গেলে আতঙ্কিত হলেও উপায়হীন মানুষকে যেতেই হয়।

সমাজসেবী অনুপম সরকার (৬২) বলেন, উপজেলা সদরে ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যাতায়াত, মামলা মোকদ্দমাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় যেকোনো কাজে এই সেতুর ওপর দিয়েই নলেয়া নদীর এ পাড়ের মানুষদের চলাচল করতে হয়। পায়ে হেঁটে ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পার হতে হয় তাদের।

এ বিষয়ে নাকাইহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের জানান, এলাকার মানুষের চলাচলের এ দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় নলেয়া নদীর উপর ব্রিজ বা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবির মুখে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০১৭ সালে আমিনের ঘাটে কাঠের এই সেতুটি নির্মিত হয়। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)