ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২৯ মিনিট ২৮ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ সফর, ১৪৪১

খুলনা, সড়ক সংবাদ পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নবাসীর পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নবাসীর পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

পাইকগাছার সোলাদানা ইউনিয়নবাসীর পারাপারের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো

এইচ,এম,শফিউল ইসলাম, নিরাপদ নিউজ : পাইকগাছার অবহেলিত সোলাদানা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের পারাপারে একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। এ ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষের পারাপারের জন্য বিভিন্ন বদ্ধ নদী ও খালে কমপক্ষে ২০টি বাঁশের সাঁকো রয়েছে। এসব সাঁকো পার হয়ে এলাকার মানুষকে সম্পন্ন করতে হয় দৈনন্দিন কার্যক্রম। পর্যাপ্ত ব্রীজ কালভার্ট না থাকায় বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয় এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে পারাপারে বেশি দূর্ভোগে রয়েছেন নারী ও স্কুলগামী ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা। পাশাপাশি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এলাকার সামগ্রীক উন্নয়ন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা বাস্তবায়নে অবহেলিত এ ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরী হয়ে পড়েছে। সূত্রমতে, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে অনুন্নত ও অবহেলিত ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে সোলাদানা ইউনিয়ন অন্যতম। ইতোমধ্যে ইউনিয়নের প্রধান সড়কের উন্নয়ন ও বেশ কিছু গ্রামে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অবহেলিত রয়েছে ইউনিয়নটি। ইউনিয়নের অসংখ্য সড়ক এখনো যেমন কাঁচা রয়েছে, তেমনি ইউনিয়নে রয়েছে অসংখ্য বদ্ধনদী ও খাল। এ সকল নদী ও খাল পারাপারে এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে নির্মাণ করা হয়নি ব্রীজ কিংবা কালভার্ট। ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০টি বাঁশের সাঁকো পার হয়ে চলাচল করতে হয়। কুচিয়া নদীর উপর দক্ষিণ কাইনমুখি, টেংরামারী প্রাইমারী স্কুল, গোলবুনিয়া ভীম সরদারের বাড়ী, চারবান্দা শিবসা প্রাইমারী স্কুল, জেলা পরিষদ সদস্যের বাড়ী, তাটের খালে, বয়ারঝাপা সোলাদানা গ্রাম সংযোগ স্থল, গোয়ালের খালের উপর বিমল সরদারের বাড়ী, আবু বক্কর গাজীর বাড়ী, বেতবুনিয়া খালের খাটুয়া আমির আলীর বাড়ী, ভাঙ্গাহাড়িয়া খালের আলহাজ্ব লুৎফার আলীর বাড়ী সহ বিভিন্ন বদ্ধনদী ও খালের উপর এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে তৈরী করা কমপক্ষে ২০টি বাঁশের সাঁকো রয়েছে। দক্ষিণকাইনমুখি, দীঘা, আমুরকাটা, চারবান্দা, গোলবুনিয়া, নতুন চক, টেংরামারী, উত্তর কাইনমুখি, পার বয়ারঝাপা, বেতবুনিয়া, খাটুয়ামারি, পাটনিখালী, সোলাদানা ও বয়ারঝাপা সহ ১৫ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এসব সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম করে থাকে। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হয় উন্নয়ন কার্যক্রম, তেমনি ঝুকি নিয়ে পার হতে হয় নারী ও শিশুদের। দীঘা গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষার্থী টুম্পা সরকার জানান, প্রতিদিন বই-খাতা নিয়ে ঝুকির মধ্যে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। অনেক সময় পানিতে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। চারবান্দা গ্রামের গৃহবধু নমিতা রানী জানান, প্রতিদিন সাঁকো পার হয়ে সুপেয় পানি আনতে হয়। ভারী পানির কলস নিয়ে সাঁকো পার হওয়া অনেক ঝুকিপূর্ণ বিষয়। এভাবেই দিনেরপর দিন মাসেরপর মাস ঝুকি নিয়ে আমাদেরকে পারাপার হতে হয়। জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান গাজী জানান, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, গৃহবধুদের পানি আনা-নেওয়া, বাজার ঘাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সকল কাজ এলাকাবাসীকে সাঁকো পার হয়ে করতে হয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন নদী ও খালের উপর কমপক্ষে ২০টি ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ জরুরী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সহ জেলা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা পরিষদ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ১০টি ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে যাতায়াতে এলাকাবাসীর ভোগান্তি কমে আসবে বলে জেলা পরিষদের এ প্রতিনিধি জানান।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)