ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৫৯ মিনিট ১১ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৫ রবিউস-সানি, ১৪৪০

কৃষি, খুলনা পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাল্টা চাষ

পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাল্টা চাষ

এইচ,এম,শফিউল ইসলাম,নিরাপদনিউজ : পাইকগাছায় বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মাল্টা চাষ। চলতি বছর ৪৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু করা হয়েছে। এলাকার পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও লবণ সহিষ্ণ হওয়ায় মাল্টা চাষ জনপ্রিয় করে তুলতে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম (এনএটিপি-২) প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১ হাজার ৮শ বারি মাল্টা-১ চারা বিতরণ করা হয়েছে। যেভাবে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে এবং কৃষকরা মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠাই আগামীতে মাল্টা চাষের অপার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে মাল্টা জনপ্রিয় ও লাভ জনক একটি ফল। এটি প্রায় সারা বছরই বাজারে পাওয়া যায়। মাল্টা প্রায় সকলের কাছে প্রিয় একটি ফল। পরিবারের শিশুরাও এটি খেতে বেশ পছন্দ করে। জনপ্রিয় এ ফলটির অনেক পুষ্টি গুনাগুনও রয়েছে। এতে আছে, ভিটামিন ‘সি’ ভিটামিন ‘বি’ ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং চর্বিমুক্ত ক্যালরি। এর ঔষধী গুনাগুনও কম নয়। শীতকালীন ঠোঁট ফাটা, পায়ের তালু ও হাতের তালু ফাটা রোগ রোধ করে মাল্টা। সর্দি, নাক বন্ধ থাকা, টনসিলের সমস্যা, গলাব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব, হাঁচি-কাশি, মাথাব্যাথা, ঠান্ডাজনিত দূর্বলতা সহ এ জাতীয় সমস্যা দূর করে মাল্টা। মাল্টা পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে। মাল্টা ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল যা এন্টি অক্সিডেন্ট সমূহের উৎস। এটি ত্বকে সজীবতা বজায় রাখে এবং ত্বকের বলি রেখা প্রতিরোধ করে লাবণ্য ধরে রাখে।

মাল্টা ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে। এটি প্রদাহ জনিত রোগ সারিয়ে তোলে। দাঁত, চুল , ত্বক ও নখের পুষ্টি জোগায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত মাল্টা খায় তাদের দাঁতের রোগ অনেক কম হয়। জিহবায় ঘা, ঠোঁটের ঘা, জ্বরের সময় জ্বর ঠোসা সহ ত্বক জিহবার অনেক রোগ ভালো করে। নিয়মিত মাল্টা খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। মাল্টার ভিটামিন ‘সি’র উপাদান আমাদের শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদের শরীরের কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের অন্যতম প্রতিশোধক হিসাবে কাজ করে। প্রতিদিন একটি করে মাল্টা খাওয়ার অভ্যাস দৃষ্টি শক্তিকে ভাল রাখে। রক্তের চর্বির পরিমান কমাতে মাল্টা সাহায্য করে। প্রবীণ, গর্ভবতী নারী, মাতৃদৃগ্ধদানকারী মহিলাদের নিয়মিত মাল্টা খাওয়া উচিৎ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মাল্টার বহুগুণ থাকলেও এটি সচরাচর শখের বসে টবে কিংবা বাড়ির আঙ্গিনায় চাষ করা হতো। মাল্টাকে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করতে নানা উদ্যোগ নেয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এনএটিপি-২ প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরে অত্র উপজেলায় কৃষকদের মাঝে ১ হাজার ৮শ চারা বিতরণ করা হয়েছে। মাল্টা একদিকে বহু পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধি ফল, অপরদিকে এটি লবণ সহিষ্ণ এবং এর চাষ অত্যান্ত লাভ জনক হওয়ায় সাধারণ ফল চাষীরা বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষে এগিয়ে এসেছেন। মূলত এলাকায় ফল বলতে এক সময় সবাই আমকে বুঝতো। লবণ অধ্যুষিত এলাকায় আমের চেয়ে মাল্টা চাষ লাভ জনক হওয়ায় সবাই এখন মাল্টা চাষের দিকে ঝুঁকছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর ৪৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ হয়েছে।

উপজেলার মটবাটী গ্রামের শাহবুদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে জিয়াউল বিশ্বাস ৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করেছেন। অনুরূপভাবে মালথের ইসহাক আলী ২ বিঘা, হরিঢালীর আব্দুর রাজ্জাক ৩ বিঘা, মঠবাটীর শ্যামলী সরকার, লস্করের তাপস কুমার সানা, রেজাকপুরের আম্বিয়া খাতুন, রামনগরের সালাম মোড়ল, রামচন্দ্রনগরের তপতী পাল, সলুয়ার অর্চনা দাশ, রিপন মোড়ল, আগড়ঘাটার রেজাউল করিম, হরিঢালীর ইলিয়াস হোসেন, সোনাতনকাটীর কামরুল ইসলাম, ভিলেজ পাইকগাছার মুজিবর রহমান, দেবদুয়ারের গোপাল চন্দ্র দাশ, কাটিপাড়ার শফিকুল ইসলাম, সুব্রত মন্ডল, বাঁকার শহিদুল গাজী, গোলজার রহমান, ভবানীপুরের সাত্তার গাজী সহ দেলুটি ইউনিয়নের ২২ নং পোল্ডারে বিভিন্ন সিআইজি গ্রুুপ সদস্যরা বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ করেছেন। মঠবাটী গ্রামের জিয়াউল বিশ্বাস জানান, এ বছর আমি ৫ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বারি মাল্টা-১ চাষ করেছি। এ বছর কিছু কিছু গাছে ফলও ধরেছে।

আশা করছি আগামী বছর থেকে ভাল ভাবে ফল ধরা শুরু করবে। আমাকে দেখে অনেকেই মাল্টা চাষে এগিয়ে এসেছেন। গদাইপুর গ্রামের আক্তারুল ইসলাম জানান, মাল্টা চাষ অত্যান্ত লাভ জনক। উপজেলা কৃষি অফিসার এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, এক সময় এ এলাকায় সবাই আমের চাষ করতো। কিন্তু লবণাক্ততার কারণে আম চাষ করে খুব বেশি লাভ হতো না। এদিক থেকে লবণ অধ্যুষিত অত্র এলাকায় মাল্টা চাষ অত্যান্ত উপযোগী। এ বছর এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। কৃষকরা যেভাবে মাল্টা চাষে এগিয়ে আসছেন তাতে আগামীর জন্য অত্র এলাকা মাল্টা চাষের জন্য অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এলাকার পুষ্টির চাহিদা পুরণে মাল্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি। কৃষকরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার শাস্রায় হবে। মাল্টা বহুগুনাগুন সম্বলিত একটি ফল। এর উপকারিতার শেষ নেই। সুস্থ ও নিরোগ থাকার জন্য সবাইকে প্রত্যেক দিন মাল্টা খাওয়া উচিত। আর এজন্য বাণিজ্যিক চাষাবাদের পাশাপাশি সকলকে মাল্টা চাষে এগিয়ে আশা দরকার বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা মনে করেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)